বিমানে হাঁপানির সমস্যা বাড়লে কী করবেন?

বিমানযাত্রার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হাঁপানি বা অ্যাজমার মতো শ্বাসজনিত সমস্যা থাকলে দীর্ঘ সময় বিমানে থাকার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। কারণ মাঝ-আকাশে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে বিমানের কেবিন ক্রু সাধারণত জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা করতে পারেন।

সম্প্রতি কুয়ালালামপুর থেকে সিডনিগামী একটি ফ্লাইটে ৫৮ বছর বয়সি এক ভারতীয় যাত্রীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঝ-আকাশে তার হাঁপানির সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বিমানকর্মীরা তাকে সহায়তা করার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেন। এ ঘটনা বিমানযাত্রার আগে শ্বাসকষ্টের রোগীদের প্রস্তুতির গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।

হাঁপানি হলে শ্বাসনালিতে প্রদাহ ও সংকোচন তৈরি হতে পারে। ফলে দেখা দিতে পারে বুক ভার লাগা, কাশি, শ্বাস নিতে কষ্ট কিংবা শোঁ শোঁ শব্দের মতো উপসর্গ। বিমানে এমন সমস্যা শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা দরকার।

প্রথমেই কেবিন ক্রুকে বিষয়টি জানাতে হবে। শ্বাসকষ্ট শুরু হলে অপেক্ষা না করে আসনের কল বাটন ব্যবহার করে বিমানকর্মীদের ডাকুন। নিজের হাঁপানির ইতিহাস এবং সঙ্গে থাকা ওষুধ বা ইনহেলার সম্পর্কে তাদের জানান। পরিস্থিতি গুরুতর হলে তারা প্রয়োজনীয় জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করতে পারেন।

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে আতঙ্কিত হয়ে পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত উদ্বেগে শ্বাস নেওয়ার সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই যতটা সম্ভব শান্ত থাকার চেষ্টা করুন এবং সোজা হয়ে বসুন। নিজের চিকিৎসকের কাছ থেকে শেখা শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল থাকলে সেটি অনুসরণ করতে পারেন।

বিমানযাত্রার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ইনহেলার ও ওষুধ হাতব্যাগে রাখুন। সেগুলো লাগেজে দিয়ে বিমানের কার্গো অংশে পাঠানো ঠিক নয়। জরুরি সময়ে যেন সহজেই বের করে ব্যবহার করা যায়, সেভাবেই সঙ্গে রাখুন।

নিয়মিত হাঁপানির ওষুধ ব্যবহার করলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী তা চালিয়ে যেতে হবে। বিমানযাত্রার কারণে নিজের ইচ্ছায় ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন বা বন্ধ করা উচিত নয়।

ভ্রমণের আগে ইনহেলার কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেটিও নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে দীর্ঘ যাত্রা হলে প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ থাকলে প্রেসক্রিপশন বা রোগসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যও সঙ্গে রাখা যেতে পারে।

ইনহেলার ব্যবহারের পরও যদি শ্বাসকষ্ট না কমে, কথা বলতে বা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে আসে কিংবা দ্রুত অবস্থা খারাপ হতে থাকে, তাহলে বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে কেবিন ক্রুকে জানাতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।

হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিমানযাত্রার আগে নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে হাঁপানির সমস্যা বেড়ে গেলে বা ঘন ঘন অ্যাটাক হলে ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

গুরুত্বপূর্ণ: বিমানে হাঁপানির জরুরি পরিস্থিতিতে ঘরোয়া কোনও উপায় বা অন্যের ওষুধের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের আগে থেকে দেওয়া জরুরি পরিকল্পনা অনুসরণ করুন। শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে দ্রুত কেবিন ক্রুর সহায়তা নিন।