জোয়ার-ভাটার খেলায় মুগ্ধ করে সীতাকুণ্ডের কুমিরাঘাট

পাহাড় আর সমুদ্রের অপূর্ব সৌন্দর্য একসঙ্গে দেখা যাওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড বরাবরই ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয়। চট্টগ্রামের এই জনপদে রয়েছে ঝরনা, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত ও সবুজ প্রকৃতির নানা বৈচিত্র্য। এরই মধ্যে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর জন্য আলোচনায় আসছে কুমিরাঘাট।

সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত কুমিরাঘাটে গেলে চোখে পড়ে বিস্তৃত জলরাশি আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। জোয়ার-ভাটার পরিবর্তনের সঙ্গে এখানকার দৃশ্যও বদলে যায়। কখনও পানিতে ভেসে ওঠে আকাশের প্রতিবিম্ব, আবার ভাটার সময় উন্মুক্ত হয়ে পড়ে উপকূলের বিস্তীর্ণ অংশ। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে কুমিরাঘাটের সৌন্দর্য দেখা যায় ভিন্ন রূপে।

কুমির াঘাটের সবচেয়ে আকর্ষনীয় দৃশ্য বিকালের সূর্যাস্ত দেখা (ছবি: সংগৃহীত)

শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে জায়গাটি হতে পারে ভালো একটি গন্তব্য। বিকালের দিকে এখানে বসে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতাও হতে পারে মনোমুগ্ধকর। সোনালি আলো যখন জলরাশির ওপর ছড়িয়ে পড়ে, তখন পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়।

কুমিরা ঘাটে গিয়ে শুধু তীর থেকে সমুদ্র দেখেই ফিরে আসতে হবে না। চাইলে ছোট বোট ভাড়া করে কিছুটা গভীরে যেতে পারেন। এতে সমুদ্রের বিস্তীর্ণ জলরাশি উপভোগের পাশাপাশি দূরে নোঙর করা জাহাজগুলোও কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলবে। সাধারণত বোটে জনপ্রতি প্রায় ১৫ থেকে ২০ টাকা ভাড়া লাগে।

কুমিরা ঘাট থেকেই স্পিডবোটে করে সন্দ্বীপ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে সন্দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্পিডবোটে জনপ্রতি ভাড়া আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আবহাওয়া ও নৌযানের পরিস্থিতি অনুযায়ী যাত্রায় প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

কুমিরাঘাট গিয়ে বোট ভাড়া করে ঘুরে দেখতে পারেন সমুদ্র (ছবি: সংগৃহীত)

সন্দ্বীপে পৌঁছানোর পর চাইলে সিএনজি ভাড়া করে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। এক্ষেত্রে সিএনজি রিজার্ভের জন্য প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হতে পারে।

কুমিরাঘাট ভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ হলো স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ। উপকূলের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, নৌকা চলাচল এবং জোয়ার-ভাটার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভ্রমণে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা বা দেশের অন্য অঞ্চল থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম হয়ে সীতাকুণ্ডে যাওয়া যায়। সীতাকুণ্ড পৌঁছে স্থানীয় পরিবহনের মাধ্যমে কুমিরাঘাটের দিকে যাওয়া সম্ভব।

ঢাকা থেকে কুমিরা ঘাট

ঢাকা থেকে কুমিরা যেতে প্রথমে চট্টগ্রামমুখী বাসে উঠতে হবে। বিভিন্ন পরিবহনের বাসে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় নামা যায়। বাসের ধরন অনুযায়ী ভাড়ার পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ নন-এসি বাসে প্রায় ৪৮০ টাকা এবং এসি বাসে প্রায় ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া হতে পারে। ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বর্তমান ভাড়া ও নামার স্থান জেনে নেবেন।

আরেকটি উপায় হলো ফেনী পর্যন্ত বাস বা ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে চট্টগ্রামমুখী লোকাল বাসে কুমিরা এলাকায় আসা। এ পথে স্থানীয় বাসে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ টাকা ভাড়া লাগে এবং সময় লাগতে পারে প্রায় এক ঘণ্টা।

চট্টগ্রাম থেকে কুমিরা ঘাট

চট্টগ্রাম শহর থেকেও সহজে কুমিরা যাওয়া যায়। অলংকার মোড়, এ কে খান মোড় কিংবা কদমতলী এলাকা থেকে ফেনীগামী বাসে উঠে কুমিরা ঘাট এলাকায় নামা যায়। এ পথে বাসভাড়া সাধারণত ৪০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।

এ ছাড়া দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করলে সিএনজি রিজার্ভ করে কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতেও কুমিরা ঘাটে যাওয়া যায়। সিএনজি রিজার্ভের ক্ষেত্রে আনুমানিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা খরচ হতে পারে।

ভাড়া ও যাতায়াতের সময় পরিস্থিতি, যানবাহন ও মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে স্থানীয়ভাবে বর্তমান তথ্য জেনে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

প্রকৃতি, উপকূল আর নিরিবিলি পরিবেশ সবকিছু একসঙ্গে দেখতে চাইলে সীতাকুণ্ড ভ্রমণের তালিকায় কুমিরাঘাট রাখতে পারেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। বিশেষ করে বিকালে এখানে কাটানো সময় আপনার ব্যস্ত জীবন থেকে একটুখানি প্রশান্তির সুযোগ এনে দিতে পারে।