পাহাড়, সমুদ্র আর সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় ট্রেনযাত্রা বেছে নিতে পারেন। চলন্ত ট্রেনের জানালা দিয়ে একদিকে নীল সমুদ্র, অন্যদিকে উপকূলের জনপদ। পুরো পথজুড়েই প্রকৃতির নানা রূপ চোখে পড়ে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরের পাশ ঘেঁষে চলা এই রেলপথ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
সমুদ্রসৈকত, সবুজ পাহাড় ও বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্য পরিচিত শ্রীলঙ্কা। দেশটির রাজধানী কলম্বো থেকে উপকূল ধরে ট্রেনে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিনা ভাটিয়া এই যাত্রার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। তাতে দেখা যায়, রেললাইনের পাশেই আছড়ে পড়ছে সমুদ্রের ঢেউ। মেঘলা আকাশের নিচে ট্রেনের এগিয়ে চলার দৃশ্য যাত্রাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
হিনা জানিয়েছেন, সমুদ্রের বিস্তৃত দৃশ্য, উপকূলীয় বাতাস এবং ট্রেনযাত্রার নিজস্ব আবহ মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটি ছিল স্মরণীয়। তাঁর মতে, শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের পরিকল্পনায় এই যাত্রা রাখলে ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়তে পারে।
উপকূলের পথে যেসব জায়গা দেখতে পারেন
কলম্বো থেকে উপকূলীয় রেলপথে গলে, বেন্তোটা ও আলুথগামার মতো গন্তব্যে যাওয়া যায়। ট্রেনের জানালা থেকে দক্ষিণ উপকূল ও ভারত মহাসাগরের দৃশ্য উপভোগ করার পাশাপাশি মাঝপথের বিভিন্ন শহরে নেমে ঘুরে দেখার সুযোগও রয়েছে। উপকূলের কিছু এলাকায় স্নরকেলিংয়ের মতো জলক্রীড়ার অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়।
যাত্রাপথে চেখে দেখুন স্থানীয় খাবার
শ্রীলঙ্কার সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানতে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া যেতে পারে। ভাত ও কারির পাশাপাশি জনপ্রিয় একটি খাবার হলো ‘পারুপ্পু ভাডাই’। ডাল ও বিভিন্ন মসলার মিশ্রণে তৈরি এই মুচমুচে ভাজা খাবারে মৌরি, মরিচ ও জিরার মতো উপকরণ ব্যবহার করা হয়। উপকূলের কোনো শহরে বিরতি নিলে স্থানীয় খাবারের দোকানে ঢুঁ মারতে পারেন।
কখন যাবেন?
কলম্বো থেকে গলে পর্যন্ত ট্রেনযাত্রায় সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। সাধারণত নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়টিকে উপকূল ভ্রমণের জন্য তুলনামূলক অনুকূল বলে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, মে থেকে আগস্টের মধ্যে মৌসুমি বৃষ্টির কারণে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সমুদ্র উত্তাল থাকলে কিছু এলাকায় সাঁতার কাটাও নিষিদ্ধ থাকতে পারে।
তাই যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি ও টিকিটের প্রাপ্যতা যাচাই করার পাশাপাশি আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং স্থানীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। পরিকল্পনা করে বের হলে শ্রীলঙ্কার এই উপকূলীয় রেলপথে সমুদ্র, প্রকৃতি ও স্থানীয় জীবনের স্বাদ একসঙ্গে উপভোগ করা সম্ভব।