বিমানে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে নিচে যদি দেখা যায় নীল সমুদ্র, সৈকত কিংবা জলরাশির বুকের ওপর দিয়ে এগিয়ে আসছে রানওয়ে তাহলে অবতরণের অভিজ্ঞতা যে সাধারণ থাকবে না, সেটাই স্বাভাবিক। বিশ্বের কয়েকটি বিমানবন্দর এমন জায়গায় তৈরি, যেখানে বিমান ওঠানামার সময় যাত্রীদের চোখে ধরা পড়ে অসাধারণ সমুদ্রের দৃশ্য। কোথাও রানওয়ের পাশেই সমুদ্র, কোথাও আবার সৈকতের এত কাছে বিমান নেমে আসে যে পুরো দৃশ্যটি মনে হয় সিনেমার কোনও দৃশ্য।
প্রিন্সেস জুলিয়ানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিন্ট মার্টেন
সমুদ্রঘেঁষা বিমানবন্দরের কথা উঠলে সবার আগে আসে প্রিন্সেস জুলিয়ানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটি ক্যারিবীয় দ্বীপ সিন্ট মার্টেনের ডাচ অংশে অবস্থিত। বিমানবন্দরের রানওয়ের এক প্রান্তের খুব কাছেই রয়েছে মাহো সৈকত। ফলে অবতরণের সময় বড় যাত্রীবাহী বিমানগুলো সৈকতের ওপর দিয়ে খুব নিচু উচ্চতায় উড়ে রানওয়ের দিকে এগিয়ে যায়।
এই অনন্য দৃশ্য দেখতে প্রতি বছর পর্যটক ও বিমানপ্রেমীদের ভিড় জমে। সমুদ্র, সৈকত আর বিশাল উড়োজাহাজ তিনটি একসঙ্গে দেখা যায় বলেই জায়গাটি বিশ্বজুড়ে বেশ পরিচিত।
মাদেইরা বিমানবন্দর, পর্তুগাল
পর্তুগালের মাদেইরা বিমানবন্দরও সমুদ্রঘেঁষা অসাধারণ অবস্থানের জন্য পরিচিত। আটলান্টিক মহাসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত এই বিমানবন্দরের রানওয়ের একটি বড় অংশ বিশাল কাঠামোর ওপর নির্মিত। ফলে বিমান অবতরণের সময় চারপাশের সমুদ্র ও পাহাড়ি ভূদৃশ্য একসঙ্গে দেখা যায়।
বারা বিমানবন্দর, স্কটল্যান্ড
সমুদ্রের এত কাছে বিমানবন্দর যে জোয়ারের সময় রানওয়েই পানির নিচে চলে যায়, এমন দৃশ্যও আছে। স্কটল্যান্ডের বারা বিমানবন্দর বিশ্বের ব্যতিক্রমী বিমানবন্দরগুলোর একটি। এখানে নির্ধারিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বালুময় সৈকতকে রানওয়ে হিসাবে ব্যবহার করে। তবে এই উড্ডয়ন-অবতরণ জোয়ার-ভাটার সময়ের ওপর নির্ভরশীল।
জুয়ানচো ই. ইরাউস্কিন বিমানবন্দর, সাবা
ক্যারিবীয় অঞ্চলের সাবা দ্বীপের জুয়ানচো ই. ইরাউস্কিন বিমানবন্দরও ভিন্ন ধরনের রোমাঞ্চকর অবতরণের জন্য পরিচিত। রানওয়েটি দ্বীপের একটি সরু সমতল অংশে অবস্থিত, যার দুই পাশেই পাহাড়ি ভূখণ্ড ও ক্যারিবীয় সাগর। এখানে বড় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচল করে না। ছোট আকারের বিমানই সাধারণত এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে।
গিব্রাল্টার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গিব্রাল্টার
গিব্রাল্টার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আলাদা। ভূমধ্যসাগরের কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দরের রানওয়ে গিব্রাল্টারের সরু ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে বিস্তৃত। আকাশ থেকে নামার সময় যাত্রীদের চোখে সমুদ্র ও পাহাড়ি ভূদৃশ্য ধরা পড়ে, যা অবতরণের অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
অবতরণই যখন ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ
বিমানযাত্রায় গন্তব্যে পৌঁছানোই সাধারণত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু এসব বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগের কয়েক মিনিটই হয়ে উঠতে পারে ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় অংশ। নীল সমুদ্র, উপকূল, পাহাড় আর রানওয়ের অসাধারণ অবস্থানের কারণে বিমান থেকে নামার আগেই শুরু হয়ে যায় অন্যরকম এক ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা।
তাই সমুদ্রের দৃশ্য দেখতে চাইলে শুধু সৈকতে যাওয়ার পরিকল্পনাই নয়, কখনও কখনও বিমানের জানালার পাশের আসনটিও হতে পারে আপনার ভ্রমণের সেরা দর্শনমঞ্চ!