ম্যানগ্রোভের সবুজে ঘেরা চর কুকরি-মুকরি

নদী, বন আর সাগরের মিলনে তৈরি বাংলাদেশের দক্ষিণের এক অপূর্ব প্রাকৃতিক স্থান চর কুকরি-মুকরি। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এই দ্বীপচর প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পরিচিত সবুজে ঘেরা এক শান্ত জনপদ হিসাবে। কেওড়া-গেওয়াসহ নানা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ, বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, নদীর জল আর বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থান। এখানে প্রকৃতি দেখা যায় একেবারে ভিন্ন রূপে।

জোয়ার-ভাটার সঙ্গে বদলে যায় বনের চারপাশের দৃশ্য (ছবি: সংগৃহীত)

চর কুকরি-মুকরির অন্যতম আকর্ষণ এর ম্যানগ্রোভ বন। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে বদলে যায় বনের চারপাশের দৃশ্য। কাদামাটির ওপর শ্বাসমূল ছড়িয়ে থাকা গাছপালা আর সরু জলধারা মিলে তৈরি করে অনন্য পরিবেশ। বনের ভেতর হাঁটতে হাঁটতে কিংবা নৌকায় ঘুরে চারপাশ দেখার সময় শহুরে জীবনের ব্যস্ততা অনেকটাই ভুলে থাকা যায়।

এই চরকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথাও। নামের পেছনে ‘কুকরি’ ও ‘মুকরি’ নামে দুটি কুকুরের গল্প প্রচলিত রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। লোককথা আর প্রকৃতির সৌন্দর্যের এই মেলবন্ধন জায়গাটিকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।

এখানকার বনাঞ্চলে দেখা মেলে হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী

চর কুকরি-মুকরির আরেকটি আকর্ষণ বন্যপ্রাণী। এখানকার বনাঞ্চলে হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। শীতের মৌসুমে অতিথি পাখির উপস্থিতিও বাড়ে। ভোর কিংবা বিকপালের দিকে নৌকায় করে বনের আশপাশ ঘুরলে প্রকৃতির নীরবতা ও পাখির ডাক ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তও দেখার মতো। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের খোলা আকাশে সূর্যের আলো যখন নদীর পানিতে পড়ে, তখন চারপাশের দৃশ্য বদলে যায়। বিকেলের শেষ আলোয় ম্যানগ্রোভ বনের সবুজ আর নদীর জল মিলে তৈরি করে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।

ম্যানগ্রোভ বনের সবুজ আর নদীর জল মিলে তৈরি করে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ (ছবি: সংগৃহীত)

চর কুকরি-মুকরি ঘুরতে গেলে নৌভ্রমণ অবশ্যই ভ্রমণসূচিতে রাখা যায়। নদীপথে চলার সময় একদিকে ম্যানগ্রোভ বন, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ জলরাশি দুইয়ের সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়। তবে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি ও আবহাওয়ার বিষয়টি আগে জেনে নেওয়া ভালো।

প্রকৃতির এমন সংবেদনশীল এলাকায় ভ্রমণের সময় পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও মনে রাখা জরুরি। প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলা, গাছপালা নষ্ট করা কিংবা বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

শীতকালে এখোনে অতিথি পাখির মেলা বসে (ছবি: সংগৃহীত)

সবুজ ম্যানগ্রোভ, নদীর জল, পাখির ডাক আর নির্জন চরাঞ্চলের কারণে চর কুকরি-মুকরি হতে পারে শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েক দিনের জন্য হারিয়ে যাওয়ার দারুণ একটি ঠিকানা। বাংলাদেশের উপকূলের প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখতে চাইলে এই দ্বীপচর ভ্রমণতালিকায় রাখতেই পারেন।