বিশ্বখ্যাত থাইল্যান্ডের এই সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ, জানুন কারণ

থাইল্যান্ডের মায়া বে যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। স্বচ্ছ নীলাভ সবুজ পানি, সাদা বালু আর চারপাশের চুনাপাথরের পাহাড়ে ঘেরা ফি ফি লেহ দ্বীপের এই উপসাগরটি ২০০০ সালে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত ‘দ্য বিচ’ সিনেমায় দেখানোর পর বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। তবে এত সুন্দর এই সৈকতে একটি নিয়ম পর্যটকদের অবাক করে এখানে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ।

ক্রাবি প্রদেশের হাট নোপফারাত থারা-মু কো ফি ফি জাতীয় উদ্যানের অন্তর্ভুক্ত মায়া বে একসময় ছিল নিরিবিলি ও প্রায় জনমানবহীন। সিনেমাটি মুক্তির পর পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০১৮ সালের দিকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখানে আসতে শুরু করেন। বিপুল পর্যটকের চাপ ও অসংখ্য নৌকার আনাগোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রবালপ্রাচীর ও সামুদ্রিক পরিবেশ।

একসময় মায়া বের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর অক্ষত থাকলেও অতিরিক্ত পর্যটনের কারণে সুস্থ প্রবালের পরিমাণ ৮ শতাংশের নিচে নেমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০১৮ সালে উপসাগরটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রায় চার বছর পর্যটকমুক্ত থাকার সময় মায়া বের পরিবেশ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ফিরে আসে কালো ডগাযুক্ত প্রবাল-হাঙর। একপর্যায়ে গবেষকেরা ১৬১টি পর্যন্ত হাঙরের উপস্থিতি নথিভুক্ত করেন। পাশাপাশি ৩০ হাজারের বেশি প্রবালের খণ্ড নতুন করে রোপণ করা হয়।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে মায়া বে আবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলেও এবার কঠোর নিয়ম চালু করা হয়। প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ জন পর্যটক প্রবেশ করতে পারেন এবং একজন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সেখানে থাকতে পারেন। মূল উপসাগরে মোটরচালিত নৌকার প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, মায়া বেতে সাঁতার কাটা যাবে না। পর্যটকেরা হাঁটুসমান পানিতে নামতে পারেন, এর বেশি গেলে বাধা দেন কর্মকর্তারা। কারণ, গভীর পানিতে গেলে ফিরে আসা হাঙরগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি নতুন করে বেড়ে ওঠা প্রবালের ওপর পা পড়ে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার থাই বাত পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তাই মায়া বে ভ্রমণে গেলে স্বচ্ছ পানির সৌন্দর্য উপভোগ করলেও সাঁতারে নামার বদলে নির্ধারিত সীমা মেনে চলাই নিরাপদ।

মায়া বের বর্তমান নিয়ম শুধু পর্যটকদের নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, বরং প্রকৃতিকে সুস্থ রাখার একটি উদ্যোগ। অতিরিক্ত পর্যটনের ক্ষতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন সেখানে এমন এক পর্যটনব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যেখানে সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রকৃতি রক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।