নদী, সবুজ আর সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সৌন্দর্যে মুগ্ধ করবে মুহুরী সেচ প্রকল্প

নদীর বুকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের রঙিন আভা, চারপাশে সবুজের সমারোহ আর শীতের অতিথি পাখির কলকাকলি- প্রকৃতির এমন আয়োজন দেখতে পারবেন ফেনীর মুহুরী সেচ প্রকল্পে। সোনাগাজী উপজেলার বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই প্রকল্প। এটি শুধু কৃষিকাজের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানেও সারা বছর এখানে ভিড় করেন ভ্রমণপিপাসুরা।

শীতের সময় মুহুরী সেচ প্রকল্পের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও মনোরম। অতিথি পাখির আনাগোনা আর তাদের ডাক চারপাশকে মুখরিত করে রাখে। ভোরের আলোয় নদীর জলরাশি কিংবা বিকালের শেষ সূর্যের আভা দুই সময়েই প্রকৃতির রূপ উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়।

১৯৮৬ সালে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সেচ প্রকল্প। এখানে রয়েছে ৪০টি গেটবিশিষ্ট রেগুলেটর ও ক্লোজার ড্যাম। প্রকল্পের কাছেই রয়েছে দেশের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রায় ছয় একর জমির ওপর ২০০৫ সালে এটি স্থাপন করা হয়। আশপাশে রয়েছে নদীতে ভাসমান মাছ চাষ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, ডেইরি ফার্ম, নার্সারি ও কৃষিভিত্তিক খামার। সব মিলিয়ে প্রকৃতি ও স্থানীয় জীবনযাত্রার এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় এখানে।

মুহুরী নদীর পাড়ে বসে সময় কাটানো, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য দেখা কিংবা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ সবই ভ্রমণের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়। তবে জায়গাটির পর্যটন সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। ভালো মানের হোটেল, মোটেল ও পর্যটকবান্ধব সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয়। নিরাপত্তা নিয়েও স্থানীয়দের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নির্জন এলাকায় না থাকা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র সাবধানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কীভাবে যাবেন মুহুরী সেচ প্রকল্পে

ঢাকা থেকে মুহুরী সেচ প্রকল্পে যেতে হলে প্রথমে ফেনী শহরে পৌঁছাতে হবে। ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ফেনীগামী বাস পাওয়া যায়। এ ছাড়া চট্টগ্রামগামী বাসে উঠেও ফেনীর মহিপাল এলাকায় নামতে পারেন। বাসের পাশাপাশি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনে ফেনী রেলস্টেশনে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে ফেনীর দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। যানজট ও যাত্রাপথের পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় লাগতে পারে তিন থেকে চার ঘণ্টা।

ফেনী শহর থেকে মুহুরী সেচ প্রকল্পে যাওয়ার দুটি পথ রয়েছে। প্রথমত, ফেনীর লালপোল থেকে মিল্লাত, ফারাবি, জয় বা প্রতিশ্রুতি পরিবহনের বাসে সোনাগাজী উপজেলা সদরে যেতে পারেন। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সরাসরি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো যায়। দ্বিতীয়ত, সোনাগাজী উপজেলা সদর থেকে স্থানীয় বাসে বাদামতলী গিয়ে সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় মুহুরী সেচ প্রকল্পে যাওয়া সম্ভব। ফেনীর মহিপাল মোড় থেকেও সরাসরি সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ করে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফেনী শহর থেকে সোনাগাজীর দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার এবং সোনাগাজী সদর থেকে প্রকল্পের দূরত্ব আনুমানিক ১০ কিলোমিটার।

পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে গেলে ফেনী শহর থেকে গাড়ি ভাড়া করেও যেতে পারেন। এতে যাতায়াতের সময় নিজের সুবিধামতো ঠিক করা যায়।

প্রকল্প এলাকায় ঘোরার জন্য অন্তত অর্ধেক দিন হাতে রাখা ভালো। নদীর পাড়, বাঁধ ও আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে বিকালের দিকে গেলে সূর্যাস্তও উপভোগ করতে পারবেন। তবে সন্ধ্যার আগেই ফেরার ব্যবস্থা করে নেওয়া ভালো।

থাকার ব্যবস্থা: মুহুরী প্রকল্পের কাছাকাছি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডাকবাংলো রয়েছে। তবে সেখানে থাকার অনুমতি ও কক্ষের ব্যবস্থা আগে থেকে জেনে নিতে হবে। সোনাগাজী উপজেলা সদরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো এবং বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। চাইলে ফেনী শহরেও রাত কাটিয়ে পরদিন ঘুরতে যেতে পারেন।