চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়, ঝিরিপথ আর ঝর্ণার সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করার জন্য বেশ জনপ্রিয় ছাগলকান্দা ঝর্ণা। যদিও কমলদহ ট্রেইলের মধ্যে অবস্থিত এই ঝর্ণাটি তুলনামূলক কম পরিচিত। পাহাড়ি পথ ধরে এগোতে গিয়ে দেখা মিলবে পাথুরে ঝিরি, সবুজে ঘেরা বন আর একাধিক ছোট-বড় জলধারার। যারা ট্রেকিং পছন্দ করেন, তাদের জন্য ছাগলকান্দা হতে পারে এক দিনের ভ্রমণের ভালো পরিকল্পনা।
কমলদহ ট্রেইল ধরে ছাগলকান্দা ঝর্ণা
ছাগলকান্দা ঝর্ণা চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার কমলদহ ট্রেইলে অবস্থিত। এই ট্রেইলে ছোট-বড় কয়েকটি ঝর্ণা রয়েছে। এর মধ্যে কমলদহ ঝর্ণা অন্যতম পরিচিত। ঝর্ণাটিতে তিনটি ধাপ থাকলেও নিচ থেকে সাধারণত একটি ধাপই দেখা যায়।
কমলদহ ঝর্ণা পেরিয়ে পাহাড়ি পথ ধরে আরও ওপরে উঠলে ছাগলকান্দা ঝর্ণায় পৌঁছানো যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা হাঁটার পর পথটি ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো দুই দিকে ভাগ হয়ে যায়। সেখান থেকে বাঁ দিকের পথ ধরে এগোতে হবে। কিছু দূর যাওয়ার পর আবার পথ ভাগ হলে দ্বিতীয়বারও বাঁ দিকের পথ বেছে নিলেই ছাগলকান্দা ঝর্ণার কাছে পৌঁছানো যাবে।
পাহাড়ি এই পথ পাথুরে ও পিচ্ছিল হতে পারে। তাই ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা না থাকলে স্থানীয় গাইড সঙ্গে নেওয়া ভালো। বর্ষায় পানির প্রবাহ বাড়লেও ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি থাকে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে ট্রেইলে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে ছাগলকান্দা ঝর্ণায় যেতে প্রথমে চট্টগ্রামগামী বাসে উঠে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট বাজারে নামতে হবে। বাসের ধরন ও পরিবহন সংস্থাভেদে ভাড়া আনুমানিক ৪০০ থেকে ১,২০০ টাকা।
ট্রেনে যেতে চাইলে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে নেমে সেখান থেকে বাস বা স্থানীয় পরিবহনে বড় দারোগারহাট বাজারে যেতে পারবেন। ট্রেনের টিকিটের ভাড়া আসন ও ট্রেনের ধরন অনুযায়ী আনুমানিক ২৬৫ থেকে ৯০৯ টাকা।
বড় দারোগারহাট বাজার থেকে মহাসড়ক ধরে ঢাকার দিকে এগোলে একটি ইটভাটা দেখতে পাবেন। ইটভাটা পার হয়ে ডান দিকের মাটির রাস্তা ধরে কিছু দূর এগোলেই ঝিরিপথ পাওয়া যাবে। এই পথ ধরে প্রায় ২০ মিনিট হাঁটলে কমলদহ ঝর্ণায় পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে পাহাড়ি পথ ধরে ওপরে উঠলেই ছাগলকান্দা ঝর্ণা।
ভ্রমণে কত খরচ হবে
ঢাকা থেকে বাসে যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি আনুমানিক ৮০০ থেকে ২,৪০০ টাকা। এর সঙ্গে স্থানীয় যানবাহন, খাবার ও পানির খরচ যোগ হবে। সব মিলিয়ে এক দিনের ভ্রমণের জন্য জনপ্রতি প্রায় ১,২০০ থেকে ৩,২০০ টাকা বাজেট রাখতে পারেন। দলবেঁধে গেলে স্থানীয় যাতায়াত ও গাইডের খরচ ভাগ করে নেওয়া সম্ভব।
কোথায় থাকবেন
এক দিনে ঘুরে ফিরে আসার পরিকল্পনা থাকলে হোটেলে থাকার প্রয়োজন নাও হতে পারে। রাত কাটাতে চাইলে সীতাকুণ্ড বাজারের আবাসিক হোটেলগুলো খুঁজে দেখতে পারেন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত হোটেল সাইমুন ও হোটেল সৌদিয়ায় থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
কোথায় খাবেন
সীতাকুণ্ড বাজারে বেশ কিছু সাধারণ মানের খাবারের হোটেল রয়েছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত আল আমীন হোটেলেও খেতে পারেন। তবে ট্রেইলের ভেতরে খাবারের দোকান পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি ও শুকনো খাবার রাখুন।
আশপাশে আরও যা ঘুরে দেখবেন
ছাগলকান্দা ঝর্ণা ভ্রমণের সঙ্গে সময় মিলিয়ে সীতাকুণ্ডের অন্যান্য স্থানও ঘুরে দেখতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে চন্দ্রনাথ মন্দির, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, কুমিরা ফেরিঘাট এবং ঝরঝরি ঝর্ণা ট্রেইল। এক দিনে সব জায়গা ঘোরার পরিকল্পনা না করে সময় ও যাতায়াতের সুবিধা অনুযায়ী কয়েকটি স্থান বেছে নিতে পারেন।