ভারতে সমুদ্রভ্রমণ মানেই সাধারণত সৈকতে হাঁটা, ঢেউ দেখা আর সমুদ্রের হাওয়া উপভোগ করা। তবে কেরালার মুঝাপ্পিলাঙ্গাড ড্রাইভ-ইন বিচ এই পরিচিত অভিজ্ঞতাকে একেবারেই বদলে দেয়। এখানে গাড়ি নিয়ে সরাসরি বালুর ওপর দিয়ে সমুদ্রের পাশ ঘেঁষে ঘুরে বেড়ানো যায়। তাই ভারত ভ্রমণে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য এটি হতে পারে আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য।
কোথায় এই সৈকত?
মুঝাপ্পিলাঙ্গাড ড্রাইভ-ইন বিচ উত্তর কেরালার কান্নুর শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। মালাবার উপকূলের কাছে হওয়ায় সড়কপথে এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। এশিয়ার দীর্ঘতম গাড়ি চালিয়ে ঘোরার উপযোগী সমুদ্রসৈকত হিসাবেও এটি পরিচিত।
প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের বালু শক্ত ও মসৃণ হওয়ায় ধীরে ও নিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানো সম্ভব। একদিকে আরব সাগর, অন্যদিকে খোলা আকাশ, বালুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর এই অভিজ্ঞতাই মুঝাপ্পিলাঙ্গাডকে অন্য সৈকত থেকে আলাদা করেছে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য কেন আকর্ষণীয়?
যারা ভারত ভ্রমণে প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে একটু ভিন্ন কিছু দেখতে চান, তাদের জন্য মুঝাপ্পিলাঙ্গাড ভালো একটি জায়গা। কান্নুরের ঐতিহাসিক দুর্গ, উপকূলীয় গ্রাম ও কেরালার ঐতিহ্যবাহী তেয়্যম নৃত্য দেখার পরিকল্পনার সঙ্গে এই সৈকতও যুক্ত করা যায়।
তবে বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণকারীদের জন্য একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, নিজের গাড়ি নিয়ে সরাসরি ভারতে গিয়ে সৈকতে চালানোর বিষয়টি আলাদা সীমান্ত ও যানবাহনসংক্রান্ত নিয়মের সঙ্গে যুক্ত। তাই সাধারণ পর্যটক হিসাবে সেখানে গিয়ে স্থানীয়ভাবে অনুমোদিত যানবাহন ব্যবহার করাই বাস্তবসম্মত।
শুধু গাড়ি চালানো নয়
মুঝাপ্পিলাঙ্গাডে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি শান্তভাবে সমুদ্র উপভোগের সুযোগও রয়েছে। সৈকতের বিভিন্ন অংশে থাকা কালো ল্যাটেরাইট পাথর, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে প্যারাগ্লাইডিংয়ের সুযোগও পাওয়া যায়।
আশপাশের উপকূলীয় গ্রামগুলো ঘুরে স্থানীয় জীবনযাত্রা দেখা যায়। ছোট খাবারের দোকানে কেরালার ঐতিহ্যবাহী খাবার ও তাজা সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
ভ্রমণ পরিকল্পনায় কীভাবে রাখবেন?
বাংলাদেশি পর্যটকরা কেরালা ভ্রমণে কান্নুরকে কেন্দ্র করে মুঝাপ্পিলাঙ্গাড ঘুরে দেখতে পারেন। ঐতিহাসিক স্থাপনা, উপকূলীয় গ্রাম ও স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে এই সৈকত মিলিয়ে নিলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও বৈচিত্র্যময় হবে।
তবে সৈকতে গাড়ি চালানোর আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি, সময়সূচি ও নিরাপত্তা নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি। সমুদ্রের কাছাকাছি হওয়ায় আবহাওয়া ও জোয়ারের অবস্থাও আগে থেকে দেখে নেওয়া ভালো।
মুঝাপ্পিলাঙ্গাডের বিশেষত্ব হলো এখানে সমুদ্র দেখতে শুধু তীরে দাঁড়াতে হয় না, বরং নির্ধারিত নিয়ম মেনে বালুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়েও উপকূলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তাই কেরালা ভ্রমণে একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা খুঁজলে এই সৈকতটি ভ্রমণসূচিতে রাখা যেতে পারে।