ব্যাংককে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে তৈরি হয়েছে কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বড় বন্যা পরিস্থিতি। শহরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও বৃষ্টিপাত কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। ফলে যারা এখন ব্যাংকক ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোথায় পানি রয়েছে, কোন পথে চলাচল স্বাভাবিক এবং বিমান ও গণপরিবহনের অবস্থা কেমন।
দুই থেকে তিন দিনে ব্যাংককে প্রায় ৩২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সেপ্টেম্বর মাসে শহরটির স্বাভাবিক মোট বৃষ্টিপাতের কাছাকাছি। এতে ৩ লাখ ২৯ হাজারের বেশি পরিবারসহ প্রায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পানি নিষ্কাশনের কাজ এগিয়ে চলায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাংককের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলো এখনও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। তবে ভ্রমণের আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলো খোলা
সিয়াম, রাতচাপ্রাসং, চায়নাটাউনের ইয়াওয়ারাত সড়ক, তালাত নই ও সং ওয়াতসহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় যাতায়াত করা যাচ্ছে। গ্র্যান্ড প্যালেস, পান্না বুদ্ধের মন্দির, ওয়াত ফো ও ওয়াত অরুণও দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রয়েছে।
প্রধান পর্যটন এলাকাগুলোর অধিকাংশ রেস্তোরাঁ, দোকান ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কোনও এলাকায় যাওয়ার আগে সেখানকার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো।
বিমানযাত্রায় সতর্ক থাকুন
ব্যাংককের সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুটিই চালু রয়েছে। তবে সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পরিচালনায় কিছুটা বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
কর্মীসংকট ও লাগেজ ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে থাই এয়ারওয়েজ ব্যাংকক থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা সাময়িকভাবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়েছে। তাই ব্যাংকক যাওয়ার আগে বা সেখান থেকে অন্যত্র যাওয়ার সময় বিমান সংস্থার কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।
রেল যোগাযোগ তুলনামূলক সুবিধাজনক
ব্যাংককের বিটিএস স্কাইট্রেন ও এমআরটি রেলসেবা চালু রয়েছে। সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী বিমানবন্দর রেলসেবাও চলছে। দন মুয়াং বিমানবন্দরগামী রেড লাইন রেলসেবাও চালু রয়েছে।
বন্যার সময় সড়কপথের তুলনায় রেলপথ অনেক ক্ষেত্রে বেশি নির্ভরযোগ্য হতে পারে। তবে আন্তঃনগর রেল যোগাযোগের পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় যাত্রার আগে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত।
সড়কপথে বাড়তি সতর্কতা
পানি কমে গেলেও ব্যাংককের সব সড়ক একসঙ্গে স্বাভাবিক নাও হতে পারে। কোনো একটি সড়ক থেকে পানি নেমে গেলেও পাশের অন্য সড়কে জলাবদ্ধতা বা যানজট থাকতে পারে। তাই গন্তব্যে যাওয়ার আগে পথের পরিস্থিতি দেখে বের হওয়া ভালো।
বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি বা ভাড়ার গাড়িতে দীর্ঘ পথ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প পথ সম্পর্কে আগেই ধারণা রাখা সুবিধাজনক।
নতুন করে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলে পরিকল্পনা বদলান
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলে জমে থাকা বেশিরভাগ পানি দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নেমে যেতে পারে। তাই ভ্রমণের সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
যদি কোনো দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে, সেদিন খোলা আকাশের নিচে বা জলাবদ্ধতার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময় কাটানোর পরিকল্পনা না করে শহরের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও সহজে যাতায়াতযোগ্য স্থান বেছে নেওয়া যেতে পারে।
জরুরি যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখুন
বন্যার মতো পরিস্থিতিতে ভ্রমণের সময় হোটেলের ঠিকানা, বিমানবন্দরের তথ্য এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর হাতের কাছে রাখা ভালো। মুঠোফোনে চার্জ রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অনুলিপিও সঙ্গে রাখা যেতে পারে।
যাওয়ার আগে পরিস্থিতি যাচাই করুন
ব্যাংককের প্রধান পর্যটন এলাকাগুলো চালু থাকলেও পুরো শহরের পরিস্থিতি একই নয়। কোথাও পানি নেমে যেতে পারে, আবার কোথাও নতুন করে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। তাই শুধু কোনও একটি এলাকার পরিস্থিতি দেখে পুরো ব্যাংকককে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বন্যার পর ব্যাংককের পর্যটন কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে যারা এখন ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যাত্রার আগে আবহাওয়া, বিমান, রেল ও সড়ক যোগাযোগের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা। পরিকল্পনায় কিছুটা নমনীয়তা রাখলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।