মাত্র ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ১৫ দিনের সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ!

প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে সুইজারল্যান্ড যেন স্বপ্নের মতো এক জায়গা। তুষারঢাকা পাহাড়, সবুজে মোড়া প্রান্তর, স্বচ্ছ হ্রদ আর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য সহজেই পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বলিউডের অসংখ্য সিনেমায় সুইজারল্যান্ডের এসব মনোরম দৃশ্য দেখা গেছে। ফলে পর্দায় দেশটির সৌন্দর্য দেখে অনেকেরই সেখানে যাওয়ার ইচ্ছে তৈরি হয়।

তবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো বাজেট। ইউরোপের এই দেশটি সাধারণত বেশ ব্যয়বহুল ভ্রমণ স্থান হিসাবে পরিচিত। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা করলে তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘ সময় সেখানে থাকা সম্ভব এমনই একটি উদাহরণ সামনে এনেছেন পর্যটক অঙ্কিতা।

সম্প্রতি অঙ্কিতা তাঁর ১৫ দিনের সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। তুষারঢাকা পাহাড়, মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা, পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ এবং স্থানীয় খাবার সব মিলিয়ে তাঁর সফর ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়।

সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো, অঙ্কিতার দাবি অনুযায়ী, পুরো ১৫ দিনের সফরে জনপ্রতি খরচ হয়েছে ২ লাখ ভারতীয় রুপি, যা আনুমানিক ২ লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি টাকার সমান। অর্থাৎ বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্যও তাঁর ভ্রমণ বাজেট একটি ধারণা দিতে পারে যে পরিকল্পনা করে সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের খরচ কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা তাঁর একটি ভিডিওতে সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে পাহাড়ি দৃশ্য, দর্শনীয় স্থান, ট্রেনযাত্রা এবং ঘোরাঘুরির নানা ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। ভিডিওটির শুরুতেই জানানো হয়, মাত্র ২ লাখ ভারতীয় রুপি খরচে কীভাবে ১৫ দিনের সুইজারল্যান্ড সফর সম্পন্ন করেছিলেন তিনি।

অঙ্কিতা তাঁর ক্যাপশনে ভ্রমণের খরচের বিস্তারিত হিসাবও দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুম্বাই থেকে যাওয়া-আসার বিমানের টিকিটে খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার ভারতীয় রুপি, অর্থাৎ আনুমানিক ৭১ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি টাকা। সুইস ট্রাভেল পাসের পেছনে খরচ হয়েছে ১৮ হাজার রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ টাকা।

গাড়ি ভাড়ায় তাঁর খরচ হয়েছে আরও ১৮ হাজার রুপি বা প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ টাকা। ১৫ দিনের থাকার জন্য খরচ করেছেন ৭৫ হাজার রুপি, অর্থাৎ আনুমানিক ৯৭ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি টাকা।

খাবারের পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ভারতীয় রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯ হাজার ১০০ টাকা। বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রম ও কেবল কারে চড়ার জন্য খরচ করেছেন ১৫ হাজার রুপি বা প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। বাকি ১০ হাজার রুপি, অর্থাৎ প্রায় ১৩ হাজার টাকা, গেছে কেনাকাটা, জ্বালানি ও অন্যান্য খরচে।

সব মিলিয়ে অঙ্কিতার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, জনপ্রতি মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ভারতীয় রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

তবে বাংলাদেশি পর্যটকদের মনে রাখতে হবে, এই হিসাব সরাসরি বাংলাদেশ থেকে সুইজারল্যান্ড যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অঙ্কিতার যাত্রা শুরু হয়েছিল মুম্বাই থেকে। বাংলাদেশের পর্যটকদের ঢাকা থেকে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, ভিসা, ভ্রমণবীমা, মুদ্রা বিনিময়ের খরচ এবং অন্যান্য অতিরিক্ত ব্যয় আলাদাভাবে যুক্ত হবে। ফলে বাংলাদেশ থেকে একই ধরনের ১৫ দিনের সফরের প্রকৃত বাজেট আরও বেশি হতে পারে।

তারপরও অঙ্কিতার ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার সুইজারল্যান্ডে খরচ কমানোর সুযোগ রয়েছে। কোথায় বেশি খরচ করবেন এবং কোন জায়গায় সাশ্রয় করবেন, তা আগে থেকে ঠিক করে নেওয়া গেলে মোট বাজেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

অঙ্কিতাও পর্যটকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ড সত্যিই ব্যয়বহুল হতে পারে। তবে কোন খাতে খরচ করবেন এবং কোথায় সাশ্রয় করবেন, সেটি বুঝে পরিকল্পনা করাই বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

অঙ্কিতার এই ভ্রমণ ভিডিও সামাজিক মাধ্যমেও বেশ প্রশংসা পেয়েছে। অনেকেই তাঁর কম বাজেটে সুইজারল্যান্ড ঘোরার পরিকল্পনা পছন্দ করেছেন এবং মন্তব্যের ঘরে ভালোবাসার ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য তাই সুইজারল্যান্ড হয়তো একেবারে কম খরচের গন্তব্য নয়, তবে আগেভাগে বিমান, থাকার জায়গা, স্থানীয় যাতায়াত এবং দর্শনীয় স্থানগুলোর খরচ পরিকল্পনা করে নিলে স্বপ্নের এই দেশে তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত বাজেটেও ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।