ঢাকা থেকে ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা দূরের কোনও গন্তব্যে যেতে দীর্ঘ আকাশপথ পাড়ি দিতে হয়। অনেক সময় সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় মাঝপথে নামতে হয়অন্য একটি দেশের বিমানবন্দরে। পরের ফ্লাইট ধরার আগে কয়েক ঘণ্টা, কখনও এক-দুই দিনও অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়টাকেই বলা হয় ‘লে-ওভার’ বা ‘স্টপওভার’।
বিমানবন্দরে বসে সেই দীর্ঘ সময় কাটানোর বদলে যদি ট্রানজিটের শহরটিই একটু ঘুরে দেখা যায়, কেমন হয়? কিছু বিমান সংস্থা এমন যাত্রীদের জন্য বিশেষ ‘স্টপওভার’ সুবিধা দেয়। শর্ত পূরণ হলে হোটেলে থাকা, খাবার কিংবা শহর ঘোরার সুযোগও পাওয়া যেতে পারে। ফলে মূল গন্তব্যে যাওয়ার পথেই যোগ হতে পারে আরও একটি শহর বা দেশ।
বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ভ্রমণে এমন সুযোগ বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার বর্তমান নিয়ম, ভিসা ও যোগ্যতার শর্ত অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
তুরস্কে ট্রানজিট হলে
ইস্তানবুল হয়ে ইউরোপ বা অন্য কোনও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে টার্কিশ এয়ারলাইনসের স্টপওভার সুবিধা নজরে রাখতে পারেন যাত্রীরা। নির্দিষ্ট যোগ্যতার টিকিট ও রুটে দীর্ঘ লে-ওভার থাকলে হোটেলে বিনামূল্যে থাকার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
তবে কত রাত থাকা যাবে, কোন শ্রেণির টিকিটে সুবিধা মিলবে এবং কোন দেশের যাত্রীরা যোগ্য এসব বিষয়ে আলাদা শর্ত থাকতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে টিকিট কাটার সময় সুবিধাটি প্রযোজ্য কি না আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
জাপানকে বানিয়ে নিন বাড়তি গন্তব্য
জাপান এয়ারলাইনসের নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক রুটে টোকিও বা ওসাকায় লে-ওভার থাকলে শহর ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ জাপান হয়ে অন্য দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ট্রানজিটের সময়টিকে ছোট একটি জাপান ভ্রমণে পরিণত করা সম্ভব।
তবে এই সুবিধা নির্দিষ্ট রুট, টিকিট ও শর্তের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বুকিংয়ের আগে বিমান সংস্থার স্টপওভার নীতিমালা দেখে নেওয়া উচিত।
পর্তুগাল হয়ে ইউরোপ ভ্রমণ
ইউরোপের অন্য দেশে যাওয়ার পথে লিসবন বা পোর্তোতে লে-ওভার থাকলে ট্যাপ এয়ার পর্তুগালের স্টপওভার প্রোগ্রাম কাজে লাগতে পারে। যোগ্য আন্তর্জাতিক যাত্রীরা ট্রানজিটের সময় পর্তুগালের এই দুই শহরের কোনো একটি ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
ফলে ঢাকা থেকে ইউরোপের মূল গন্তব্যে যাওয়ার পথে চাইলে পর্তুগালকেও ভ্রমণতালিকায় যোগ করা যায়। তবে কতদিন থাকা যাবে এবং কী সুবিধা পাওয়া যাবে, তা টিকিট ও নির্দিষ্ট বুকিংয়ের শর্তের ওপর নির্ভর করে।
দুবাইয়ে দীর্ঘ ট্রানজিট? হোটেলও মিলতে পারে
বাংলাদেশি যাত্রীদের কাছে দুবাই অন্যতম পরিচিত ট্রানজিট গন্তব্য। এমিরেটসের ‘দুবাই কানেক্ট’ সুবিধায় নির্দিষ্ট যোগ্যতার যাত্রীদের দীর্ঘ লে-ওভারের ক্ষেত্রে হোটেলে থাকা ও খাবারের সুবিধা দেওয়া হয়।
অর্থাৎ ঢাকায় বসে ইউরোপ বা অন্য কোনও গন্তব্যের টিকিট কাটার সময় দুবাইয়ে দীর্ঘ বিরতি থাকলে, বিমানবন্দরে বসে থাকার বদলে শহরে রাত কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই সুবিধা নির্দিষ্ট টিকিট, রুট ও লে-ওভারের সময়ের ওপর নির্ভর করে।
আবুধাবিতেও মিলতে পারে বাড়তি সুবিধা
এতিহাদের মাধ্যমে আবুধাবি হয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট যোগ্যতার যাত্রীরা স্টপওভার সুবিধা পেতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত হোটেলে থাকার সুযোগ থাকে। হোটেলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও প্যাকেজের অংশ হতে পারে।
তাই বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য দূরপাল্লার গন্তব্যে যাওয়ার সময় আবুধাবি হয়ে ফ্লাইট পাওয়া গেলে স্টপওভার সুবিধাটিও বিবেচনায় রাখতে পারেন।
টিকিট কাটার আগে ৪ বিষয় দেখুন
স্টপওভার সুবিধা থাকলেই যে প্রত্যেক যাত্রী তা পাবেন, এমন নয়। একই বিমান সংস্থার ক্ষেত্রেও রুট, টিকিটের ধরন, লে-ওভারের সময় এবং যাত্রীর জাতীয়তার ভিত্তিতে নিয়ম আলাদা হতে পারে।
বিশেষ করে বাংলাদেশি যাত্রীদের ক্ষেত্রে ট্রানজিট ভিসা বা প্রবেশের অনুমতি লাগবে কি না, সেটি আগে নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি হোটেল, খাবার, শহর ভ্রমণ কিংবা স্থানীয় পরিবহনের কোন সুবিধা বিনামূল্যে এবং কোনটির জন্য আলাদা অর্থ দিতে হবে, তাও দেখে নেওয়া উচিত।
সঠিক পরিকল্পনা করতে পারলে দীর্ঘ ট্রানজিট আর শুধু অপেক্ষার সময় নয়, হয়ে উঠতে পারে একই ভ্রমণে আরও একটি শহর আবিষ্কারের সুযোগ।