কম খরচে ঘুরে আসুন ভৈরব নদের তীরের ১১ শিব মন্দির

বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা, যেগুলোর অনেকগুলোই এখনও পর্যটকদের কাছে খুব বেশি পরিচিত নয়। যশোরের অভয়নগরের ১১ শিব মন্দির তেমনই একটি স্থাপনা। ভৈরব নদের তীরে নিরিবিলি পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী সহজেই ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়তে পারে।

মন্দিরটির স্থাপত্যে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মন্দির স্থাপত্যের ছাপ দেখা যায়। পুঠিয়ার মন্দির কিংবা দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির ঘুরে দেখা থাকলে এর স্থাপত্যশৈলীতে কিছুটা মিল খুঁজে পেতে পারেন। ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশাপাশি নদীর পাড়ের পরিবেশও এই জায়গাটির ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আলাদা করে তোলে।

ঢাকা থেকে ১১ শিব মন্দির দেখতে চাইলে সড়কপথে খুলনাগামী বাসে উঠে ফুলতলা নামতে পারেন। এরপর স্থানীয় যানবাহনে নদীর পাড়ের দিকে যেতে হবে। আর ট্রেনে গেলে নওয়াপাড়া রেলস্টেশনে নেমে স্থানীয় যানবাহনের মাধ্যমে গন্তব্যের দিকে যাওয়া যায়।

ভৈরব নদ পার হওয়ার জন্য স্থানীয় ফেরি বা নৌযান ব্যবহার করতে হবে। নদী পার হয়ে ভ্যান, অটোরিকশা কিংবা স্থানীয় অন্য কোনও যানবাহনে করে ১১ শিব মন্দিরে পৌঁছানো যায়। তবে নদী পারাপারের সময় ও স্থানীয় যানবাহনের ভাড়া সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

ঢাকা থেকে কত খরচ হতে পারে

ঢাকা থেকে খুলনা বা ফুলতলা পর্যন্ত বাসভাড়া পরিবহন ও বাসের ধরন অনুযায়ী আনুমানিক ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা হতে পারে। ট্রেনে নওয়াপাড়া গেলে শ্রেণিভেদে ভাড়া সাধারণত বাসের তুলনায় কম-বেশি হতে পারে। নওয়াপাড়া বা ফুলতলা থেকে স্থানীয় যানবাহন, নদী পারাপার এবং মন্দির পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য আরও আনুমানিক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা রাখতে পারেন।

সব মিলিয়ে ঢাকা থেকে যাওয়া-আসা, স্থানীয় যাতায়াত ও নদী পারাপার ধরে একদিনের ভ্রমণে জনপ্রতি আনুমানিক ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকা বাজেট রাখতে পারেন। দলবদ্ধভাবে গেলে স্থানীয় যানবাহন ভাগ করে নেওয়ার কারণে খরচ আরও কমতে পারে। খাবার ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ এই হিসাবের বাইরে।

ভ্রমণের আগে বাস বা ট্রেনের বর্তমান ভাড়া এবং স্থানীয় নৌযান ও যানবাহনের ভাড়া জেনে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদীর পানি ও নৌযান চলাচলের পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে ইতিহাস, স্থাপত্য আর নদীর সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে যশোরের অভয়নগরের ১১ শিব মন্দির হতে পারে একদিনের ভ্রমণের জন্য একটি আকর্ষণীয় জায়গা। খুব বেশি পরিচিত না হওয়ায় নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগও মিলতে পারে।