খাগড়াছড়ির ‘নিউজিল্যান্ড পাড়া’, পাহাড়ের কোলে সবুজের অন্যরকম মায়া

ফিচার ডেস্ক
০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫

বিদেশের নিউজিল্যান্ডে না গিয়েও যদি সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ প্রান্তর, পাহাড়ের সারি আর আঁকাবাঁকা পথের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন খাগড়াছড়ির নিউজিল্যান্ড পাড়া। জেলা শহরের খুব কাছেই অবস্থিত এই এলাকা যেন পাহাড়ি প্রকৃতির মাঝে এক টুকরো সবুজ সমতল ভূমি।

খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে পানখাইয়া পাড়ার লাগোয়া এই এলাকার অবস্থান। দুই পাশে বিস্তীর্ণ সবুজ ক্ষেত, মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া সরু রাস্তা এবং দূরে ছোট-বড় পাহাড়ের সারি। এখানকার দৃশ্য অন্য সব পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রের চেয়ে কিছুটা আলাদা। স্থানীয়দের চোখে জায়গাটির ভূপ্রকৃতি ও দৃশ্যপট নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মিল থাকায় এর নাম হয়েছে ‘নিউজিল্যান্ড পাড়া’।

বিস্তীর্ণ সবুজ ক্ষেত, মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া সরু রাস্তা (ছবি: সংগৃহীত)

সবুজ ধানক্ষেতের মাঝখানে আঁকাবাঁকা পথ

নিউজিল্যান্ড পাড়ার অন্যতম আকর্ষণ হলো রাস্তার দুই পাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। সবুজ ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া রাস্তা দূরের পাহাড়ের সঙ্গে মিশে তৈরি করে ছবির মতো দৃশ্য। বর্ষায় চারপাশ যখন আরও সবুজ হয়ে ওঠে, তখন মেঘে ঢাকা পাহাড় আর ক্ষেতের সমন্বয়ে জায়গাটির সৌন্দর্য আরও বাড়ে।

ধান পাকার মৌসুমে এই দৃশ্যের সঙ্গে যোগ হয় আরেক আকর্ষণ। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, আশপাশের জমিতে ধান পাকলে সেখানে দেখা যায় অসংখ্য টিয়া পাখি। ফলে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ঋতুভেদে নিউজিল্যান্ড পাড়ার দৃশ্যও বদলে যায়।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্যও নিউজিল্যান্ড পাড়া বেশ আকর্ষণীয় (ছবি: সংগৃহীত)

পাহাড়, মেঘ আর সূর্যাস্তের মুগ্ধতা

নিউজিল্যান্ড পাড়ায় শুধু সবুজ ক্ষেত দেখেই ফিরে আসতে হবে না। দূরের পাহাড়, নীল আকাশ আর ভেসে চলা মেঘ মিলিয়ে এখানে প্রকৃতির একটি শান্ত রূপ দেখা যায়। বর্ষার দিনে পাহাড়ের গায়ে মেঘ জমে তৈরি করে অন্যরকম পরিবেশ। আবার বিকেলের দিকে সূর্যের আলো পাহাড় ও ক্ষেতের ওপর পড়লে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্যও জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়।

শহরের কাছেই, তাই অল্প সময়েও ঘুরে আসা যায়

নিউজিল্যান্ড পাড়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো খাগড়াছড়ি শহর থেকে এটি খুব বেশি দূরে নয়। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে খাগড়াছড়ি পৌঁছে শহর থেকে স্থানীয় সিএনজি বা অটোরিকশায় সহজেই যাওয়া যায়। শাপলা চত্বর থেকে দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার।

যারা সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তারাও খাগড়াছড়িতে অবস্থানের সময় অল্প সময় বের করে এই জায়গাটি ঘুরে দেখতে পারেন। খাগড়াছড়ি শহরে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল ও পর্যটন সুবিধা রয়েছে।

জায়গাটির ভূপ্রকৃতি ও দৃশ্যপট নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মিল থাকায় এর নাম হয়েছে ‘নিউজিল্যান্ড পাড়া’ (ছবি: সংগৃহীত)

শুধু প্রকৃতি নয়, দেখা মিলবে পাহাড়ি জীবনেরও

নিউজিল্যান্ড পাড়া ঘুরতে গেলে চোখে পড়বে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কৃষিকাজ, পাহাড়ের পাদদেশের বসতি এবং ক্ষেতকেন্দ্রিক জনপদের দৈনন্দিন জীবনকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ রয়েছে।

পাহাড়ি ঝরনা কিংবা দুর্গম গন্তব্যের বাইরে একটু শান্ত প্রকৃতি দেখতে চাইলে খাগড়াছড়ির নিউজিল্যান্ড পাড়া হতে পারে ভিন্ন স্বাদের এক দিনের ভ্রমণ। সবুজ ক্ষেত, পাহাড়ের সারি, মেঘ আর আঁকাবাঁকা পথের জায়গাটি শহরের কোলাহল থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার জন্য বেশ মনোরম একটি স্থান।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
এক শাড়ির দাম ২ লাখ টাকা, ব্যাগে করে এনে বিক্রি হয় হাটে
মাটির চুলা থেকে কাঁসার থালা- কোথায় হারালো সেই রান্নাঘরের স্মৃতি
‘পর্যটন পুরস্কার’ পেলেন যারা
সর্বশেষ খবর
ঘুম আসছে না? শোয়ার আগে কাজে লাগতে পারে যে ৩ আধুনিক যন্ত্র
ঘুম আসছে না? শোয়ার আগে কাজে লাগতে পারে যে ৩ আধুনিক যন্ত্র
ইরানের দুই প্রতিনিধিকে ‘বের করে’ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের দুই প্রতিনিধিকে ‘বের করে’ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
কেন ১৯৩২-৩৩ সালের ‘বডিলাইন’ সিরিজ ক্রিকেটের কালো অধ্যায়?
কেন ১৯৩২-৩৩ সালের ‘বডিলাইন’ সিরিজ ক্রিকেটের কালো অধ্যায়?
এক শাড়ির দাম ২ লাখ টাকা, ব্যাগে করে এনে বিক্রি হয় হাটে
এক শাড়ির দাম ২ লাখ টাকা, ব্যাগে করে এনে বিক্রি হয় হাটে
সর্বাধিক পঠিত
মিজু, মৌসুমী-ডিপজল নেননি কোনও পারিশ্রমিক, জানালেন নির্মাতা
মিজু, মৌসুমী-ডিপজল নেননি কোনও পারিশ্রমিক, জানালেন নির্মাতা
সাড়ে ৬ লাখ পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেবে সরকার, পাবে যেসব জেলা
সাড়ে ৬ লাখ পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেবে সরকার, পাবে যেসব জেলা
বাংলাদেশিদের জন্য কাছেই পাহাড়-নদীর নিরিবিলি ঠিকানা, ঘুরে আসুন তুরিবাড়ি
বাংলাদেশিদের জন্য কাছেই পাহাড়-নদীর নিরিবিলি ঠিকানা, ঘুরে আসুন তুরিবাড়ি
রূপপুরের বিদ্যুৎ এলে কতটা কমবে লোডশেডিং?
রূপপুরের বিদ্যুৎ এলে কতটা কমবে লোডশেডিং?
১৭০ যাত্রীর প্লেনটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন ওমানের পাইলট
১৭০ যাত্রীর প্লেনটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন ওমানের পাইলট