ইকোনমি ক্লাসে বেশি লেগরুম যেসব বিমান সংস্থায়

দীর্ঘ আকাশযাত্রায় ইকোনমি ক্লাসের আসনে পা ছড়িয়ে বসার পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক। কিন্তু সব বিমান সংস্থায় আসনের মধ্যবর্তী দূরত্ব সমান নয়। কোথাও তুলনামূলক বেশি জায়গা মেলে, আবার কোথাও সীমিত জায়গায় দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়। ২০২৬ সালে সিম্পল ফ্লাইং-এর তুলনামূলক প্রতিবেদনে জাপান এয়ারলাইনস, অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ও এমিরেটসের ইকোনমি ক্লাসে সর্বোচ্চ ৩৪ ইঞ্চি সিট পিচের কথা উঠে এসেছে।

জাপান এয়ারলাইনস, এএনএ ও এমিরেটসে ৩৪ ইঞ্চি সিট পিচ

বিজনেস ট্রাভেলার ও কনডে নাস্ট ট্রাভেলার-এর তথ্য অনুযায়ী, জাপান এয়ারলাইনস (জেএএল), অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ এবং এমিরেটসের ইকোনমি ক্লাসে আসনের সারির মধ্যবর্তী দূরত্ব সর্বোচ্চ ৩৪ ইঞ্চি বা প্রায় ৮৬ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার। বিমান চলাচলের ভাষায় এই পরিমাপকে বলা হয় ‘সিট পিচ’। পরপর দুই সারির আসনের একই বিন্দুর মধ্যকার দূরত্ব দিয়ে এটি নির্ধারণ করা হয়। যদিও এটি হাঁটু ও সামনের আসনের মধ্যকার প্রকৃত ফাঁকা জায়গার সমান নয়, তবে যাত্রীদের বসার জায়গা তুলনা করতে এই মাপ গুরুত্বপূর্ণ।

জাপান এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে ইকোনমি ক্লাসের আসন ২-৪-২ বিন্যাসে সাজানো। অন্যদিকে, এএনএর দূরপাল্লার উড়োজাহাজের অধিকাংশ বহরে সিট পিচ ৩৪ ইঞ্চি। এমিরেটসের এয়ারবাস এ৩৮০ উড়োজাহাজেও একই দূরত্ব পাওয়া যায়।

কোরিয়ান এয়ারেও ৩৩–৩৪ ইঞ্চি

কোরিয়ান এয়ারের ইকোনমি ক্লাসে আসনের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৩৩ থেকে ৩৪ ইঞ্চি, অর্থাৎ প্রায় ৮৩ দশমিক ৮ থেকে ৮৬ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার। দীর্ঘ ফ্লাইটে পা রাখার জায়গার ক্ষেত্রে এই পার্থক্য যাত্রীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

জেটব্লু, ক্যাথে প্যাসিফিক ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস

তুলনামূলক তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে জেটব্লুর সিট পিচ ৩২ দশমিক ৩ ইঞ্চি বা প্রায় ৮২ সেন্টিমিটার। ক্যাথে প্যাসিফিক, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও কান্টাসে এই দূরত্ব ৩২ ইঞ্চি বা প্রায় ৮১ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার।

অন্যদিকে, সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসে আসনের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৩১ দশমিক ৮ ইঞ্চি এবং আলাস্কা এয়ারলাইনসে ৩১ ইঞ্চি। সাধারণত ইকোনমি ক্লাসে সিট পিচ ৩১ থেকে ৩২ ইঞ্চির মধ্যে থাকে। তবে বিমান সংস্থা ও উড়োজাহাজের ধরন অনুযায়ী এই পরিমাপ বদলে যায়। কিছু স্বল্প খরচের বিমান সংস্থায় তা ২৮ ইঞ্চি পর্যন্ত কম হতে পারে।

টিকিট কাটার আগে যা জানা জরুরি

আসনের মধ্যবর্তী দূরত্ব বেশি হলেই যে প্রত্যেক যাত্রীর ভ্রমণ সমান আরামদায়ক হবে, তা নয়। যাত্রীর উচ্চতা, আসনের নকশা, সামনের আসনের অবস্থান এবং কেবিনের বিন্যাসও পা রাখার জায়গার অনুভূতিতে প্রভাব ফেলে। একই বিমান সংস্থার সব উড়োজাহাজেও সিট পিচ এক রকম নাও হতে পারে।

তাই দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটের টিকিট কাটার আগে নির্দিষ্ট ফ্লাইটে কোন মডেলের উড়োজাহাজ চলবে, আসনের বিন্যাস কেমন এবং ইকোনমি ক্লাসে সিট পিচ কত এসব তথ্য যাচাই করে নেওয়া ভালো। কারণ আরামদায়ক যাত্রার ক্ষেত্রে বিমান সংস্থার নামের পাশাপাশি নির্দিষ্ট উড়োজাহাজের আসনব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: এনডিটিভি