উত্তরাঞ্চলের ব্যস্ত শহর সৈয়দপুর শুধু রেলওয়ে কারখানা কিংবা শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত নয়। শহরটির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে ব্রিটিশ আমলের নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন। এর মধ্যে অন্যতম প্রাচীন ক্যাথলিক গির্জা, যা আজও বহন করে চলেছে সৈয়দপুরের ঔপনিবেশিক ইতিহাস ও বহুধর্মীয় সংস্কৃতির স্মৃতি।
সৈয়দপুর শহরের রেলওয়ে কারখানা এলাকার কাছে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক গির্জাটি ১৮৮৬ সালে নির্মিত হয়। আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের প্রসারের সময় সৈয়দপুরে ব্রিটিশ ও অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান কর্মীদের বসতি গড়ে ওঠে। তাদের ধর্মীয় উপাসনার সুবিধার জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার এলাকায় দুটি গির্জা নির্মাণ করে। একটি ক্যাথলিক এবং অন্যটি প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের জন্য।
ইউরোপীয় স্থাপত্যের ছোঁয়া
প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকা গির্জাটির স্থাপত্যে রোমান ও ইউরোপীয় নির্মাণশৈলীর প্রভাব দেখা যায়। পুরোনো স্থাপত্য, উঁচু কাঠামো ও শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের সহজেই আকৃষ্ট করে। ইতিহাস ও স্থাপত্যে আগ্রহীদের কাছে তাই জায়গাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
গির্জাটি কুমারী মেরির নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। ১৮৯২ সালে গির্জার পাশে পুরোহিতের বাসভবন নির্মাণের জন্য রেলওয়ের জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলেও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
রেলশহরের ইতিহাসের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক
সৈয়দপুরের রেলওয়ে কারখানাকে ঘিরেই একসময় গড়ে উঠেছিল ব্রিটিশ ও অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের আবাসিক এলাকা। সাহেবপাড়া, রেলওয়ে কারখানা ও আশপাশের স্থাপনাগুলো সেই সময়ের স্মৃতি বহন করে চলেছে। ফলে প্রাচীন গির্জাটি দেখতে গেলে শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, সৈয়দপুরের পুরোনো রেলনগরীর ইতিহাসের সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
বর্তমানে ক্যাথলিক গির্জাটি সৈয়দপুরের পরিচিত ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর একটি। এর পাশাপাশি শহরে আরও একটি ঐতিহাসিক প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা রয়েছে, যা সৈয়দপুরের বহুধর্মীয় ঐতিহ্যের আরেকটি নিদর্শন।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে সড়ক, রেল ও আকাশপথে যাওয়া যায়। সৈয়দপুর বিমানবন্দরেও সরাসরি উড়োজাহাজে পৌঁছানো সম্ভব। শহরে পৌঁছে স্থানীয় যানবাহনে গির্জা এলাকায় যাওয়া যাবে। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারী ও সৈয়দপুরে যাওয়ার জন্য বাস ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে।
ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য ভিন্ন এক গন্তব্য
সৈয়দপুরের এই প্রাচীন গির্জাটি উত্তরাঞ্চলের রেলশহর গড়ে ওঠার ইতিহাস, ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য এবং এখানকার বহুসাংস্কৃতিক সমাজের নীরব সাক্ষী। পুরোনো স্থাপত্য ও ইতিহাসের সন্ধানে যারা প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে যেতে চান, তাদের ভ্রমণ তালিকায় সৈয়দপুরের এই ঐতিহাসিক গির্জা রাখতে পারেন।









