ধস-হড়পা বান আতঙ্ক: হিমালয় এড়িয়ে ঘুরে আসুন ভারতের ৫ পাহাড়ি শহরে

সামনে পূজার ছুটি ঘিরে অনেকেই পাহাড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বৃষ্টি, ধস ও হড়পা বানের ছবি দেখে অনেকেরই সেই পরিকল্পনায় খানিকটা সংশয় তৈরি হয়েছে। তাই বলে কী বন্ধ থাকবে পাহাড়ে ঘোরা? ঘোরা বন্ধ না রেখে বদলে ফেলতে পারেন গন্তব্য। ভারতের একাধিক প্রান্তে রয়েছে এমন কিছু পাহাড়ি শহর, যেখানে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গ না থাকলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য, মেঘ, জঙ্গল, ঝরনা আর মনোরম আবহাওয়া সবই মিলবে।

পশ্চিমঘাট থেকে পূর্বঘাট, আবার আরাবল্লি পূজার ছুটিতে ভিড় এড়িয়ে পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে এই পাঁচ জায়গা হতে পারে বিকল্প।

কুর্গ, কর্নাটক (ছবি: সংগৃহীত)

কুর্গ, কর্নাটক

কুর্গে পৌঁছালেই শহুরে ব্যস্ততা যেন অনেকটাই পেছনে পড়ে যায়। কফির সুবাস, সবুজ পাহাড় আর আঁকাবাঁকা রাস্তার কারণে কর্নাটকের এই পাহাড়ি অঞ্চলটি পশ্চিমঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশেষ জনপ্রিয়।

পাহাড়ের ঢালে কফি বাগান, ছোট ছোট ঝরনা, নদী আর সবুজে মোড়া উপত্যকা কুর্গের প্রধান আকর্ষণ। থাকার জন্য মাদিকেরীকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করলে ভাগমণ্ডল, তলাকাবেরী, দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প, নামড্রোলিং মনাস্ট্রি ও অ্যাবি জলপ্রপাত ঘুরে দেখা যায়।

পূজার সময় আবহাওয়া সাধারণত আরামদায়ক থাকে। পরিষ্কার দিনে পাহাড়ের ভিউপয়েন্ট থেকে চারপাশের সবুজ উপত্যকার দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।

যেভাবে যাবেন: মাইসোর থেকে মাদিকেরী প্রায় ১২০ কিলোমিটার। সড়কপথে যাওয়া যায়। মাঙ্গালুরু বিমানবন্দর থেকেও কুর্গ পৌঁছনো সম্ভব।

কোডাইকানাল, তামিলনাড়ু (ছবি: সংগৃহীত)

কোডাইকানাল, তামিলনাড়ু

পাহাড়, কুয়াশা আর শান্ত হ্রদের মেলবন্ধন দেখতে চাইলে দক্ষিণ ভারতের কোডাইকানাল হতে পারে দারুণ পছন্দ। পশ্চিমঘাটের কোলে প্রায় ৭ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই শহরকে বলা হয় ‘পাহাড়ের রাজকন্যা’।

শহরের কেন্দ্রের হ্রদ ঘিরে রয়েছে নানা পর্যটন আকর্ষণ। বিকালে নৌকাবিহার, পাইন বন ধরে হাঁটা কিংবা ভিউপয়েন্ট থেকে পাহাড় দেখা সবই উপভোগ করতে পারেন। ঘুরে দেখা যায় সিলভার ক্যাসকেড জলপ্রপাত, কোকার্স ওয়াক, গুনা কেভসসহ বিভিন্ন জায়গা।

যেভাবে যাবেন: মাদুরাই থেকে কোডাইকানাল প্রায় ১২০ কিলোমিটার। মাদুরাই বা কোয়েম্বাটোর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে যাওয়া যায়। নিকটতম রেলস্টেশন কোডাইকানাল রোড।

মুন্নার, কেরালা (ছবি: সংগৃহীত)

মুন্নার, কেরালা

চা-বাগানে ঢাকা পাহাড় আর মেঘে ঘেরা উপত্যকা মুন্নারের সৌন্দর্য অনেকটা ছবির মতো। কেরালার এই পাহাড়ি শহরটি গড়ে উঠেছে তিনটি পাহাড়ি নদী মুথিরাপ্পুঝা, নাল্লাথান্নি ও কুণ্ডলার মিলনস্থলের কাছে।

