অবসর মানেই ঘরে বসে থাকা নয়। বরং দীর্ঘ কর্মজীবনের পর পছন্দের জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পান অনেকেই। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা, ওষুধপত্র, খরচ এবং জরুরি পরিস্থিতির বিষয়গুলো মাথায় রেখেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা জরুরি। একটু আগেভাগে প্রস্তুতি নিলে বয়সের বাধা পেরিয়েও সফর হতে পারে স্বস্তির ও আনন্দের।
ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে নিজের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো। বিশেষ করে দূরের পথ, পাহাড়ি এলাকা বা বেশি উচ্চতার কোনও জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিয়মিত খেতে হয় এমন ওষুধ থাকলে প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা বেশি সঙ্গে রাখুন।
অবসরের পর পছন্দের জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছা থাকতেই পারে। তবে গন্তব্য বাছার সময় আবহাওয়া, উচ্চতা, যাতায়াতব্যবস্থা এবং চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ বিবেচনা করুন। অতিরিক্ত গরম, তীব্র ঠান্ডা কিংবা প্রবল বৃষ্টির সময় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা ভালো। পাহাড়ে গেলে বর্ষায় ধসের আশঙ্কার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
বয়স বাড়লে দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই সফরসূচিতে মাঝেমধ্যে বিশ্রামের সময় রাখুন। এক দিনে একাধিক জায়গা ঘোরার বদলে ধীরে-সুস্থে একটি গন্তব্য উপভোগ করাই বেশি আরামদায়ক। প্রয়োজনে মাঝপথে এক রাত থেকে পরের গন্তব্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যায়।
দেশের বাইরে গেলে ভ্রমণ বিমা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বিদেশে খরচ অনেক বেশি হতে পারে। বিমা করার আগে চিকিৎসা সংক্রান্ত কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং আগে থেকে থাকা অসুস্থতার ক্ষেত্রে কী নিয়ম রয়েছে, তা ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।
খরচ কমানোর সুযোগ কাজে লাগান
বয়স্ক নাগরিকদের জন্য কোথাও পরিবহণ, কোথাও থাকার জায়গা বা পর্যটনকেন্দ্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। টিকিট কাটার আগে প্রবীণদের জন্য কোনও ছাড় বা বিশেষ পরিষেবা রয়েছে কি না জেনে নিন। ভিড়ের মরসুম এড়িয়ে ভ্রমণ করলেও অনেক ক্ষেত্রে থাকা ও যাতায়াতের খরচ কমানো সম্ভব।
নিজের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী না হলে একা দূরে না যাওয়াই ভালো। পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা সংগঠিত পর্যটক দলের সঙ্গে গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায়। প্রবীণদের জন্য বিশেষ সফরের আয়োজন করে এমন সংস্থাও বেছে নেওয়া যেতে পারে, যেখানে যাতায়াত, খাবার, লাগেজ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা থাকে।
সঙ্গে থাকা ওষুধের নাম, চিকিৎসকের পরামর্শ, জরুরি যোগাযোগের নম্বর এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য লিখে রাখুন। পরিবারের কাউকে সফরের পুরো পরিকল্পনা জানিয়ে রাখাও ভালো। কোথায় থাকছেন, কখন কোন জায়গায় যাবেন এই তথ্য কাছের মানুষের কাছে থাকলে বিপদের সময়ে দ্রুত সাহায্য পাওয়া সহজ হয়।
সবশেষে, বয়সকে ভ্রমণের পথে বাধা না বানিয়ে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শরীর অনুমতি দিলে পাহাড়, জঙ্গল কিংবা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দের গন্তব্যে যাওয়ার আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার প্রয়োজন নেই। পরিকল্পনা হোক একটু ধীর, কিন্তু স্বপ্নের ভ্রমণ হোক নিজের পছন্দমতো।









