ভ্রমণের প্রস্তুতিতে পোশাক, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী গুছিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সঠিক ব্যাগ নির্বাচনও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সফরের সময়কাল, যাতায়াতের মাধ্যম এবং সঙ্গে থাকা জিনিসপত্রের ধরন অনুযায়ী ব্যাগ বেছে নিলে ভ্রমণ অনেকটাই স্বাচ্ছন্দ্যের হয়।
এক দিনের ছোট্ট ঘোরাঘুরি আর এক সপ্তাহের সফরের জন্য একই ধরনের ব্যাগ ব্যবহার করা সবসময় সুবিধাজনক নয়। তাই কোথায় যাচ্ছেন এবং কত দিনের জন্য যাচ্ছেন এই দুই বিষয় বিবেচনায় রেখেই লাগেজ নির্বাচন করা ভালো।
অল্প সময়ের সফরে ছোট ব্যাগ
দুই-তিন দিনের ভ্রমণে বিশাল স্যুটকেস বহনের প্রয়োজন নেই। এ ধরনের সফরের জন্য ছোট ট্রলি, কেবিন ব্যাগ কিংবা কমপ্যাক্ট ব্যাকপ্যাক বেশ কার্যকর। প্রয়োজনীয় কয়েক সেট পোশাক, প্রসাধনী, চার্জার ও অন্যান্য ছোটখাটো সামগ্রী সহজেই এতে রাখা যায়।
বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে কেবিন ব্যাগ বেছে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের ব্যাগের মাপ ও ওজনের নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।
অফিস বা কাজের সফরে
কাজের প্রয়োজনে ভ্রমণ করলে ব্যাগে পোশাকের পাশাপাশি ল্যাপটপ, নথিপত্র ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস রাখতে হতে পারে। তাই এমন ব্যাগ বেছে নেওয়া ভালো, যাতে ল্যাপটপের জন্য আলাদা সুরক্ষিত কম্পার্টমেন্ট থাকে।
সামনের দিকে ছোট পকেট থাকলে পাসপোর্ট, চার্জার, কলম বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত বের করাও সহজ হয়।
কয়েক দিনের ছুটিতে ট্রলি নাকি ব্যাকপ্যাক?
চার-পাঁচ দিনের অবকাশযাপনে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ট্রলি বা ব্যাকপ্যাক নেওয়া যায়। তবে যাঁদের একাধিক জায়গায় যাতায়াত করতে হবে, তাঁদের জন্য তুলনামূলক হালকা ব্যাগ সুবিধাজনক হতে পারে।
ব্যাকপ্যাক বেছে নিলে কাঁধের স্ট্র্যাপ চওড়া ও আরামদায়ক কি না দেখে নেওয়া দরকার। আর ট্রলি হলে চাকার চলাচল মসৃণ কি না এবং হাতল শক্তপোক্ত কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
সপ্তাহান্তের ভ্রমণে ডাফল ব্যাগ
এক রাত বা সপ্তাহান্তের ছোট সফরের জন্য ডাফল ব্যাগ বেশ কাজে আসতে পারে। এগুলোর ভেতরে জায়গা তুলনামূলক বেশি থাকে এবং ব্যবহারও সহজ। পোশাক, জুতা, ব্যক্তিগত সামগ্রী ও ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিস আলাদা করে গুছিয়ে রাখা যায়।
কিছু ডাফল ব্যাগে জুতার জন্য পৃথক অংশ কিংবা ছোট জিনিস রাখার পকেট থাকে। এমন নকশার ব্যাগ ভ্রমণের সময় জিনিসপত্র গোছানো রাখতে সাহায্য করে।
ব্যাগ কেনার সময় যেসব বিষয় দেখবেন
শুধু দেখতে আকর্ষণীয় হলেই ব্যাগ কেনা উচিত নয়। কেনার আগে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। যেমন- ব্যাগটি খালি অবস্থায় কতটা ভারী, চাকার গতি ও স্থায়িত্ব, হাতলের গঠন ও ব্যবহার, জিপার সহজে চলছে কি না, ভেতরে পর্যাপ্ত কম্পার্টমেন্ট আছে কি না, ল্যাপটপ বা ইলেকট্রনিকস রাখার আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে কি না, ব্যাগের কাপড় বা বাইরের আবরণ কতটা মজবুত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাগের আকার যথেষ্ট কি না।
অতিরিক্ত বড় ব্যাগ সবসময় সুবিধার নয়
অনেকেই বেশি জিনিস নেওয়ার আশঙ্কায় প্রয়োজনের তুলনায় বড় লাগেজ বেছে নেন। এতে একদিকে ব্যাগের ওজন বেড়ে যায়, অন্যদিকে বিমান, বাস বা ট্রেনে বহন করাও ঝামেলার হতে পারে। তাই যতটা প্রয়োজন, ততটাই জায়গা রয়েছে এমন ব্যাগ বেছে নেওয়া বেশি বাস্তবসম্মত।
শেষ মুহূর্তে নয়, আগে থেকেই গুছিয়ে নিন
ভ্রমণের আগের রাতে তাড়াহুড়ো করে ব্যাগ গোছালে অপ্রয়োজনীয় জিনিস ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সফরের ধরন অনুযায়ী আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা তৈরি করে নিলে ব্যাগ হালকা রাখা সহজ হয়।
সবশেষে মনে রাখা ভালো, ভালো ভ্রমণসঙ্গী মানেই সবচেয়ে বড় ব্যাগ নয়। বরং সফরের প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই ব্যাগই হতে পারে সবচেয়ে সুবিধাজনক।