শহরের ব্যস্ততা থেকে কয়েক দিনের জন্য দূরে যেতে চাইলে নদীঘেরা পাহাড়ি গ্রাম হতে পারে দারুণ পছন্দ। বিশেষ করে যারা ভিড়ের পর্যটনকেন্দ্রের বদলে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান, তাদের জন্য নদীঘেরা ছোট ছোট পাহাড়ি জনপদ বেশ আকর্ষণীয়। নদীর পাড়ে বসে সময় কাটানো, পাহাড়ি পথে হাঁটা কিংবা ভোরের কুয়াশায় প্রকৃতির রূপ দেখার অভিজ্ঞতায় তৈরি হতে পারে অন্য রকম অবকাশযাপন।
ভারতের উত্তরবঙ্গে এমন বেশ কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে থাকার জায়গা থেকেই নদীর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ভ্রমণপিপাসুদের তালিকায় রাখতে পারেন এই তিন স্থান।
ঋষিখোলা: নদী আর পাহাড়ের মাঝখানে নিরিবিলি সময়
পাহাড়ি পরিবেশে একান্তে কয়েকটি দিন কাটাতে চাইলে ভারতের ঋষিখোলা বেছে নিতে পারেন। ঋষি নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই ছোট্ট জনপদে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। নদীর স্বচ্ছ জল, পাথুরে তীর এবং চারপাশের সবুজ মিলে জায়গাটির পরিবেশ বেশ শান্ত।
এখানকার অন্যতম আকর্ষণ হলো নদীর কাছাকাছি থাকা। বিভিন্ন হোমস্টে বা কটেজে বসে নদীর দৃশ্য দেখা যায়। দিনের ব্যস্ততা ভুলে বিকেলটা নদীর ধারে কাটানো কিংবা রাতের নির্জনতায় পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করা যেতে পারে।
তবে ঋষিখোলায় যাওয়ার পথে হাঁটাচলার প্রয়োজন হতে পারে। তাই বয়স্ক ব্যক্তি বা ছোট শিশু সঙ্গে থাকলে আগে থেকে যাতায়াতের বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নেওয়া দরকার।
থাকার পরামর্শ: নদীর আশপাশে থাকা হোমস্টেগুলিতে আগে থেকে যোগাযোগ করে বুকিং করা ভালো।
যাতায়াত: নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গাড়িতে ঋষিখোলা যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। পাহাড়ি রাস্তার পরিস্থিতি ও আবহাওয়া অনুযায়ী সময় কমবেশি হতে পারে।
বিজনবাড়ি: নদীর পাশে ধীর গতির ছুটি
দার্জিলিংয়ের চেনা পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে একটু শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে বিজনবাড়ি বিবেচনা করা যেতে পারে। ছোট রঙ্গিত নদীকে ঘিরে এই পাহাড়ি এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় বেশ আরাম করে।
নদীর ধারে থাকা হোমস্টেতে কয়েক রাত কাটিয়ে আশপাশের পাহাড়ি পরিবেশ ঘুরে দেখা যেতে পারে। সকালে বা বিকেলে নদীর কাছে হাঁটতে বের হওয়া, স্থানীয় খাবার চেখে দেখা কিংবা নিরিবিলি পরিবেশে বসে থাকা ছুটির দিনগুলো কাটানোর জন্য যথেষ্ট।
বিজনবাড়ির আশপাশে জামুনি ও মেগিটার মতো জায়গাতেও ঘুরে আসা যায়। ফলে শুধু থাকার জায়গা হিসেবে নয়, ছোটখাটো ঘোরাঘুরির পরিকল্পনাতেও এটি রাখা যায়।
থাকার পরামর্শ: নদীর কাছাকাছি হোমস্টে বেছে নিলে প্রকৃতির দৃশ্য উপভোগের সুযোগ বেশি থাকবে।
যাতায়াত: দার্জিলিং থেকে সড়কপথে বিজনবাড়ি পৌঁছানো যায়। নিউ জলপাইগুড়ি থেকেও গাড়ি নিয়ে সরাসরি যাওয়ার পরিকল্পনা করা সম্ভব।
ঝালং: নদী, জঙ্গল ও পাহাড় একসঙ্গে
প্রকৃতির তিন রূপ নদী, পাহাড় ও অরণ্য এক সফরে দেখতে চাইলে ঝালং হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। কালিম্পং জেলার এই এলাকাটি ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি। জলঢাকা নদীকে কেন্দ্র করে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে উঠেছে।
নদীর ধারে থাকার পাশাপাশি আশপাশের জঙ্গল ও পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পাখি দেখতে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের কাছেও জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। সময় হাতে থাকলে ঝালং থেকে বিন্দুও ঘুরে আসা যায়।
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সড়কপথে ঝালং যাওয়ার সময় পাহাড় ও অরণ্যের নানা দৃশ্য চোখে পড়বে। কাছাকাছি চাপড়ামারি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশও যাত্রাপথকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে পারে।
থাকার পরামর্শ: নদীর কাছাকাছি সরকারি পর্যটন আবাসন ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি হোমস্টে পাওয়া যায়। ছুটির মরসুমে আগে থেকে থাকার ব্যবস্থা করে যাওয়া ভালো।
যাতায়াত: নিউ মাল জংশন থেকে ঝালং যাওয়ার পথ তুলনামূলক সুবিধাজনক। নিউ জলপাইগুড়ি থেকেও গাড়িতে যাওয়া যায়।
যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন
পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই যাত্রার আগে রাস্তার পরিস্থিতি ও থাকার জায়গার ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি। বর্ষাকালে পাহাড়ি পথে ভূমিধস বা রাস্তার সমস্যা হতে পারে। নদীর কাছে গেলে স্রোত ও পাথুরে তীরের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।