কম খরচে বিদেশ ভ্রমণের উপায় জানালেন ২৩ বছর বয়সী পর্যটক

বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু বাজেট নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন? বিমানের টিকিট, হোটেল, খাবার, কেনাকাটা থেকে শুরু করে মুদ্রা বিনিময় সব মিলিয়ে ভ্রমণের খরচ অনেক সময় হিসাবের বাইরে চলে যায়। তবে আগে থেকে পরিকল্পনা করা এবং কিছু কৌশল অনুসরণ করলে বিদেশে ঘোরাঘুরির খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক ভ্রমণে খরচ কমানোর এমন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর জয়ন্ত শর্মা। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব কৌশল ব্যবহার করছেন তিনি। বিমানের টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে থাকার জায়গা বেছে নেওয়া, কেনাকাটা ও টাকা বিনিময় সব ক্ষেত্রেই খরচ কমানোর উপায় জানিয়েছেন এই ভ্রমণপ্রেমী।

বিদেশ ভ্রমণের বাজেটের বড় অংশই খরচ হয় বিমানের টিকিটে। তাই টিকিট কেনার আগে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভাড়া যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন জয়ন্ত। তাঁর মতে, গুগল ফ্লাইটস ও স্কাইস্ক্যানার একসঙ্গে ব্যবহার করলে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের টিকিটের দাম তুলনা করে সুবিধাজনক বিকল্প খুঁজে পাওয়া যায়।

জয়ন্তের পরামর্শ, মঙ্গলবার ও বুধবার টিকিট বুক করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন পর্যটকেরা। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণের অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ আগে টিকিট কাটার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে টিকিটের দাম গন্তব্য, মৌসুম, চাহিদা ও এয়ারলাইনসের ওপর নির্ভর করে। 

একাকী ভ্রমণ করলে থাকার খরচ কমানোর একটি উপায় হতে পারে হোস্টেল বেছে নেওয়া। জয়ন্তের মতে, হোটেলের পরিবর্তে হোস্টেলে থাকলে অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা যায়।

তিনি উদাহরণ হিসেবে জাপান ও সুইজারল্যান্ডের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এসব দেশে হোটেলের বদলে হোস্টেলে থাকলে আবাসন খরচ প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে খরচের পার্থক্য নির্ভর করবে শহর, ভ্রমণের সময় এবং থাকার জায়গার ধরন ও সুযোগ-সুবিধার ওপর।

বিদেশে কেনাকাটা করার সময় কিছু দেশে পর্যটকদের জন্য কর ফেরত বা ট্যাক্স রিফান্ডের ব্যবস্থা থাকে। জয়ন্তের পরামর্শ, এ ধরনের সুবিধা নিতে কেনাকাটার সময় পাসপোর্ট সঙ্গে রাখা উচিত।

তবে কর ফেরতের নিয়ম দেশভেদে আলাদা। কোথায় কেনাকাটা করছেন, কোন পণ্য কিনছেন এবং কত টাকার কেনাকাটা করছেন- এসবের ওপর নির্ভর করতে পারে সুবিধাটি পাওয়া যাবে কি না। তাই কেনাকাটার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো।

ভ্রমণে গিয়ে প্রয়োজনীয় কোনো জিনিস কিনতে হলে অনেক সময় বেশি দাম দিতে হয়। বিশেষ করে অপরিচিত দেশে পরিচিত পণ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তালিকা তৈরি করে ব্যাগ গুছিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জয়ন্ত।

তাঁর মতে, স্মার্ট প্যাকিং শুধু ব্যাগের জায়গা বাঁচায় না, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার খরচও কমাতে সাহায্য করে। তবে বিমানের নির্ধারিত ওজনসীমা এবং ব্যাগেজ নীতির বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

বিদেশে গিয়ে স্থানীয় মুদ্রা সংগ্রহের সময়ও অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। জয়ন্তের মতে, বিমানবন্দরের মুদ্রা বিনিময় কাউন্টারে অনেক সময় তুলনামূলক কম সুবিধাজনক বিনিময় হার পাওয়া যায়। তাই বেশি পরিমাণ অর্থ বিনিময়ের আগে শহরের বিভিন্ন বৈধ বিনিময়কেন্দ্রের হার যাচাই করে নেওয়া ভালো।

এ ছাড়া এটিএম থেকে টাকা তোলা, কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন এবং মুদ্রা রূপান্তরের ফিসহ খরচ বেড়ে যেতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে নিজের ব্যাংক কার্ডের চার্জ ও বিদেশে ব্যবহারের নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।

জয়ন্তের পরামর্শ, প্রচলিত ব্যাংক কার্ডের বিকল্প হিসেবে ওয়াইজ বা রেভলুটের মতো আর্থিক পরিষেবাও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এসব পরিষেবা সব দেশে বা সবার জন্য সমানভাবে উপলভ্য নয়। বাংলাদেশ থেকে ব্যবহার করতে চাইলে অ্যাকাউন্ট খোলার যোগ্যতা, লেনদেনের নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট ফি আগে যাচাই করে নিতে হবে।

বিদেশ ভ্রমণে স্মারক, পোশাক কিংবা নানা ধরনের পণ্য কেনার প্রতি অনেকেরই আগ্রহ থাকে। তবে জয়ন্তের মতে, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার বদলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নতুন জায়গা ঘুরে দেখা, স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা এবং ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন এসবই ভ্রমণের স্মরণীয় অংশ হয়ে থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, আগে থেকে পরিকল্পনা করা, টিকিট ও আবাসনের খরচ তুলনা করা, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলা এবং মুদ্রা বিনিময়ের ফি সম্পর্কে সচেতন থাকলে বিদেশ ভ্রমণের বাজেট সামলানো সহজ হতে পারে।