বর্ষা নামতেই চারদিকে থইথই পানি। তারই মাঝে ছোট ছোট দ্বীপের মতো জেগে রয়েছে একের পর এক গ্রাম। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বিস্তীর্ণ জলরাশির বুকে ভেসে রয়েছে সবুজের ছোট ছোট টুকরো। কোথাও নৌকার চলাচল, কোথাও পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা। সব মিলিয়ে অপূর্ব এক দৃশ্য। এমনই বর্ষার রূপ দেখতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন নাটোরের হালতি বিল।
বর্ষা এলেই বদলে যায় নাটোরের হালতি বিলের চেহারা। যত দূর চোখ যায়, দেখা মেলে জলরাশি। তার মাঝে ছোট ছোট দ্বীপের মতো জেগে থাকে গ্রাম। পানিতে ডুবে যায় পাটুল-খাজুরা সড়কের অনেকটা অংশ। তখন সড়ক আর বিল যেন একাকার হয়ে তৈরি করে অপূর্ব এক দৃশ্য। প্রকৃতির এই রূপ দেখতে বর্ষায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন হালতি বিলে। অনেকেই জায়গাটিকে বলেন ‘উত্তরবঙ্গের মিনি কক্সবাজার’।
নাটোর সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে নলডাঙ্গা উপজেলায় অবস্থিত এই বিল। বর্ষাকালে এর বিস্তীর্ণ জলরাশি, চারপাশের সবুজ আর পানির মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা গ্রামগুলো এক অন্য রকম পরিবেশ তৈরি করে। পাটুল-খাজুরা সড়ক ধরে এগোলে চোখে পড়বে ‘পাটুল মিনি কক্সবাজার’ লেখা সাইনবোর্ড। সেখান থেকেই বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। পানির উপর দিয়ে নৌকায় ঘুরে দেখার সুযোগও রয়েছে।
হালতি বিলের সৌন্দর্য অবশ্য বর্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বছরের অন্য সময়েও বিলের আশপাশের গ্রামীণ পরিবেশ উপভোগ করা যায়। তবে বর্ষায় পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে বিলের বিস্তৃতি ও দ্বীপের মতো গ্রামগুলির দৃশ্য সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে নাটোর যাওয়া যায়। বাসে যেতে চাইলে গ্রিনলাইন, হানিফ, শ্যামলী ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের মতো পরিবহণ নিয়মিত চলাচল করে। রাজশাহীগামী বাসেও নাটোরে নামা যায়। ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে নাটোরগামী ট্রেনের সময়সূচি ও টিকিটের তথ্য আগে দেখে নিন। নাটোর শহরে পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হালতি বিল যাওয়া যায়। শহর থেকে যেতে আনুমানিক ৩০ মিনিট সময় লাগে।
কোথায় থাকবেন
হালতি বিল ঘুরে দেখার পর রাতে থাকতে পারেন নাটোর শহরে। সেখানে ভিআইপি হোটেল, হোটেল আরপি, হোটেল মিল্লাতসহ বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। বাজেট ও সুবিধা অনুযায়ী থাকার জায়গা বেছে নিতে পারেন। ছুটির দিনে গেলে আগে থেকে হোটেল বুক করে রাখা ভালো।
কী খাবেন
নাটোরে গেলে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। শহরের বিভিন্ন রেস্তরাঁয় ভাত, মাছ, মাংসসহ নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়। ঘোরাঘুরির ফাঁকে স্থানীয় মিষ্টির দোকান থেকেও নাটোরের বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা চেখে দেখতে পারেন।