১০ ঘণ্টার পথ মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায়!

দিল্লি থেকে শুরু হয়ে আগরা, কানপুর, লখনউ ও অযোধ্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরকে যুক্ত করবে প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন করিডর। পরে বারাণসী, পটনা ও শিলিগুড়ি হয়ে এই রেলপথ পৌঁছবে গুয়াহাটি পর্যন্ত।

দূরপাল্লার যাত্রায় সময় বাঁচাতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারত। প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন করিডর চালু হলে দিল্লি থেকে বারাণসী পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরকে দ্রুতগতির রেলপথে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত রেলপথ শুরু হবে দিল্লি থেকে। সেখান থেকে আগরা, কানপুর, লখনউ ও অযোধ্যা হয়ে বারাণসীর দিকে এগোবে। পরে পটনা ও শিলিগুড়ি হয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার কথা এই করিডরের। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিল্লি থেকে আগরা পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৫৯ মিনিট।

৮০৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায়

দিল্লি থেকে বারাণসীর দূরত্ব প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। বর্তমানে তেজস এক্সপ্রেস ও রাজধানী এক্সপ্রেসের মতো দ্রুতগতির ট্রেনেও এই পথ পাড়ি দিতে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে সময় লাগে প্রায় ৮ ঘণ্টা। সেখানে প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন চালু হলে মাত্র ৩ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যাবে বারাণসী।

প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, দিল্লি থেকে প্রয়াগরাজ যেতে সময় লাগবে ৩৩ মিনিট, কানপুর ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট এবং লখনউ পৌঁছতে ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট। দিল্লি থেকে আগরা যেতে লাগবে মাত্র ৫৯ মিনিট।

অন্য দিকে, বারাণসী থেকে লখনউ পৌঁছতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ২১ মিনিট। বারাণসী থেকে আগরা যেতে সময় লাগতে পারে ২ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট। বারাণসী থেকে পটনা পৌঁছনো যাবে প্রায় এক ঘণ্টায়।

বারাণসীতে ট্রেন বদলের সুবিধাও রাখা হবে। ফলে শিলিগুড়ি থেকে আসা যাত্রীরা একটি বুলেট ট্রেন থেকে নেমে দিল্লিগামী অন্য ট্রেনে উঠতে পারবেন। এতে বিভিন্ন শহরের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে।

কী ভাবে কমবে যাত্রার সময়?

সাধারণ ট্রেনের তুলনায় বুলেট ট্রেন অনেক বেশি গতিতে চলতে পারে। ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে চলার ক্ষমতা থাকায় দীর্ঘ দূরত্ব অল্প সময়ে পাড়ি দেওয়া সম্ভব।

এই পরিষেবার জন্য তৈরি করা হবে পৃথক উচ্চগতির রেল করিডর। ফলে সাধারণ যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেনের সঙ্গে একই রেলপথ ভাগ করে নিতে হবে না বুলেট ট্রেনকে। পাশাপাশি থাকবে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং উন্নত রেল পরিকাঠামো।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে যোগাযোগ অনেক দ্রুত হবে। কাজ, পড়াশোনা, পর্যটন কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে যাঁরা যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্যও সুবিধা বাড়বে। তবে কবে থেকে এই পরিষেবা চালু হবে এবং চূড়ান্ত সময়সূচি কী হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়নি।

সূত্র: এনডিটিভি