‘‘চলতি বছরেই চূড়ান্ত হতে পারে পর্যটন মহাপরিকল্পনা’’

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিবি কার্যালয়ে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা পর্যটকদের সর্বোত্তম সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমরা পর্যটন মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যেতে চাই। আশা করছি, এ বছরই মহাপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হবে।”

দেশের পর্যটন খাতের জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অধীনে প্রণীত একটি কৌশলগত পর্যটন মহাপরিকল্পনা ২০১৯ সালে তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের কারণে এর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। পরে পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

বর্তমানে সরকার দেশের প্রায় ১৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে। পরিকল্পনায় সুশৃঙ্খল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফারুকী বলেন, ‘‘পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা ও সেবা উন্নয়নে বিটিবি বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’

“পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা ও সেবা বাড়ানোর জন্য আমাদের কিছু প্রকল্প রয়েছে। আমরা এসব প্রকল্প খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চাই,” বলেন তিনি।

বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের বিষয়ে বিটিবি সিইও বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বোর্ড।’’

তিনি বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, দূতাবাস ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাই, যাতে তাদের দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে উৎসাহিত করা যায়।”

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সুযোগ-সুবিধা উন্নয়ন এবং পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিটিবির।

মতবিনিময় সভায় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ারসহ সংগঠনটির  সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।