মিশর ভ্রমণের পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য বাড়তে পারে খরচ। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশটির একবার প্রবেশের ভিসার মূল ফি ৩০ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ৩৩ মার্কিন ডলার হবে। বর্তমান বিনিময় হার ধরে ৩৩ মার্কিন ডলার প্রায় ৪ হাজার ৫০ টাকা। অর্থাৎ ভিসার মূল ফি প্রায় ৩৬৮ টাকা বাড়বে।
মিশর বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রাচীন পিরামিড, ঐতিহাসিক নিদর্শন, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, বৈচিত্র্যময় খাবার ও মনোরম সমুদ্রসৈকতের কারণে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক দেশটিতে ভ্রমণ করেন।
পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রচারিত ১৭৩/২০২৬ নম্বর পরিপত্র অনুযায়ী, মিশরের একবার প্রবেশের ভিসার ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট মিশরের মন্ত্রিসভার নেওয়া সিদ্ধান্তে দেশটিতে প্রবেশ ও যাত্রাবিরতির ভিসা ফি ৩ মার্কিন ডলার বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
বর্তমানে একবার প্রবেশের ভিসার মূল ফি ৩০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৬৮০ টাকা। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই ফি দাঁড়াবে ৩৩ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪ হাজার ৫০ টাকা।
এর সঙ্গে সেবা, ভিসা প্রদান, ব্যাংকিং খরচ ও কর বাবদ অতিরিক্ত ৬ মার্কিন ডলার নেওয়া হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অতিরিক্ত অর্থ প্রায় ৭৪০ টাকা। ফলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত খরচ প্রযোজ্য হলে মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
কায়রো বিমানবন্দরে নতুন ভিসা ব্যবস্থা
মিশরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এই ব্যবস্থায় প্রচলিত ভিসা স্টিকারের পরিবর্তে কিউআর সংকেত ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভ্রমণকারীরা মিশরে যাওয়ার আগে নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবার কায়রো বিমানবন্দরের আগমন টার্মিনালে থাকা স্বয়ংক্রিয় সেবাকেন্দ্র ব্যবহার করেও ভিসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে এই ব্যবস্থাটি কায়রো বিমানবন্দরেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু আছে। পর্যায়ক্রমে মিশরের অন্যান্য বিমানবন্দর ও প্রবেশপথেও এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থায় বর্তমানে মোট খরচ ৩৬ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৩০ মার্কিন ডলার ভিসা ফি এবং ৬ মার্কিন ডলার ডিজিটাল সেবা বাবদ নেওয়া হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট খরচ প্রায় ৪ হাজার ৪২০ টাকা।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভিসার মূল ফি ৩৩ মার্কিন ডলার হলে এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় মোট খরচ দাঁড়াতে পারে ৩৯ মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার ধরে প্রায় ৪ হাজার ৭৯০ টাকা। অর্থাৎ কায়রো বিমানবন্দরে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করলে ভিসা ও সেবা বাবদ মোট খরচ প্রায় ৩৭০ টাকা বাড়তে পারে।
নিয়মিত ই-ভিসার ফি এখনো অপরিবর্তিত
তবে কায়রো বিমানবন্দরের ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থাকে মিশরের নিয়মিত ই-ভিসার সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। নিয়মিত ই-ভিসার জন্য ভ্রমণের আগেই মিশরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।
বর্তমানে একবার প্রবেশের পর্যটন ই-ভিসার ফি ৩০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৬৮০ টাকা। একাধিকবার প্রবেশের পর্যটন ই-ভিসার ফি ৬৫ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৭ হাজার ৯৯০ টাকা।
তবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত ই-ভিসার ফি কত হবে, সে বিষয়ে এখনো সরকারি অনলাইন ব্যবস্থায় নতুন কোনও ফি তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ৩৯ মার্কিন ডলারের নতুন মোট খরচটি শুধু কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু থাকা ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশিদের জন্য যা জানা জরুরি
মিশর ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসার ধরনটি আগে নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ই-ভিসা এবং কায়রো বিমানবন্দরের ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থার নিয়ম ও খরচ এক নয়। তাই টিকিট কাটার আগে কোন ব্যবস্থায় আবেদন করা যাবে, অতিরিক্ত সেবা ও ব্যাংকিং খরচ কত এবং প্রবেশের শর্ত কী- এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
ভিসা ফি বাড়লেও মিশরের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও পর্যটন আকর্ষণের কারণে দেশটি বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য আগ্রহের স্থান হিসাবে থাকছে। তবে ২০২৭ সাল থেকে ভিসার বাড়তি খরচের পাশাপাশি উড়োজাহাজের ভাড়া, থাকা-খাওয়া ও স্থানীয় যাতায়াতের ব্যয়ও হিসাব করে ভ্রমণ বাজেট ঠিক করা প্রয়োজন।