বিদেশে কয়েক দিনের ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করছেন? ঘোরার তালিকায় রাখতে পারেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী আবুধাবিকে। আধুনিক স্থাপত্য, শিল্পকলা, ইতিহাস, সমুদ্রের নীচের বিস্ময়কর জগৎসহ পর্যটকদের জন্য আকর্ষণের অভাব নেই এই শহরে। সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা ঘুরে এসেছেন আবুধাবি থেকে। সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তাঁর সফরের নানা মুহূর্ত। তাঁর ঘোরার তালিকা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে জেনে নিন শহরের পাঁচটি দর্শনীয় জায়গার কথা।
টিমল্যাব ফেনোমেনা
মালাইকার সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল টিমল্যাব ফেনোমেনা আবুধাবি। এটি এক অভিনব শিল্পকেন্দ্র, যেখানে আলো, রং ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে নানা শিল্পকর্ম। সাধারণ জাদুঘর বা ছবির প্রদর্শনীর মতো শুধু দাঁড়িয়ে দেখার জায়গা নয় এটি। দর্শকের চলাফেরা ও চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে বদলে যায় কিছু শিল্পকর্ম। ফলে দর্শকেরাও সরাসরি সেই অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠতে পারেন।
১৩ বছর বা তার বেশি বয়সিদের প্রবেশমূল্য ১৫৫ দিরহাম, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ২৩০ টাকা। ৪ থেকে ১২ বছর বয়সিদের টিকিটের দাম ৫৫ দিরহাম, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৮৫৫ টাকা। চার বছরের কম বয়সিদের প্রবেশ বিনামূল্যে।
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ
আবুধাবির অন্যতম দর্শনীয় স্থাপনা শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ। মালাইকাও ঘুরে দেখেছেন এই মসজিদ। এর বিশাল গম্বুজ, সাদা মার্বেলের মেঝে এবং সূক্ষ্ম কারুকাজ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মসজিদটিতে রয়েছে ৮২টি গম্বুজ ও এক হাজারেরও বেশি স্তম্ভ। ফুলের নকশায় সাজানো স্থাপত্যের পাশাপাশি ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ দেওয়া ঝাড়বাতিও বিশেষ আকর্ষণ। প্রধান প্রার্থনাকক্ষে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হাতে বোনা কার্পেট।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের নামে এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। এখানে প্রবেশের জন্য সাধারণত কোনও টিকিট লাগে না, তবে আগে থেকে প্রবেশের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয়। দর্শনার্থীদের শালীন পোশাক পরতে হবে। মহিলাদের মাথা, হাত ও পা ঢেকে রাখা আবশ্যক। সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে মসজিদটি।
ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম
পৃথিবীতে প্রাণের ইতিহাস জানতে ঘুরে দেখতে পারেন আবুধাবির ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম। মালাইকাও তাঁর সফরে এই জাদুঘরে গিয়েছিলেন। এখানে রয়েছে চাঁদের একটি আসল পাথর, যা দর্শনার্থীরা ছুঁয়ে দেখতে পারেন। ‘অ্যাশ শাক্কাহ ০০২’ নামে পরিচিত এই পাথরটি একসময় চাঁদেরই অংশ ছিল। গ্রহাণুর আঘাতে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে ছিটকে মহাকাশে চলে আসে সেটি। পরে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের টানে লিবিয়ার মরুভূমিতে এসে পড়ে। ২০২৪ সালে বিজ্ঞানীরা পাথরটিকে চাঁদের অংশ হিসেবে শনাক্ত করেন।
জাদুঘরের ‘স্টোরি অব আর্থ’ বিভাগে রয়েছে ডাইনোসরের জীবাশ্ম। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করা টাইরানোসরাস রেক্সের জীবাশ্ম। এ ছাড়াও দেখা যাবে চারটি দাঁতবিশিষ্ট হাতির প্রতিরূপ। প্রায় ৭০ লাখ বছর আগে আবুধাবি অঞ্চলে এই প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল। সাদিয়াত দ্বীপে ৩৫ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে জাদুঘরটি।
ন্যাশনাল অ্যাকোয়ারিয়াম আবুধাবি
সমুদ্রের নীচের জগৎ দেখতে চাইলে যেতে পারেন ন্যাশনাল অ্যাকোয়ারিয়াম আবুধাবিতে। আল কানায় অবস্থিত এই অ্যাকোয়ারিয়াম মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম। এখানে ৩০০টিরও বেশি প্রজাতির প্রায় ৪৬ হাজার সামুদ্রিক প্রাণী রয়েছে। ১০টি আলাদা বিষয়ভিত্তিক বিভাগে ছড়িয়ে রয়েছে ৬০টিরও বেশি আকর্ষণ।
এখানে হাঙর, শঙ্কুমাছ-সহ নানা সামুদ্রিক প্রাণী দেখার সুযোগ রয়েছে। চাইলে প্রশিক্ষিত ব্যবস্থাপনায় ডুবসাঁতারেও অংশ নিতে পারেন দর্শনার্থীরা। ‘বু তিনাহ আইল্যান্ড’ বিভাগে রয়েছে অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ প্রবালপ্রাচীরের জলাধার। অগভীর সমুদ্র, সামুদ্রিক ঘাসের বন ও ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের প্রাণবৈচিত্র্যও তুলে ধরা হয়েছে এখানে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে অ্যাকোয়ারিয়ামটি।
আবুধাবির খাবার
নতুন কোনও শহরে বেড়াতে গেলে স্থানীয় খাবারের স্বাদ না নিলে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মালাইকাও তাঁর আবুধাবি সফরে সময় বের করেছিলেন পছন্দের খাবার উপভোগ করার জন্য। সমাজমাধ্যমে খাবারের ছবি ভাগ করে নিয়ে হাসিমুখে জানিয়েছিলেন, খাওয়াদাওয়ার পর তিনি বেশ খুশি। আবুধাবিতে গেলে তাই দর্শনীয় স্থান ঘোরার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন রেস্তরাঁয় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।
বাংলাদেশ থেকে আবুধাবি যাওয়ার পরিকল্পনা করলে আগে থেকেই বিমানভাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভিসা এবং দর্শনীয় স্থানগুলির টিকিটের নিয়ম জেনে নিন। বিশেষ করে জনপ্রিয় আকর্ষণগুলিতে যাওয়ার আগে প্রবেশের সময় ও বুকিংয়ের ব্যবস্থা যাচাই করে নেওয়া ভালো।