বিলাসবহুল তেজস রাজধানী এক্সপ্রেসে নাশতা থেকে রাতের খাবার, কী থাকে মেনুতে?

ট্রেনে দীর্ঘ ভ্রমণ মানেই শুধু জানালার বাইরে ছুটে চলা দৃশ্য উপভোগ নয়, খাবারের আয়োজনও যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেন তেজস রাজধানী এক্সপ্রেসে যাত্রীদের জন্য সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের আলাদা ব্যবস্থা থাকে। যাত্রার সময়, শ্রেণি ও নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী খাবারের পদে পরিবর্তনও হতে পারে।

সকালের নাশতায় কী থাকে

দিনের শুরুতে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের নাশতার ব্যবস্থা থাকে। নিরামিষ খাবারের তালিকায় থাকে পুরভরা পরোটা, সবজির কাটলেট, দই ও আচার। কোথাও উপমা বা চিড়ার সঙ্গে দই ও কাটলেট, আবার ছোলার সঙ্গে কুলচা ও দইও পরিবেশন করা হয়।

আমিষ খাবার পছন্দ করলে দিয়ে থাকে মশলা দেওয়া ডিমের ওমলেট। এর সঙ্গে দেওয়া হয় পাউরুটি, মাখন, সবজির কাটলেট ও দই। কোনও কোনও মেনুতে মুরগির কাটি রোলও রাখা হয়।

নাশতার সঙ্গে চা বা কফি, বিস্কুট, পনিরের স্যান্ডউইচ, কেক বা মাফিন এবং ফলের পানীয়ও থাকে।

দুপুরের খাবারে ভাত-ডাল থেকে পনির ও মুরগি

দুপুরের খাবারে সাধারণত ভাত, ডাল, বিভিন্ন ধরনের সবজি, রুটি বা পরোটা, দই এবং মিষ্টান্ন থাকে। ডালের মধ্যে ডাল মাখনি, ডাল তড়কা কিংবা বিভিন্ন ধরনের মিশ্র ডাল দেওয়া হয়।

নিরামিষ পদে পনির বাটার মশলা, শাহী পনির, কড়াই পনির বা নবরতন কোর্মার মতো খাবার পরিবেশন করা হয়। এর সঙ্গে থাকতে পারে আলু-মটর, ঢেঁড়স ভাজা, বিনস ও গাজরের তরকারি কিংবা আলু-ক্যাপসিকামের মতো পদ।

আমিষ খাবারের তালিকায় দিয়ে থাকে বাটার চিকেন, শাহী চিকেন কিংবা কড়াই চিকেন। খাবারের সঙ্গে পরোটা, লাচ্ছা পরোটা বা তাওয়া রুটিও পরিবেশন করা হয়।

রাতের খাবারেও থাকে বেশ কয়েকটি পদ

রাতের খাবারের আয়োজনও দুপুরের মতো বৈচিত্র্যময়। ভাত, ডাল, সবজি, রুটি বা পরোটা এবং নিরামিষ বা আমিষ মূল পদের সঙ্গে দই ও মিষ্টান্ন দেয়।

খাবারের শেষে মিষ্টি হিসাবে আইসক্রিম, সুজির হালুয়া কিংবা মুগ ডালের হালুয়া দেওয়া হয়। উচ্চশ্রেণির যাত্রীদের জন্য খাবারের আগে স্যুপসহ অতিরিক্ত কিছু পদ রাখার ব্যবস্থাও থাকে।

মেনু কি প্রতিদিন একই থাকে?

তেজস রাজধানী এক্সপ্রেসের খাবারের তালিকা সব সময় একই থাকে না। যাত্রার শ্রেণি, নির্ধারিত সময়সূচি, অঞ্চল এবং রেলের নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী খাবারে পরিবর্তন আসতে পারে। ঋতু ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করেও কিছু পদ বদলে যেতে পারে।

ফলে ট্রেনে ওঠার আগে নির্দিষ্ট যাত্রার জন্য প্রযোজ্য খাবারের তালিকা জেনে নেওয়া ভালো। তবে দীর্ঘ যাত্রায় যাত্রীদের খাবারের প্রয়োজন মাথায় রেখেই সকালের নাশতা থেকে দুপুর ও রাতের খাবারের আয়োজন করা হয়।