নিশিরাতে লং ড্রাইভ, ঘুম এলে কী করবেন

দূরের গন্তব্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাতের পথ বেছে নেন অনেকেই। দিনের ব্যস্ততা এড়িয়ে তুলনামূলক ফাঁকা রাস্তায় দ্রুত এগিয়ে যাওয়া কিংবা সময় বাঁচানো রাতের সফরের অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ে চালকের ক্লান্তি ও ঘুম ঘুম ভাব। আর স্টিয়ারিং হাতে তন্দ্রা মানেই বড় ঝুঁকি।

তাই রাতের রোড ট্রিপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছানো নয়, নিরাপদে পৌঁছানো। যাত্রার আগে কিছু প্রস্তুতি এবং পথে কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

রাতে দীর্ঘ পথ গাড়ি চালানোর পরিকল্পনা থাকলে আগের রাত বা দিনের বেলা পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে নেওয়া জরুরি। ক্লান্ত শরীর নিয়ে স্টিয়ারিংয়ে বসলে শুরুতেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষ করে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালাতে হলে শুধু নিজের দক্ষতার ওপর ভরসা না করে শরীরের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন।

রাতের সফরের আগে অতিরিক্ত ভারী খাবার খেলে শরীর অলস হয়ে যেতে পারে। তাই পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত খাওয়ার পরপরই দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। পানিশূন্যতা শরীরে ক্লান্তি বাড়াতে পারে।

একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। নির্দিষ্ট বিরতিতে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করুন, শরীর প্রসারিত করুন এবং কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।

তবে বিরতির সময় শুধু গাড়ি থেকে নেমে আবার স্টিয়ারিংয়ে বসাই যথেষ্ট নয়। সত্যিই যদি ঘুম পায়, তাহলে বিশ্রামের সময় বাড়াতে হবে।

চা বা কফি সাময়িকভাবে সতর্কতা বাড়াতে পারে। তবে এগুলোকে ঘুমের বিকল্প হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে চোখ ভারী হয়ে আসা, বারবার হাই তোলা, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া কিংবা গাড়ির গতি ও অবস্থান ঠিক রাখতে অসুবিধা হলে বুঝতে হবে শরীর বিশ্রাম চাইছে।

এ অবস্থায় কফি খেয়ে জোর করে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার বদলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে ঘুমানোই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

গাড়িতে একাধিক চালক থাকলে দীর্ঘ যাত্রায় পালা করে গাড়ি চালানো যেতে পারে। এতে একজন চালক ক্লান্ত হয়ে পড়লে অন্যজন দায়িত্ব নিতে পারবেন।

তবে যে-ই স্টিয়ারিংয়ে থাকুন না কেন, ঘুম বা অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হলে গাড়ি চালানো উচিত নয়।

পছন্দের গান শোনা কিংবা সহযাত্রীর সঙ্গে কথা বলা রাতের সফরকে আনন্দদায়ক করতে পারে। কিন্তু এগুলোকে ঘুম ঠেকানোর নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে ধরা ঠিক নয়।

চোখ ভারী হয়ে এলে গান জোরে চালানো বা গল্পে মনোযোগ দেওয়ার চেয়ে গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নেওয়াই নিরাপদ।

রাতের সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, ঘুম পেলে গাড়ি চালাবেন না। বারবার হাই তোলা, চোখের পাতা ভারী হয়ে আসা, গত কয়েক কিলোমিটারের কথা মনে না থাকা, রাস্তার দিকে মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা গাড়ি নিজের লেন থেকে সরে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামান।

প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য আবাসন বা নিরাপদ পার্কিং এলাকায় গাড়ি রেখে ঘুমিয়ে নিন। কয়েক ঘণ্টা দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছানো কোনোভাবেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে বড় নয়।

রাতের রোড ট্রিপের আনন্দ অনেকটাই নির্ভর করে চালকের সতর্কতার ওপর। তাই সফরের সময় কতটা পথ অতিক্রম করলেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চালক কতটা সতেজ আছেন।

মনে রাখুন, ঘুমের সঙ্গে স্টিয়ারিংয়ের কোনো আপস নেই। প্রয়োজন হলে পরিকল্পনায় বিরতি যোগ করুন, চালক বদলান কিংবা রাতের যাত্রা সাময়িকভাবে থামিয়ে দিন। নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে সফল ভ্রমণ।