শরতের সোনালি রোদ, পান্না-সবুজ জল আর পাহাড়ের ঢালে রঙিন গ্রাম ইতালির লেক ইসেও যেন প্রকৃতির কোলে এক শান্ত ঠিকানা। লেক কোমো ও লেক গার্দার তুলনায় পর্যটকের ভিড় কম হওয়ায় এখানে মেলে নিরিবিলিতে ছুটি কাটানোর সুযোগ। হ্রদের বুকে অবস্থিত মন্টে ইসোলা ইতালির বৃহত্তম হ্রদ-দ্বীপ। খাড়া পাহাড়, ঘন জঙ্গল, পুরোনো জেলেপল্লি আর রঙিন ভিলায় ঘেরা এই দ্বীপ আপনার মনকে দেবে প্রশান্তির খোঁজ।
সুলজানো থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের ফেরিযাত্রায় পৌঁছানো যায় দ্বীপের বন্দরশহর পেশকিয়েরা মারালিওতে। ডোরাকাটা কাঠের নৌকা আর পাথর বাঁধানো সরু রাস্তা শহরটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। দ্বীপে ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল প্রায় নিষিদ্ধ। তাই হাঁটা কিংবা সাইকেল চালিয়েই ঘুরে দেখতে হয় এখানকার পথঘাট। বন্দরের কাছেই ঘণ্টায় চার ইউরো থেকে সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়।
হ্রদের ধার ঘেঁষে বৃত্তাকার সাইকেলপথটি চলে গিয়েছে জলপাইবাগান, ছোট জনপদ ও মনোরম জলতীরের পাশ দিয়ে। পথে সেনসোলে ও মেনজিনোতে থেমে হ্রদের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এক কাপ এসপ্রেসো হাতে ক্যাফেতে বসে কাটিয়ে দেওয়া যায় কিছুটা সময়। দ্বীপের রাজধানী সিভিয়ানোতে রয়েছে পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে সাজানো কমলা, হলুদ ও হালকা রঙের ভিলা, পুরোনো গির্জা এবং মধ্যযুগীয় পাথরের মিনার।
মন্টে ইসোলার আকর্ষণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়, রয়েছে ঐতিহ্যও। শতাব্দী ধরে এখানে হাতে তৈরি হচ্ছে মাছ ধরার জাল। দ্বীপের খাবারের তালিকায় বিশেষ স্থান রয়েছে শুকনো ও নুনে সংরক্ষিত ‘সারদিনাস’ মাছের। গ্রিল করা পোলেন্টার সঙ্গে পরিবেশিত এই পদ স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির পরিচিত অংশ। মধ্যযুগে ভেনিসকে কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই মাছ ব্যবহৃত হতো বলে প্রচলিত রয়েছে।
দ্বীপের উত্তর প্রান্তে দেখা মেলে খাড়া পাহাড়ের চূড়া ও পান্না-সবুজ জলের অপূর্ব দৃশ্য। কাছেই ইসোলা দি লোরেতো নামে ছোট্ট দ্বীপ, যার ওপর রয়েছে দুর্গের মতো একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবন। শান্ত জলে কায়াক চালানো কিংবা হ্রদের তীর ধরে ধীরগতিতে সাইকেল চালানো দুই অভিজ্ঞতাই ভ্রমণকে করে তোলে স্মরণীয়।
অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য রয়েছে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার হাইকিং পথ। পেশকিয়েরা মারালিওর পাথর বাঁধানো গলি পেরিয়ে পথ ঢুকে পড়েছে ঘন চেস্টনাটের জঙ্গলে। প্রায় ৪৫০ মিটার উচ্চতা অতিক্রম করে এক ঘণ্টার মতো হাঁটলে পৌঁছানো যায় ত্রয়োদশ শতকে নির্মিত সান্তুয়ারিও দেলা মাদোনা দেলা চেরিওলা উপাসনালয়ে। ভেতরের সোনালি বেদি ও ফ্রেস্কোর পাশাপাশি এখানকার প্রধান আকর্ষণ চারপাশের বিস্তৃত দৃশ্য। ওপর থেকে হ্রদের ফেরিগুলোকে খেলনা নৌকার মতো দেখায়।
সন্ধ্যায় শেষ ফেরিগুলো চলে গেলে দ্বীপে নেমে আসে আরও নির্জন পরিবেশ। থাকার জন্য রয়েছে হলিডে অ্যাপার্টমেন্ট ও রেস্তরাঁর সঙ্গে অতিথিকক্ষ। হ্রদের দিকে মুখ করা ঘরে সূর্যাস্তের কমলা আভা উপভোগ করা যায়।