২০২৭ সালে ৩০০ বছরে পা দিচ্ছে ভারতীয় যে শহর, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতেও সেরা

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুর ২০২৭ সালে প্রতিষ্ঠার ৩০০ বছর পূর্ণ করবে। এ বছরকে সামনে রেখে শহরটি জায়গা পেয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ‘বেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৭’ তালিকায়। ছয়টি মহাদেশের ২৫টি স্থান নিয়ে তৈরি এই তালিকায় জয়পুরকে নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে এর ঐতিহাসিক স্থাপত্য, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং জয়পুর সাহিত্য উৎসবের ২০তম আসর।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের বার্ষিক এই তালিকায় এমন স্থানগুলোকে তুলে ধরা হয়, যেখানে আগামী বছরে উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন, ঐতিহাসিক উদ্‌যাপন কিংবা প্রকৃতিনির্ভর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। জয়পুরের ৩০০ বছর পূর্তি এবং সাহিত্য উৎসবের বিশেষ আয়োজন ২০২৭ সালে শহরটির প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে পারে।

তালিকার অন্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মিসরের লুক্সর, মালয়েশিয়ার পেনাং এবং জাপানের নিইগাতা। প্রাচীন মন্দির ও সমাধির জন্য পরিচিত লুক্সরে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। পেনাং পরিচিত স্থানীয় খাবার ও ঐতিহাসিক সড়কের জন্য। জাপানের নিইগাতায় রয়েছে আঞ্চলিক খাবার, ঐতিহ্যবাহী সাকে পানীয় এবং উপকূলীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ে উপকূলঘেঁষা সড়কপথের জন্য তালিকায় স্থান পেয়েছে। মিসৌরি ও আরকানসাসের দক্ষিণাঞ্চলের ওজার্কস অঞ্চলে রয়েছে প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণ ও বাইরের নানা কার্যক্রমের সুযোগ। চিলির কেপ ফ্রোওয়ার্ড পাতাগোনিয়ার দুর্গম অংশে অবস্থিত। আফ্রিকার মালাউইতে বন্য প্রাণী পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি মালাউই হ্রদের আশপাশের অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়।

ইউরোপের তালিকাভুক্ত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি, স্পেনের সান্তান্দের, জার্মানির লাইপজিগ এবং স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিজ অ্যান্ড গ্যালোওয়ে। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে নরওয়ের ভেস্টল্যান্ড, পুয়ের্তো রিকো, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন ও বাল্টিমোর, চীনের চেংদু, গ্রেনাডা, ব্রাজিলের সালভাদর, কানাডার হ্যালিফ্যাক্স, আর্মেনিয়ার ট্রান্সককেশীয় ট্রেইল, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, মেক্সিকোর মায়া কা'আন, পোল্যান্ডের ত্রিসিটি এবং পেরুর কুয়েলাপ। ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাটালিনা দ্বীপ আলাদাভাবে পাঠকদের পছন্দের সেরা স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

জয়পুরে ইতিহাস, স্থাপত্য ও সাহিত্য উৎসব

জয়পুরের ৩০০ বছর পূর্তির বছরে শহরটির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়তে পারে। দুর্গ, প্রাসাদ, ঐতিহাসিক স্থাপনা, রঙিন বাজার এবং হাতে তৈরি পণ্যের জন্য পরিচিত এই শহর রাজস্থানের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি।

২০২৭ সালের ১৪ থেকে ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জয়পুর সাহিত্য উৎসবের ২০তম আসর। পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনে লেখক, পাঠক ও চিন্তাবিদেরা সাহিত্য, ইতিহাস, রাজনীতি, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় চার লাখ মানুষের সমাগম ঘটে এই উৎসবে। সাহিত্যপ্রেমীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহী পাঠক ও পর্যটকেরাও এতে অংশ নেন।

জানুয়ারিতে জয়পুর ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে সাহিত্য উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখা যেতে পারে। আমের ফোর্টের প্রশস্ত প্রাঙ্গণ ও কারুকার্যময় অন্দরসজ্জা রাজপুত স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। হাওয়া মহলও জয়পুরের পরিচিত স্থাপনাগুলোর একটি। এর সম্মুখভাগের জানালা ও নকশা পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত যন্তর মন্তরে রয়েছে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের জন্য নির্মিত বিভিন্ন যন্ত্র। আকাশের বিভিন্ন বস্তুর অবস্থান ও গতিবিধি পরিমাপের উদ্দেশ্যে এগুলো তৈরি করা হয়েছিল। স্থাপনাটি ভারতের ঐতিহাসিক বিজ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

গয়না, ব্লক প্রিন্ট ও মিনাকারির শহর

জয়পুরের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সঙ্গে শহরটির পরিচয় দীর্ঘদিনের। গয়নার জন্য পরিচিত জোহরি বাজারে বিভিন্ন ধরনের অলংকার পাওয়া যায়। শহরের স্থানীয় দোকান ও কর্মশালায় তৈরি হয় হাতে ব্লক প্রিন্ট করা কাপড়। কাঠের ব্লকে নকশা ফুটিয়ে কাপড়ে রং ছাপানোর এই পদ্ধতি রাজস্থানের বস্ত্রশিল্পের পরিচিত ধারা।

ধাতুর ওপর রঙিন এনামেল দিয়ে নকশা করার শিল্প মিনাকারিও জয়পুরের কারুশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গয়না ও অন্যান্য অলংকারে এই কাজ দেখা যায়। ঐতিহ্যবাহী নকশা, স্থানীয় কারিগরদের দক্ষতা এবং বাজারের বৈচিত্র্য শহরটির শিল্প-সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরে।

ইতিহাস, স্থাপত্য, কারুশিল্প ও সাহিত্য আয়োজনে ২০২৭ সালে জয়পুরের ৩০০ বছর পূর্তি আন্তর্জাতিক পর্যটন আলোচনায় শহরটিকে নতুন করে সামনে আনবে। বিশেষ করে জানুয়ারির সাহিত্য উৎসব ঘিরে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখার জন্য আলাদা সময় রাখা যেতে পারে।