মুন্নারে শুধু পাহাড় দেখেই সময় কাটাতে হবে না। মাট্টুপেট্টি বাঁধ, চিন্নাকানাল, এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যানসহ বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। প্রকৃতির মাঝে কয়েক দিন নিরিবিলিতে কাটাতে চাইলে চার দিনের মতো সময় হাতে রাখা ভালো।

স্থানীয় চকলেটের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি চা-বাগানের সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারেন।

যেভাবে যাবেন: সবচেয়ে সুবিধাজনক বিমানপথে কোচি পৌঁছে সড়কপথে মুন্নার যাওয়া। কোচি থেকে দূরত্ব প্রায় ১২০-১২৫ কিলোমিটার। ট্রেনে গেলে এরনাকুলাম থেকেও গাড়িতে যাওয়া যায়।

দেওমালি, ওড়িশা (ছবি: সংগৃহীত)

দেওমালি, ওড়িশা

পাহাড়ি ছুটির জন্য উত্তর বা দক্ষিণ ভারতেই যেতে হবে এমন নয়। পূর্বঘাটের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ওড়িশার দেওমালি হতে পারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

কোরাপুট জেলার এই পাহাড়ি অঞ্চল মেঘ, কুয়াশা ও সবুজ উপত্যকার জন্য পরিচিত। পাহাড়ের সঙ্গে রয়েছে ঝরনা, জলাধার এবং স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ। দেওমালি ঘুরতে গিয়ে ডুডুমা জলপ্রপাত, মাচকুণ্ড, কোলাব বাঁধ ও শবর শ্রীক্ষেত্র দেখা যেতে পারে।

যেভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে ট্রেনে কোরাপুট পৌঁছে সড়কপথে দেওমালি যাওয়া যায়। ভুবনেশ্বর থেকেও সড়কপথে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মাউন্ট আবু, রাজস্থান (ছবি: সংগৃহীত)

মাউন্ট আবু, রাজস্থান

রাজস্থান বললেই মরুভূমির কথা মনে আসে। কিন্তু এই রাজ্যেই রয়েছে পাহাড়ি শহর মাউন্ট আবু। আরাবল্লি পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই জায়গা রাজস্থানের অন্য রূপ দেখাবে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,২২০ মিটার উচ্চতার মাউন্ট আবুতে পূজার সময় সন্ধ্যার পর হালকা ঠান্ডার আমেজ পাওয়া যেতে পারে। পাহাড়ঘেরা নাক্কি লেক, সূক্ষ্ম মার্বেল কারুকাজের দিলওয়াড়া জৈন মন্দির, অচলগড় দুর্গ ও অর্বুদা মন্দির ঘুরে দেখা যায়।

প্রকৃতির পাশাপাশি ইতিহাস ও স্থাপত্যে আগ্রহ থাকলেও এই গন্তব্য হতাশ করবে না।

যেভাবে যাবেন: আহমেদাবাদ বা উদয়পুর হয়ে মাউন্ট আবু যাওয়া সুবিধাজনক। ট্রেন ও বিমান দুই পথেই যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।

পাহাড় মানেই শুধু হিমালয় নয়

পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে যেতে চাইলে হিমালয়ই একমাত্র বিকল্প নয়। পশ্চিমঘাটের কুর্গ ও কোডাইকানাল, কেরালার মুন্নার, পূর্বঘাটের দেওমালি কিংবা আরাবল্লির মাউন্ট আবু প্রতিটি জায়গার পাহাড়ি সৌন্দর্য আলাদা।

তবে যেখানেই যাওয়ার পরিকল্পনা করুন, পূজার সময়ে আবহাওয়া ও স্থানীয় রাস্তার পরিস্থিতি আগে জেনে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি বা ভূমিধসের সম্ভাবনা থাকলে স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শ মেনে ভ্রমণ পরিকল্পনা করাই নিরাপদ।

হিমালয়ের বদলে এবার পূজায় অন্য পাহাড়ের হাতছানি হয়তো সেই অচেনা গন্তব্যই হয়ে উঠবে আপনার এবারের ছুটির সেরা স্মৃতি।