শেরপুরের পাহাড়ঘেরা এই তীর্থস্থানে মিলবে প্রকৃতি ও প্রশান্তির ছোঁয়া

সবুজে ঘেরা পাহাড়, নিরিবিলি পরিবেশ আর প্রার্থনার আবহে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর বারোমারি চার্চ যেন প্রকৃতি ও ধর্মীয় তীর্থস্থানের এক অনন্য উদাহরণ। গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই ধর্মীয় স্থান শুধু খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানই নয়, প্রকৃতি ও স্থানীয় সংস্কৃতির টানে ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও আকর্ষণীয়। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এই পাহাড়ঘেরা এলাকায়।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী বারোমারি এলাকায় অবস্থিত সাধু লিওর খ্রিষ্টধর্মপল্লি। প্রায় ৪২ একর জমির ওপর ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ধর্মপল্লি পরবর্তী সময়ে পরিচিতি পায় ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান হিসেবে। ১৯৯৮ সালে স্থানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তীর্থস্থান ঘোষণা করা হয়। পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে গড়ে ওঠা এই প্রাঙ্গণের পরিবেশে রয়েছে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পাহাড়ি প্রকৃতির সেতুবন্ধন।

চারপাশের সবুজ পাহাড় আর শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। ধর্মীয় স্থাপনা ঘুরে দেখা, প্রার্থনার পরিবেশ অনুভব করা এবং প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি ভ্রমণের ক্ষেত্রে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে।

প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বারোমারিতে আয়োজন করা হয় ফাতেমা রানীর বার্ষিক তীর্থোৎসব। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী ভক্ত এখানে সমবেত হন। মোমবাতি হাতে পাহাড়ি পথে আলোক শোভাযাত্রা, সমবেত প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। রাতের অন্ধকারে পাহাড়ি পথে মোমবাতির আলোয় তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

তবে উৎসবের সময় ছাড়াও বছরের অন্য দিনগুলিতে এখানে ঘুরে আসা যায়। সেক্ষেত্রে যাওয়ার আগে গির্জা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও প্রার্থনার সময় জেনে নেওয়া ভালো।

ঢাকা থেকে বাসে শেরপুরের নালিতাবাড়ী যাওয়া যায়। নালিতাবাড়ী শহরে পৌঁছে স্থানীয় অটোরিকশা, সিএনজিচালিত যান বা ভাড়ার গাড়িতে বারোমারি চার্চে যেতে পারবেন। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের আগে রাস্তার অবস্থা ও স্থানীয় পরিবহণের ব্যবস্থা জেনে নিন।

বারোমারি ভ্রমণের সঙ্গে চাইলে নালিতাবাড়ীর অন্যান্য দর্শনীয় স্থানও ঘুরে দেখতে পারেন। গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে কাছাকাছি মধুটিলা ইকোপার্কও ভ্রমণসূচিতে রাখা যায়।

প্রকৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ নিতে চাইলে শেরপুরের বারোমারি চার্চ হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের গন্তব্য। পাহাড়ের শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটিয়ে ফিরে আসতে পারেন নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে।