সুন্দরবনের বুকে দুবলার চর, যেখানে সমুদ্র আর জেলেদের গল্প একসঙ্গে

ফিচার ডেস্ক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮

একদিকে সুন্দরবনের গভীর সবুজ, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের নোনা জল। এই দুইয়ের মাঝেই যেন আলাদা এক জগৎ দুবলার চর। বাগেরহাটের সুন্দরবন অংশে অবস্থিত এই চর যেমন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য, তেমনই জেলেদের ব্যস্ত জীবন ও উপকূলের নিজস্ব সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার জন্যও হতে পারে অন্যরকম এক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

দুবলার চর (ছবি: সংগৃহীত)

দুবলার চর মূলত কয়েকটি ছোট চর ও দ্বীপসদৃশ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত। আলোর কোল, মেহের আলীর চর, মাঝের কেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শেলারচর এই এলাকাগুলো মিলে তৈরি হয়েছে দুবলার চর অঞ্চল। সুন্দরবনের দক্ষিণ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কাছে এর অবস্থান হওয়ায় এখানকার প্রকৃতির রূপও বেশ আলাদা।

দুবলার চরে শুটকি তৈরি (ছবি: সংগৃহীত)

জেলেদের ব্যস্ত জীবন

দুবলার চরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো জেলেদের জীবনযাত্রা। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেরা এখানে এসে অস্থায়ী বসতি গড়ে মাছ ধরেন ও শুঁটকি তৈরি করেন। মাছ ধরা থেকে শুরু করে তা শুকানো ও প্রক্রিয়াজাত করার পুরো কর্মকাণ্ডই ভ্রমণকারীদের জন্য হয়ে ওঠে এক বাস্তব অভিজ্ঞতা।

দুবলার চরের সমুদ্রপাড়ে জেলেদের জীবন (ছবি: সংগৃহীত)

চরের বিস্তীর্ণ উপকূলে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সাগরের ঢেউ, নৌকার চলাচল আর জেলেদের কর্মব্যস্ততা। শহুরে জীবনের কোলাহল থেকে দূরে এমন পরিবেশ কিছুটা সময়ের জন্য ভ্রমণকারীকে নিয়ে যায় একেবারে অন্য বাস্তবতায়।

প্রকৃতির টান

দুবলার চর শুধু জেলেপল্লি নয়, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যেরও অংশ। আশপাশের নদী, খাল, ম্যানগ্রোভ গাছপালা ও উপকূলীয় পরিবেশ মিলিয়ে এখানে প্রকৃতির নিজস্ব সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও নানা প্রজাতির পাখির দেখা মেলে।

দুবলার চরে মাছ ধরা নৌকা (ছবি: সংগৃহীত)

সমুদ্রের ধারে বসে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখা, নৌপথে সুন্দরবনের দৃশ্য উপভোগ করা কিংবা জেলেদের দৈনন্দিন জীবন কাছ থেকে দেখা- দুবলার চর আপনাকে দেবে প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণের দারুণ অভিজ্ঞতা।

কীভাবে যাবেন

দুবলার চরে যেতে হলে নৌপথই প্রধান ভরসা। খুলনা বা বাগেরহাটের মোংলা হয়ে ট্রলার, লঞ্চ বা নৌযানে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। মোংলা থেকে নৌপথে যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

দুবলার চরে দেখা মিলবে নানা রকম বন্যপ্রাণীর (ছবি: সংগৃহীত)

তবে এটি সাধারণ পর্যটনকেন্দ্রের মতো নয়। এখানে রাতযাপন বা খাবারের নিয়মিত ব্যবস্থা নেই বলে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে, অনুমোদিত নৌযান ও পর্যটন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভ্রমণ করাই নিরাপদ। সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বন বিভাগের নিয়ম ও নির্দেশনা মেনে চলাও জরুরি।

সুন্দরবনের সবুজ, সাগরের নীল জল দেখতে আর জেলেদের সংগ্রামী জীবনের গল্প জানতে দুবলার চর হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের ভ্রমণ মানচিত্রের এক অন্যরকম গন্তব্য।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
১৪৬ বছরে সুকনা স্টেশন, টয় ট্রেনের ইতিহাস দেখতে নতুন গ্যালারি
ইতিহাস আর আড্ডার এক পরিচিত ঠিকানা চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড়
‘হীরার শহর’ সুরতের মেট্রোতেও হীরার ছোঁয়া, ভ্রমণে মিলবে অন্যরকম অভিজ্ঞতা
সর্বশেষ খবর
আবারও ফিরছে লুজ পাউডার, বদলে গেছে ব্যবহারের ধরন
আবারও ফিরছে লুজ পাউডার, বদলে গেছে ব্যবহারের ধরন
বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম
বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম
বিএনডিএসের আত্মপ্রকাশ: প্রথম কমিটির সভাপতি শরীফুল, সম্পাদক শাহনূর
বিএনডিএসের আত্মপ্রকাশ: প্রথম কমিটির সভাপতি শরীফুল, সম্পাদক শাহনূর
মুক্তিযোদ্ধা থেকে সিনেমার নায়ক, মৃত্যুর পরেও জনপ্রিয়তায় জসীম
মুক্তিযোদ্ধা থেকে সিনেমার নায়ক, মৃত্যুর পরেও জনপ্রিয়তায় জসীম
সর্বাধিক পঠিত
দুই অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১১ কোটি টাকা, এক লাখও দিতে পারছে না ব্যাংকটি
দুই অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১১ কোটি টাকা, এক লাখও দিতে পারছে না ব্যাংকটি
অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় ঢুকে ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করলো পুলিশ
অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় ঢুকে ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করলো পুলিশ
একদিন ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি
একদিন ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি
মাঝরাতে আগুনে পুড়লো ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলসহ ২০ দোকান
মাঝরাতে আগুনে পুড়লো ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলসহ ২০ দোকান
দিনদুপুরে সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নিয়ে গেলো দুর্বৃত্তরা, ফিরে এসে চুপচাপ
দিনদুপুরে সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নিয়ে গেলো দুর্বৃত্তরা, ফিরে এসে চুপচাপ