চীনের হাইস্পিড ট্রেনে বিলাসবহুল ভ্রমণ, টিকিটের দাম কত?

আরামদায়ক আসন, ব্যক্তিগত স্ক্রিন, পায়ের বিশ্রামের ব্যবস্থা আর সঙ্গে বিনামূল্যে স্ন্যাকস ও চটি। চীনের হাইস্পিড ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাসে এমনই ভ্রমণ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এক নারী পর্যটক। গুয়াংঝৌ থেকে হংকং যাওয়ার পথে তাঁর এই অভিজ্ঞতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর কেড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, স্যুটকেস হাতে রেলস্টেশনের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ওই পর্যটক। এরপর ট্রেনে উঠে দেখান ফার্স্ট ক্লাসের কেবিন। সাধারণ আসনের তুলনায় এখানে যাত্রীদের জন্য রয়েছে বেশি ব্যক্তিগত পরিসর ও আরামদায়ক পরিবেশ।

কেবিনের অন্দরসজ্জায় রয়েছে ক্রিম রঙের প্রশস্ত আসন ও আধুনিক নকশা। আসনের পাশেই রাখা যায় লাগেজ। ফলে যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের কাছে রাখার সুবিধা রয়েছে।

প্রতিটি আসনের সঙ্গে রয়েছে ব্যক্তিগত স্ক্রিন। আসনের পাশের কনসোলে থাকা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সাহায্যে নিজের পছন্দ অনুযায়ী আসনের অবস্থানও পরিবর্তন করা যায়। পাশাপাশি রয়েছে পায়ের বিশ্রামের জন্য ফুটরেস্ট। কেবিনের আলো ও আলাদা বসার ব্যবস্থা যাত্রাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে।

আসনের পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য দেওয়া হয় ব্যবহার শেষে ফেলে দেওয়ার উপযোগী একজোড়া চটি এবং বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটজাত স্ন্যাকস। ফলে যাত্রাপথে আসন ছেড়ে না উঠেই হালকা খাবার উপভোগ করতে পারেন তাঁরা।

ভিডিওর শেষ দিকে দেখা যায়, দেওয়া চটি পরে প্রশস্ত আসনে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন ওই পর্যটক। তাঁর এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, ট্রেনযাত্রায় আরাম ও ব্যক্তিগত পরিসরকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভিডিওর ক্যাপশনে ওই নারী পর্যটক জানিয়েছেন, গুয়াংঝৌ থেকে হংকং পর্যন্ত একমুখী ফার্স্ট ক্লাসের টিকিটের জন্য তিনি খরচ করেছেন ৯৩ অস্ট্রেলীয় ডলার। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৭৯৯৯ টাকা।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ট্রেনের সুযোগ-সুবিধা ও ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা তো দারুণ! আমরা গুয়াংঝৌ থেকে শেনঝেন পর্যন্ত বিজনেস ক্লাসে যাত্রা করেছিলাম। পুরো কেবিনে আমরা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। অস্ট্রেলিয়ায় এমন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমাদের কখনও হবে না।”

অন্য এক ব্যবহারকারী অবশ্য জানিয়েছেন, সব রুটে একই ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় না। তাঁর কথায়, “আমরা গুয়াংঝৌ থেকে হংকং গিয়েছিলাম। সেই ট্রেনটি ছিল অনেক পুরোনো এবং সেখানে শুধু পুরোনো ধরনের ফার্স্ট ক্লাসের আসন ছিল।”

আরেকজন সংক্ষেপে লিখেছেন, “এটা সত্যিই খুব ভালো।”

চীনের হাইস্পিড ট্রেনের এই অভিজ্ঞতা আবারও তুলে ধরেছে, যাতায়াতের ক্ষেত্রে আরাম ও বাড়তি সুযোগ-সুবিধা অনেক যাত্রীর কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ট্রেনের ধরন, রুট ও টিকিটের শ্রেণিভেদে অভিজ্ঞতা এবং সুযোগ-সুবিধায় পার্থক্য থাকতে পারে।