স্যুটকেস হারিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

স্যুটকেস হারানো, ভাঙা অবস্থায় সেটি ফেরত পাওয়া এবং পরে দেওয়া বিকল্প ব্যাগের মান নিয়ে অসন্তোষ—সব মিলিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে এক ভারতীয় যাত্রীর অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এয়ারলাইনসটি ক্ষমা চেয়ে পরবর্তী সময়ে তথ্য জানানোর আশ্বাস দিয়েছে। তবে যাত্রীর অভিযোগের গুরুত্ব ও এয়ারলাইনসের দায় নিয়ে নেটমাধ্যমে মতভেদ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভ্রমণবিমার শর্ত খতিয়ে দেখার পরামর্শও দিয়েছেন অনেকে।

স্যুটকেস হারানো নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কৌস্তুভ মেহতা নামের ওই ভারতীয় যাত্রী জানান, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে নয়াদিল্লি যাওয়ার পথে তার একটি স্যুটকেস হারিয়ে যায়। দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাকে জানানো হয়, বালিতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড স্টাফদের ট্যাগিংয়ে ভুল হওয়ায় ব্যাগটি বিমানে ওঠেনি।

মেহতার দাবি, স্যুটকেসটিতে তার স্ত্রীর ত্বকের যত্নের প্রয়োজনীয় প্রসাধনসামগ্রী ছিল। সেগুলো না পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন রুটিনে বিঘ্ন ঘটে এবং বেশ অসুবিধার মুখে পড়তে হয়।

কয়েক দিন পর স্যুটকেসটি ফেরত এলেও সেটির হাতল ভাঙা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে অভিযোগ জানানোর পর কয়েক দিন বাদে এয়ারলাইনসের কর্মীরা ব্যাগটি নিয়ে যান। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও কোনও খবর পাননি বলে দাবি মেহতার।

তার পোস্ট অনুযায়ী, পরে এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্যুটকেসটি মেরামত করা সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে তাকে একটি নতুন ব্যাগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কিন্তু মেহতার অভিযোগ, বিকল্প ব্যাগটির মান আগেরটির তুলনায় খারাপ ছিল। এমনকি তাতে তার পুরোনো স্যুটকেসের মতো টিএসএ লকও ছিল না। তাই ব্যাগটি নিতে অস্বীকার করেন তিনি। এরপর ফের অভিযোগ জানিয়ে আগের স্যুটকেসের সমমান ও বৈশিষ্ট্যের ব্যাগ দেওয়ার দাবি জানান।

মেহতা তার পোস্টে লেখেন, এ ঘটনায় তিনি ও তার স্ত্রী চরম অসুবিধা এবং মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন। অথচ সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। এয়ারলাইনসের কর্মীদের আচরণের সমালোচনা করে তাদের ‘গ্রাহকদের প্রতি উদাসীন, অসংবেদনশীল ও নির্বিকার’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেহতার অভিযোগের জবাবে এক্সে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস দুঃখ প্রকাশ করে। পরে আরেকটি উত্তরে সংস্থাটি জানায়, সংশ্লিষ্ট দল যত দ্রুত সম্ভব তাকে পরবর্তী তথ্য জানানোর চেষ্টা করবে।

নেটমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মেহতার অভিযোগে সবাই সহমত হননি। কয়েকজনের প্রশ্ন, ত্বকের যত্নের প্রসাধনসামগ্রী না পাওয়ার মতো অসুবিধাকে ‘চরম ভোগান্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা কতটা যুক্তিযুক্ত।

একজন মন্তব্য করেন, ‘ত্বকের যত্নের রুটিন ব্যাহত হওয়াকে চরম ভোগান্তি বলা একটু বেশিই হয়ে গেলো।’ আরেকজন লেখেন, ‘এত চরম ভোগান্তি! পরের বার আশা করি ব্যাগ হারানোর ঘটনা ঘটবে, তখন এই ঘটনাটিকে হাস্যকর মনে হবে।’

একই সঙ্গে কয়েকজন সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের পক্ষেও কথা বলেছেন। তাদের মতে, এমিরেটস ও কাতার এয়ারওয়েজের মতো সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসও ভালো পরিষেবার জন্য পরিচিত। ভুল যে কোনও সংস্থার ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে।

এয়ারলাইনসটির সঙ্গে নিজেদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেকে। একজন দাবি করেন, ২০ বছর ধরে বিমানে যাতায়াতের অভিজ্ঞতায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসকেই সবচেয়ে দক্ষ ও পরিবারবান্ধব সংস্থা হিসেবে পেয়েছেন। অন্য একজন জানান, ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই সংস্থায় ২০টিরও বেশি ফ্লাইটে যাতায়াত করেছেন এবং প্রতিবারই ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।

বিতর্কের মধ্যে উঠে এসেছে বিমানবন্দরে ব্যাগ সামলানোর দায়িত্বের প্রসঙ্গও। এক ব্যবহারকারীর বক্তব্য, বিমানবন্দরে সাধারণত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্টরা লাগেজ ওঠানো-নামানোর কাজ করেন। তবে ব্যাগ হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগের সমাধানে এয়ারলাইনসেরও ভূমিকা থাকে।

ভ্রমণবিমা কি সমস্যার সমাধান করতে পারে?

বিতর্কের মধ্যে এক ব্যবহারকারী সরাসরি ভ্রমণবিমার দাবি জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, বিমা থাকলে সেখান থেকে ক্ষতিপূরণ চাওয়াই যুক্তিযুক্ত।

হারানো, দেরিতে পাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত লাগেজের ক্ষেত্রে ভ্রমণবিমা আর্থিক সহায়তা দিতে পারে। তবে তা নির্ভর করে বিমার শর্ত ও আওতাভুক্ত সুবিধার ওপর। তাই ভ্রমণের আগে বিমাপত্রে লাগেজ দেরিতে পাওয়া, স্থায়ীভাবে হারিয়ে যাওয়া এবং চেক-ইন করা ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কী সুবিধা রয়েছে, তা দেখে নেওয়া জরুরি।

কিছু বিমা পরিকল্পনায় লাগেজ দেরিতে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার যুক্তিসংগত খরচ ফেরত দেওয়া হয়। লাগেজ স্থায়ীভাবে হারিয়ে গেলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। আবার কিছু পরিকল্পনায় ক্ষতিগ্রস্ত লাগেজের মেরামত বা প্রতিস্থাপনের খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

তবে সব বিমায় এই সুবিধাগুলো একই রকম নয়। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা, বাদ দেওয়া শর্ত এবং দাবি জানানোর নিয়মও প্রযোজ্য হতে পারে। তাই ভ্রমণবিমা থাকলেই সব ধরনের ক্ষতির টাকা পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।