যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরতে গেলে এই উপকূল রাখুন তালিকায়

সমুদ্রের ঢেউ, কুয়াশায় ঢাকা বাতিঘর, ঘন সবুজ বন আর দূরে ভেসে ওঠা তিমি প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্য একসঙ্গে দেখতে চাইলে ওরেগন কোস্ট হতে পারে দারুণ স্থান। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিস্তীর্ণ উপকূল শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, টেকসই ও সবার জন্য সহজলভ্য ভ্রমণের নানা উদ্যোগের কারণেও ২০২৬ সালে পর্যটকদের নজর কাড়ছে। 

উত্তরে কলাম্বিয়া রিভার গর্জের খাড়া পাহাড় থেকে দক্ষিণের রেডউড অরণ্য পর্যন্ত প্রায় ৩৭০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত ওরেগন কোস্ট। কোথাও ঢেউ আছড়ে পড়ছে বালুময় সৈকতে, কোথাও ঘন চিরসবুজ বনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে পুরোনো বাতিঘর। আবার ছোট ছোট মৎস্যশিকারি জনপদের কাছাকাছি সমুদ্রে দেখা মিলতে পারে পরিযায়ী তিমির।

এই উপকূলের অন্যতম বিশেষত্ব হলো, ১৯৬৭ সালের একটি আইনের কারণে ওরেগনের পুরো সমুদ্রতট সবার জন্য উন্মুক্ত। ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় পর্যটকের ভিড় কিছুটা কম হওয়ায় ইউএস-১০১ মহাসড়ক ধরে উপকূল ঘুরে দেখা হতে পারে শান্ত ও মনোরম এক রোড ট্রিপ।

২০২৬ সালে ওরেগন কোস্ট ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজের গাড়ি না থাকলেও সমস্যা নেই। পোর্টল্যান্ড থেকে উপকূলের বিভিন্ন গন্তব্যে মৌসুমি শাটল পরিষেবা চালু রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে যারা সফর করতে চান, তাদের সুবিধার জন্যও বাড়ছে চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা।

সাইকেলে ঘোরার পরিকল্পনা থাকলে উপকূলের বিভিন্ন শহর থেকে সাইকেল ভাড়া নেওয়া যায়। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা চাইলে প্রায় ৩৭০ মাইল দীর্ঘ উপকূলীয় সাইক্লিং পথেও পাড়ি দিতে পারেন।

ওরেগন কোস্টে ভ্রমণের সময় স্থানীয় অর্থনীতিকে সমর্থন করার সুযোগও রয়েছে। সদ্য ধরা সামুদ্রিক খাবার স্থানীয় বাজার ও রেস্তোরাঁয় রাখার উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রনির্ভর জীবনযাপন করা উপকূলীয় সম্প্রদায়গুলো উপকৃত হচ্ছে। ফলে স্থানীয় খাবার খাওয়াও হয়ে উঠতে পারে স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি উপায়।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন পর্যটকদের জন্যও উপকূলকে আরও সহজলভ্য করে তোলা হচ্ছে। বালুর ওপর বিশেষ পথ তৈরি করতে ‘মোবি-ম্যাট’ ব্যবহারের পাশাপাশি বিনামূল্যে সৈকত ব্যবহারের উপযোগী হুইলচেয়ারের ব্যবস্থাও রয়েছে। ‘হুইল দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীবান্ধব থাকার জায়গা ও ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে।

ভ্রমণের সময় কোথায় থাকছেন, সেটিও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে। ‘এভরি স্টে গিভস ব্যাক’-এর মাধ্যমে বুক করা হোটেলে থাকার অর্থের একটি অংশ উপকূলের পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা অলাভজনক সংস্থাগুলোকে সহায়তা করে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, বন্যপ্রাণী, সমুদ্রের রোমাঞ্চ এবং পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের সুযোগ—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে ওরেগন কোস্ট হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণীয় ঠিকানা।