বিমানে দীর্ঘ যাত্রা মানেই জানালার বাইরে মেঘের সারি, হাতে পছন্দের খাবার আর সময় কাটানোর নানা আয়োজন। বিশেষ করে দীর্ঘ ফ্লাইটে ক্ষুধা মেটাতে যাত্রীদের সামনে থাকে নানা ধরনের খাবার ও পানীয়। তবে আকাশপথের যাত্রায় সব খাবার সবার শরীরের জন্য সমান আরামদায়ক নাও হতে পারে।
বিমানের কেবিনের পরিবেশ, দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং ব্যক্তিভেদে হজমের সমস্যার কারণে কিছু খাবার অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই উড়োজাহাজে ওঠার আগে কিংবা ফ্লাইটে খাবার বেছে নেওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা ভালো।
বিমানে দীর্ঘ সময় বসে থাকার সময় পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হলে অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। যেসব খাবার খেলে আপনার সাধারণত গ্যাস বা বদহজম হয়, সেগুলো ফ্লাইটের আগে কিংবা ফ্লাইটে এড়িয়ে চলাই ভালো।
নিজের শরীরের সঙ্গে কোন খাবার মানানসই, সেটি জানা থাকলে মাঝ-আকাশে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়ানো সহজ হয়।
বিমানের কেবিন একটি সীমিত ও বদ্ধ জায়গা। তাই তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়ার সময় শুধু নিজের কথা নয়, পাশের যাত্রীদের কথাও ভাবা উচিত।
বিশেষ করে মাছ, ডিম বা অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবারের গন্ধ অনেকের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে। তাই সম্ভব হলে তুলনামূলক কম গন্ধযুক্ত খাবার বেছে নেওয়াই ভদ্রতা ও স্বস্তির জন্য ভালো।
কোনও নির্দিষ্ট খাবারে অ্যালার্জি থাকলে বিমানে খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। খাবারটি কী কী উপকরণ দিয়ে তৈরি, তা আগে জেনে নিন।
বাদাম বা বাদামজাত উপকরণ অনেকের অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে উপকরণের তালিকা দেখে নেওয়া এবং প্রয়োজনে কেবিন ক্রুকে জানানো নিরাপদ।
অনেক ফ্লাইটেই বিভিন্ন ধরনের পানীয় পরিবেশন করা হয়। তবে দীর্ঘ বিমানযাত্রায় অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা ও ক্লান্তি বাড়তে পারে। উচ্চতার কারণে কেবিনের পরিবেশও শরীরের ওপর কিছুটা ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই বিমানে অ্যালকোহল পান করলে পরিমাণের বিষয়ে সচেতন থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। দীর্ঘ ফ্লাইটে ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
দীর্ঘ সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কেবিনে থাকার কারণে অনেকের মুখ ও ত্বক শুষ্ক লাগতে পারে। এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। তৃষ্ণা মেটাতে বারবার কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি-যুক্ত পানীয় কিংবা অনেক বেশি চা-কফির ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস করুন।
বিমানের খাবার সবার পছন্দের নাও হতে পারে। তাই সহজে হজম হয় এবং আপনার শরীরের সঙ্গে মানানসই এমন কিছু খাবার সঙ্গে নেওয়া যেতে পারে। তবে খাবার নিয়ে বিমানে ওঠার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে খাবার বহনের ওপর আলাদা বিধিনিষেধ থাকতে পারে। তাই বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই নিয়মটি যাচাই করে নেওয়া ভালো।
দীর্ঘ ফ্লাইটে মূল কথা হলো ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে অতিরিক্ত খাওয়া নয়, বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত খাবার বেছে নেওয়া। পরিচিত ও সহজপাচ্য খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং নিজের শারীরিক সমস্যার প্রতি সচেতনতা এই তিনটি বিষয় মাথায় রাখলে আকাশপথের দীর্ঘ যাত্রা অনেক বেশি আরামদায়ক হতে পারে।