গহিন অরণ্যের পথে হামহাম জলপ্রপাত, রোমাঞ্চপ্রেমীদের প্রিয় স্থান

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে অবস্থিত হামহাম জলপ্রপাত। দুর্গম পাহাড়ি পথ, ঘন বন আর ঝিরিপথ পেরিয়ে যেতে হয় এই জলপ্রপাতের কাছে। পুরো পথের ট্রেকিং অভিজ্ঞতা হামহাম ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।

স্থানীয়ভাবে হামহাম ‘চিতা ঝর্ণা’ নামেও পরিচিত। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের শেষ দিকে পর্যটন গাইড শ্যামল দেববর্মার সঙ্গে একদল পর্যটক দুর্গম এই জলপ্রপাতটি আবিষ্কার করেন।

যেভাবে যাবেন

হামহাম যেতে প্রথমে যেতে হবে মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গল। সেখান থেকে কমলগঞ্জ হয়ে চাম্পারায় চা-বাগানের কলাবনপাড়া এলাকায় যেতে হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কমলগঞ্জ বা শ্রীমঙ্গল থেকে ভোরে রওনা দিলে কলাবনপাড়ায় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে পৌঁছানো সম্ভব। এরপর শুরু হয় পাহাড়ি পথে হাঁটা। কলাবনপাড়া থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে জলপ্রপাতের কাছে পৌঁছাতে হয়।

ট্রেকিংয়ে যা পড়বে পথে

হামহামের পথে রয়েছে পাহাড়ি ঢাল, পাথুরে ও কাদাময় পথ, ঝিরি ও ছড়া। রাজকান্দি বনাঞ্চলের এই পথে নানা ধরনের গাছপালা, বাঁশঝাড় ও বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। সরকারি পর্যটন তথ্যেও এ অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, বাঁশ, প্রজাপতি ও চশমাপড়া হনুমানের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জলপ্রপাতটির উচ্চতা আনুমানিক ১৩৫ থেকে ১৬০ ফুট। বর্ষায় পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে হামহামের সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ভ্রমণে সতর্কতা জরুরি

হামহামের পথ দুর্গম ও পিচ্ছিল হওয়ায় প্রস্তুতি ছাড়া যাওয়া ঠিক নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জলপ্রপাত থেকে ফেরার পথে এক পর্যটক পিছলে গুরুতর আহত হলে ১০ জনের একটি দলকে উদ্ধার করতে হয়। পরে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে তাদের উদ্ধার করেন।

তাই দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করা, স্থানীয় অভিজ্ঞ গাইড সঙ্গে নেওয়া, ট্রেকিং উপযোগী জুতা পরা এবং আবহাওয়া বিবেচনা করে যাত্রা করা জরুরি। দুর্গম পথ হওয়ায় পর্যাপ্ত পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী সঙ্গে রাখাও ভালো।

প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চার দুইয়ের স্বাদ একসঙ্গে নিতে চাইলে মৌলভীবাজারের হামহাম জলপ্রপাতকে আপনার পরবর্তী ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন। তবে এর সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদেরও সচেতন থাকতে হবে।