জাপানে স্থায়ী বসবাসের আবেদন, অক্টোবর থেকে বাড়ছে খরচ

জাপানে কাজ, পড়াশোনা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনা করছেন? সে ক্ষেত্রে দেশটির নতুন অভিবাসন ফি সম্পর্কে আগে থেকেই জানা জরুরি। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে জাপানে বসবাসের অনুমতি পরিবর্তন, থাকার মেয়াদ বাড়ানো এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদনে বড় ধরনের ফি পরিবর্তন আসছে। ফলে জাপানে থাকা বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের অতিরিক্ত খরচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

বর্তমানে বসবাসের অনুমতি পরিবর্তন বা থাকার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে সরাসরি দফতরে আবেদন করলে ৬ হাজার ইয়েন (প্রায় ৪ হাজার ৭১০ টাকা) এবং অনলাইনে আবেদন করলে ৫ হাজার ৫০০ ইয়েন (প্রায় ৪ হাজার ৩২০ টাকা) দিতে হয়। নতুন নিয়মে এই নির্দিষ্ট ফি আর থাকছে না। আবেদনকারীকে কত দিনের জন্য থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে নতুন ফি।

তিন মাসের বেশি কিন্তু ছয় মাসের মধ্যে থাকার অনুমতি পেলে সরাসরি দফতরে আবেদন করতে ১৮ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৪ হাজার ১৩০ টাকা) এবং অনলাইনে আবেদন করতে ১৫ হাজার ইয়েন (প্রায় ১১ হাজার ৭৭৫ টাকা) লাগবে। ছয় মাসের বেশি কিন্তু এক বছরের কম মেয়াদের জন্য এই খরচ হবে যথাক্রমে ২৫ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৯ হাজার ৬২৫ টাকা) এবং ২১ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৬ হাজার ৪৮৫ টাকা)।

এক বছরের মেয়াদের অনুমতি পেলে সরাসরি আবেদনে ৩৩ হাজার ইয়েন (প্রায় ২৫ হাজার ৯০৫ টাকা) এবং অনলাইনে ২৭ হাজার ইয়েন (প্রায় ২১ হাজার ১৯৫ টাকা) দিতে হবে। এক বছরের বেশি কিন্তু তিন বছরের কম মেয়াদের ক্ষেত্রে খরচ হবে যথাক্রমে ৪৮ হাজার ইয়েন (প্রায় ৩৭ হাজার ৬৮০ টাকা) এবং ৪২ হাজার ইয়েন (প্রায় ৩২ হাজার ৯৭০ টাকা)।

তিন বছর বা তার বেশি কিন্তু পাঁচ বছরের কম মেয়াদের জন্য সরাসরি আবেদনে ৬৪ হাজার ইয়েন (প্রায় ৫০ হাজার ২৪০ টাকা) এবং অনলাইনে ৫৬ হাজার ইয়েন (প্রায় ৪৩ হাজার ৯৬০ টাকা) লাগবে।

সবচেয়ে বেশি ফি দিতে হবে পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের অনুমতি পেলে। সে ক্ষেত্রে সরাসরি আবেদনের জন্য ৭৫ হাজার ইয়েন (প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭৫ টাকা) এবং অনলাইনে ৬৫ হাজার ইয়েন (প্রায় ৫১ হাজার ২৫ টাকা) দিতে হবে। অর্থাৎ বর্তমানে যে আবেদনে ৬ হাজার ইয়েন বা প্রায় ৪ হাজার ৭১০ টাকা লাগে, নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেই খরচ ৭৫ হাজার ইয়েন বা প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

স্থায়ী বসবাসের আবেদনে বড় পরিবর্তন

জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির আবেদনকারীদের জন্য খরচ বাড়ছে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে এই আবেদনের ফি ১০ হাজার ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ৭ হাজার ৮৫০ টাকা। তবে ১ অক্টোবর থেকে তা বেড়ে হবে ২ লাখ ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

অর্থাৎ আগের তুলনায় আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়েন, বা প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৫০ টাকা বেশি দিতে হবে। স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে থাকার মেয়াদ অনুযায়ী আলাদা ফি নির্ধারণ করা হয়নি।

তবে নতুন ফি সবার জন্য একই সময়ে কার্যকর হবে না। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জমা দেওয়া আবেদন পুরোনো ফি অনুযায়ী বিবেচিত হবে। এমনকি সেই আবেদনের অনুমোদন ১ অক্টোবর বা তার পরেও দেওয়া হলেও নতুন ফি দিতে হবে না। ১ অক্টোবর বা তার পর জমা দেওয়া আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন ফি কার্যকর হবে।

অনলাইনে আবেদনে বদল আসছে টাকা দেওয়ার পদ্ধতিতে

অনলাইনে আবেদনকারীদের জন্য অর্থ পরিশোধের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসছে। আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ হলে আবেদনকারীর নিবন্ধিত ই-মেইল ঠিকানায় টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশনা পাঠানো হবে। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেই নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

অনলাইনে আবেদন করলে মূল অভিবাসন ফি ছাড়াও আলাদা লেনদেনের খরচ দিতে হতে পারে। টাকা পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট দোকান, ব্যাংক স্থানান্তর কিংবা ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশিদের জন্য কী জানা জরুরি

জাপানে কর্মরত বা পড়াশোনা করছেন এমন বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ। যাদের থাকার অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, তাদের আবেদন করার আগে নতুন ফি কার্যকর হওয়ার তারিখটি খেয়াল করা দরকার। একইভাবে যারা ভবিষ্যতে জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তাদেরও আবেদনের সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থের প্রস্তুতি রাখা ভালো।

কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকট বা মানবিক কারণে ফি কমানো কিংবা পুরোপুরি ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। তাই আবেদন করার আগে জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়াই নিরাপদ।

উল্লেখিত বাংলাদেশি টাকার হিসাব আনুমানিক এবং ইয়েনের বিনিময় হার পরিবর্তিত হলে টাকার পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে।