সমুদ্রের শহর চট্টগ্রামে ঘোরার জায়গার অভাব নেই। তবে সমুদ্রসৈকত বা পাহাড়ের বাইরে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা চাইলে চলে যেতে পারেন প্রজাপতি পার্কে। রঙিন প্রজাপতির উড়াউড়ি, সবুজে ঘেরা বাগান, কৃত্রিম জলাশয় আর নানা বিনোদনের আয়োজন এক জায়গাতেই মিলবে প্রকৃতি ও অবসরের আমেজ।
পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি রোডে, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই এই পার্কের অবস্থান। প্রায় ৬ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা পার্কটিকে দেশের প্রথম প্রজাপতি পার্ক হিসেবে পরিচিত করা হয়। এখানে রয়েছে জীবন্ত প্রজাপতির জন্য আলাদা অঞ্চল, প্রজাপতি জাদুঘর, প্রজাপতি লালন-পালন ও প্রজননের ব্যবস্থা এবং নার্সারি।
পার্কে ঢুকলেই চোখে পড়বে সাজানো বাগান ও জলধারা। একটু এগোলেই প্রজাপতি অঞ্চলে দেখা মিলতে পারে নানা রঙ ও নকশার প্রজাপতির। তাদের উড়ে বেড়ানো দেখতে দেখতে সময় কেটে যায় সহজেই। প্রজাপতির জীবনচক্র সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে এখানে। শিশুদের জন্য খেলার জায়গার পাশাপাশি কৃত্রিম হ্রদ, ঝরনা, মাছ ও প্রজাপতিকে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
শুধু প্রজাপতি দেখেই ফিরতে হবে না। পার্কে নৌভ্রমণ, ট্রেন রাইড, ঘোড়ায় চড়া, শিশুদের বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে পরিবার নিয়ে এক দিনের ছোট সফর হিসেবেও জায়গাটি বেশ উপযোগী। চাইলে পার্কের রেস্তোরাঁয় খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।
কখন যাবেন
প্রজাপতি দেখতে গেলে রোদেলা সময় বেছে নেওয়াই ভালো। সাধারণত সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে প্রজাপতির আনাগোনা বেশি চোখে পড়তে পারে। তবে আবহাওয়া ও পার্কের বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর অভিজ্ঞতা বদলাতে পারে। যাওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোলার সময় ও প্রবেশমূল্য জেনে নেওয়া ভালো।
কীভাবে যাবেন
চট্টগ্রাম শহর থেকে পতেঙ্গার দিকে গেলেই নেভাল একাডেমি রোডে পার্কটির অবস্থান। নিজস্ব গাড়ি, সিএনজি বা স্থানীয় পরিবহনে যাওয়া যায়। পার্কের ঠিকানা ১৫ নেভাল একাডেমি রোড, বিমানবন্দরের পাশে, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
প্রজাপতি পার্ক ঘুরে একই সফরে চাইলে চলে যেতে পারেন কাছের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতেও। ফলে প্রকৃতি, প্রজাপতি আর সমুদ্র দেখে চট্টগ্রামে একদিনের ভ্রমণেও যোগ হতে পারে বেশ বৈচিত্র্য।