মালদ্বীপের কোন দ্বীপে যাবেন? প্রথমবার ভ্রমণকারীদের জন্য সহজ গাইড

মালদ্বীপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু কোথায় থাকবেন? মালে, মাফুশি, থুলুসধু নাকি অন্য কোনও দ্বীপে তা নিয়ে দ্বিধায়? প্রথমবারের ভ্রমণকারীদের জন্য এই প্রশ্নটি খুবই স্বাভাবিক। কারণ মালদ্বীপ আসলে একটি শহর বা একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়।  শত শত দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা একটি দ্বীপরাষ্ট্র। আর প্রতিটি দ্বীপের অভিজ্ঞতাও এক রকম নয়।

কোথাও বিলাসবহুল রিসোর্ট, কোথাও স্থানীয় মানুষের জীবনযাপনের স্বাদ, কোথাও আবার সার্ফিং বা ডাইভিংয়ের সুযোগ। তাই শুধু সুন্দর ছবি দেখে দ্বীপ বেছে না নিয়ে নিজের বাজেট, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রথমবার গেলে মালে কেমন?

মালদ্বীপের রাজধানী মালে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এখানে পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ এবং দেশের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রও এটি।

যারা মালদ্বীপের স্থানীয় জীবনযাপন, বাজার, মসজিদ, খাবার ও শহুরে পরিবেশ দেখতে চান, তাদের জন্য মালে ভালো একটি শুরু হতে পারে। তবে কেউ যদি স্বপ্নের মতো নিরিবিলি সৈকত আর রিসোর্টের অভিজ্ঞতা চান, তাহলে শুধু মালে শহরে থাকা হয়তো প্রত্যাশা পূরণ নাও করতে পারে।

অনেক পর্যটক বিমানবন্দরে পৌঁছে মালে শহরে অল্প সময় কাটিয়ে পরে অন্য কোনও দ্বীপে চলে যান।

কম বাজেটে মাফুশি

বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে বাজেট ভ্রমণের জন্য স্থানীয় দ্বীপগুলোর জনপ্রিয়তা বেশ বেশি। এর মধ্যে মাফুশি অন্যতম পরিচিত নাম।

মাফুশিতে বিলাসবহুল রিসোর্টের পরিবর্তে তুলনামূলক সাশ্রয়ী গেস্টহাউস ও হোটেল পাওয়া যায়। স্থানীয় রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং বিভিন্ন দ্বীপভ্রমণ বা জলক্রীড়ার আয়োজনেও অংশ নেওয়া যায়।

যারা প্রথমবার মালদ্বীপে যাচ্ছেন এবং খুব বেশি খরচ করতে চান না, তাদের জন্য মাফুশি ভালো একটি বিকল্প হতে পারে। তবে এটি নিরিবিলি ব্যক্তিগত দ্বীপের মতো নয়; পর্যটকের আনাগোনাও তুলনামূলক বেশি।

সার্ফিংয়ের জন্য থুলুসধু

যারা সমুদ্রের পাশে বসে থাকা নয়, বরং ঢেউয়ের সঙ্গে কিছুটা অ্যাডভেঞ্চার চান, তাদের জন্য থুলুসধু আকর্ষণীয় হতে পারে।

এই দ্বীপটি সার্ফিংয়ের জন্য পরিচিত। একই সঙ্গে স্থানীয় জীবনযাপন দেখার সুযোগও রয়েছে। ফলে সমুদ্র, অ্যাডভেঞ্চার ও স্থানীয় সংস্কৃতির মিশ্র অভিজ্ঞতা চাইলে থুলুসধু বিবেচনা করা যায়।

তবে সার্ফিংয়ের মৌসুম ও সমুদ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো।

বিলাসী অভিজ্ঞতার জন্য রিসোর্ট দ্বীপ

যাদের বাজেট নিয়ে সমস্যা নেই এবং মালদ্বীপের সেই পরিচিত ‘পানির ওপর ভিলা, নীল সমুদ্র আর নিরিবিলি সৈকত’-এর অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের জন্য ব্যক্তিগত রিসোর্ট দ্বীপই বেশি উপযোগী।

এ ধরনের রিসোর্টে থাকার সঙ্গে সাধারণত নিজস্ব সৈকত, বিভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা, স্পা, স্নরকেলিং, ডাইভিং ও নানা জলভিত্তিক কার্যক্রমের সুযোগ থাকে।

তবে এই সুবিধার সঙ্গে খরচও বাড়ে। শুধু কক্ষের দাম নয়, বিমানবন্দর থেকে রিসোর্টে যাওয়ার স্পিডবোট বা সি-প্লেনের খরচও মোট বাজেটে যোগ হতে পারে।

ডাইভিং সামুদ্রিক জীবনের জন্য

মালদ্বীপ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ডাইভিং গন্তব্য। সমুদ্রের নিচে প্রবাল, নানা প্রজাতির মাছ এবং সামুদ্রিক প্রাণী দেখার সুযোগের জন্য অনেক পর্যটক নির্দিষ্ট ডাইভিং স্পটের কাছাকাছি দ্বীপ বেছে নেন।

আপনার ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য যদি ডাইভিং বা স্নরকেলিং হয়, তাহলে শুধু হোটেলের দাম দেখে দ্বীপ নির্বাচন না করে সেখানে কী ধরনের সামুদ্রিক কার্যক্রমের সুযোগ রয়েছে, সেটিও আগে দেখে নিন।

পরিবার নিয়ে গেলে কী দেখবেন?

পরিবার নিয়ে মালদ্বীপ গেলে খুব দূরের বা অতিরিক্ত নিরিবিলি দ্বীপ বেছে নেওয়ার আগে যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। বিমানবন্দর থেকে দ্বীপে পৌঁছাতে কত সময় লাগে, নৌযান কত ঘন ঘন চলে এবং শিশু বা বয়স্ক সদস্যদের জন্য কী ধরনের সুবিধা রয়েছে এসব তথ্য আগে জানা ভালো।