শিলাবৃষ্টির মতো ঝরে পড়েছিল হাজার হাজার পোকার লার্ভা

২০২২ সালের গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে তীব্র গরমের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রচণ্ড তাপে ময়লার পাত্রে জমে থাকা খাবারের উচ্ছিষ্ট থেকে জন্ম নেয় অসংখ্য পোকার লার্ভা। এক বাড়ির ময়লার পাত্র পরিষ্কার করতে গিয়ে উচ্চচাপের পানির স্প্রে ব্যবহার করেন এক বাসিন্দা। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানির চাপে শত শত, এমনকি হাজার হাজার লার্ভা ছিটকে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বাড়ি, গাড়ি, বাগান, ফুটপাত ও জানালার ওপর।

লন্ডনে ওই গ্রীষ্মে তাপমাত্রা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। বাতাস ছিল গরম, আর্দ্র ও ভারী। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ায় চারপাশের পরিবেশ হয়ে ওঠে ধুলাময়। এর মধ্যে ময়লার পাত্রে জমে থাকা খাবারের উচ্ছিষ্ট থেকে ছড়াতে থাকে তীব্র দুর্গন্ধ। বিশেষ করে একটি বাড়ির পাত্র থেকে বেরোনো দুর্গন্ধ এতটাই অসহনীয় ছিল যে, পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নিঃশ্বাস আটকে রাখতে হতো প্রতিবেশীদের।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। এক রবিবার পাশের বাড়িতে বারবিকিউয়ের আয়োজন করা হয়। সসেজ, মুরগির মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার গ্রিল করা হলেও খাবারের উচ্ছিষ্ট যথাযথভাবে সরানো হয়নি। পরে সেগুলো ময়লার ব্যাগে জমিয়ে রাখা হয়। প্রচণ্ড গরমে ব্যাগগুলোর ভেতরে থাকা খাবার পচতে শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যে সেগুলোতে নীল মাছির আনাগোনা বাড়ে এবং বংশবিস্তার করতে থাকে পোকার লার্ভা।

ঘটনার দিন বাড়িটির এক বাসিন্দাকে ময়লার বড় পাত্রের ভেতরে ঝুঁকে থাকতে দেখা যায়। তিনি দুই হাত পাত্রের ভেতরে ঢুকিয়ে ময়লা বের করার চেষ্টা করছিলেন। পাশে পড়ে ছিল ছেঁড়া কয়েকটি ময়লার ব্যাগ। সেখান থেকে চুঁইয়ে পড়ছিল বাদামি রঙের পচা তরল। ব্যাগগুলোর চারপাশে উড়ছিল নীল মাছির ঝাঁক।

কিছুক্ষণ পর ওই বাসিন্দা উচ্চচাপের পানির স্প্রে যন্ত্র নিয়ে ফিরে আসেন। ময়লার পাত্র পরিষ্কারের সময় পানির প্রবল ধাক্কায় ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য সাদা লার্ভা। দেখতে অনেকটা চালের দানার মতো এসব লার্ভা বাতাসে ছিটকে গিয়ে আশপাশের জানালা, দেয়াল, গাড়ি, বাগান, ঝোপঝাড়, ফুটপাত ও ময়লার পাত্রের ওপর পড়তে থাকে।

ঘটনাটি দেখে আশপাশের বাসিন্দারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। কেউ কেউ প্রথমে মনে করেছিলেন, শিলাবৃষ্টির মতো কিছু পড়ছে। কী ঘটছে তা দেখতে কয়েকজন দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু বাইরে পা রাখতেই তাঁদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে লার্ভা ছড়িয়ে পড়ার ভয়াবহ দৃশ্য।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, জানালা বন্ধ থাকায় তাঁর ঘরের ভেতরে লার্ভা ঢুকতে পারেনি। তবে সেগুলো জানালার কার্নিশে পড়েও কিলবিল করছিল। অন্যদিকে, যে ব্যক্তি ময়লার পাত্র পরিষ্কার করছিলেন, তাঁর চুল ও মুখেও লেগে ছিল ছিটকে পড়া লার্ভা। পরে তাঁকে ঘরে গিয়ে ঝাড়ু ও ময়লা তোলার পাত্র আনতে দেখা যায়।

প্রচণ্ড গরমে খাবারের উচ্ছিষ্ট দ্রুত পচে যাওয়া এবং ময়লার পাত্রে মাছি ও লার্ভার বংশবিস্তার—এই ঘটনাটি তারই একটি চরম উদাহরণ। বিশেষ করে গরমের সময় খাবারের বর্জ্য দীর্ঘক্ষণ খোলা বা অপরিষ্কার পাত্রে জমিয়ে রাখলে দুর্গন্ধ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়তে পারে। তাই বর্জ্য দ্রুত সরানো, ময়লার ব্যাগ ভালোভাবে বন্ধ রাখা এবং পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।

 

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান