খুলছে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে, দিল্লি থেকে চণ্ডীগড় যেতে সময় বাঁচবে ৫০ মিনিট

ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে চণ্ডীগড় সড়কপথে এই যাত্রা আরও সহজ হতে চলেছে। নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে পথের যানজট এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় বাঁচতে পারে। ফলে শুধু নিয়মিত যাত্রী নয়, উত্তর ভারতের পাহাড়ি গন্তব্যে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের জন্যও খুলে যেতে পারে নতুন সম্ভাবনা।

এনডিটিভি ট্রাভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অম্বালা-চণ্ডীগড় গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ের অম্বালা-মোহালি অংশটি আগামী ১৫ ডিসেম্বর চালু হওয়ার কথা। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের এই সড়কটি তৈরি হয়েছে ব্যস্ত শহরাঞ্চলের যানজট এড়িয়ে দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা দিতে।

যানজট এড়িয়ে দ্রুত যাত্রা

দিল্লি থেকে চণ্ডীগড় যাওয়ার পথে অম্বালা, জিরাকপুর ও ডেরা বাসির মতো এলাকার যানজট অনেক সময় যাত্রার গতি কমিয়ে দেয়। নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে জিরাকপুর ও ডেরা বাসির ব্যস্ত রাস্তা এড়িয়ে গাড়ি চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে। এতে যাত্রাপথের সময় কমার পাশাপাশি দীর্ঘ সড়কযাত্রায় ভোগান্তিও কমবে।

নতুন সড়কটি অম্বালার দিক থেকে মোহালির আইটি সিটি চক পর্যন্ত সংযোগ দেবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মোহালি- কুরালি গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে, যা ইতিমধ্যেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। দুটি পথ একসঙ্গে ব্যবহার করা গেলে হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের মধ্যে যাতায়াত আরও মসৃণ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

শুধু চণ্ডীগড় নয়, পাহাড়ে যাওয়ার পথেও সুবিধা

চণ্ডীগড় উত্তর ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। সেখান থেকে পর্যটকেরা শিমলা, মানালিসহ হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন জনপ্রিয় পাহাড়ি গন্তব্যের দিকে যাত্রা করেন। নতুন সড়ক সংযোগ চালু হলে দিল্লি থেকে আসা পর্যটকদের জন্য অম্বালা, মোহালি ও কুরালি হয়ে পরবর্তী গন্তব্যে এগিয়ে যাওয়া আরও সুবিধাজনক হবে।

এই করিডর থেকে রূপনগর ও কীরতপুরের দিকেও যাওয়া সম্ভব। সেখান থেকে হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার পথ রয়েছে। পাশাপাশি পঠানকোট হয়ে জম্মু ও শ্রীনগরের দিকে যাওয়া পর্যটকদের জন্যও উত্তর ভারতের বিস্তৃত সড়ক নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মোহালি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীদের পাশাপাশি আশপাশের অঞ্চলে যাতায়াত করা মানুষেরও সুবিধা হবে।

ভ্রমণ পরিকল্পনায় কী মাথায় রাখবেন?

বাংলাদেশ থেকে যারা দিল্লি হয়ে চণ্ডীগড় বা হিমাচল প্রদেশে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য নতুন এই সড়ক সংযোগ ভবিষ্যতে কাজে আসতে পারে। তবে এক্সপ্রেসওয়ের নির্ধারিত উদ্বোধনের তারিখ এবং বাস্তবে যান চলাচল শুরুর বিষয়টি যাত্রার আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো। নতুন রাস্তা চালু হলেও মোট যাত্রার সময় নির্ভর করবে দিল্লিতে যাত্রার শুরুর স্থান, যানজট, বিরতি এবং চণ্ডীগড়ের পরবর্তী গন্তব্যের ওপর।

সব মিলিয়ে, উত্তর ভারতের সড়ক যোগাযোগ আরও উন্নত করার পথে নতুন এই এক্সপ্রেসওয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যাদের ভ্রমণসূচিতে দিল্লি, চণ্ডীগড় এবং হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি গন্তব্য রয়েছে, তাদের জন্য এই পথ ভবিষ্যতে দীর্ঘ যাত্রাকে আরও স্বচ্ছন্দ করে তুলতে পারে।