জলকেলি পছন্দ করেন? উপভোগ করুন বিনামূল্যে

জলকেলি করতে পছন্দ করেন? অথচ নামী ওয়াটার পার্কের চড়া প্রবেশমূল্য দিতে চান না? তা হলে ঘুরে আসতে পারেন কেরালার এক অচেনা ঠিকানা থেকে। মালাপ্পুরম জেলার নীলাম্বুরের টিকে কলোনিতে রয়েছে প্রকৃতির তৈরি এক জলকেলির জায়গা। কৃত্রিম সুইমিং পুল বা স্লাইড নয়, এখানে নদীখাল, বাঁধ ও প্রাকৃতিক জলধারায় ভেসে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এই জায়গার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পর্যটকেরা শীতল জলে ভেসে বেড়াচ্ছেন, প্রাকৃতিক জলস্লাইডে আনন্দ করছেন। সবচেয়ে বড় কথা, এর জন্য কোনও প্রবেশমূল্য দিতে হয় না।

কীভাবে যাবেন টিকে কলোনি?

কেরালার মালাপ্পুরম জেলার নীলাম্বুরে অবস্থিত টিকে কলোনি। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির বাইরে হওয়ায় এখনও অনেকের কাছেই জায়গাটি অচেনা। চারপাশে সবুজে ঘেরা পরিবেশে জলের মধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে এখানে। বেঙ্গালুরু থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। সড়কপথে নীলাম্বুর শহরে পৌঁছে সেখান থেকে টিকে কলোনি যাওয়া যায়।

নিকটতম বিমানবন্দর কালিকট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। নীলাম্বুরে নিজস্ব রেলস্টেশনও রয়েছে। ফলে ট্রেনেও পৌঁছনো সম্ভব এই এলাকায়।

নীলাম্বুরে আর কী কী দেখবেন?

নীলাম্বুরকে বলা হয় ‘সেগুন কাঠের দেশ’। এখানকার আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্য সেগুন গাছের বৃদ্ধির জন্য বিশেষ উপযোগী। এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ নীলাম্বুর টিক মিউজিয়াম। সেগুন কাঠের ইতিহাস, ব্যবহার এবং বন সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন এখানে।

এ ছাড়া ঘুরে দেখতে পারেন কনোলিস প্লট। এটি এই অঞ্চলের প্রাচীনতম সেগুন বাগানগুলোর অন্যতম। রয়েছে বিখ্যাত কান্নিমারা সেগুন গাছ, যার বিশাল আকার ও বয়স পর্যটকদের আকর্ষণ করে। চ্যালিয়ার নদীর কাছে রয়েছে একটি ঝুলন্ত সেতুও। প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর জন্য এই জায়গাগুলোও ঘুরে দেখতে পারেন।

কখন যাবেন নীলাম্বুর?

নীলাম্বুর পশ্চিমঘাট পর্বতমালার নীলগিরি পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থিত। শহরটির পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে চ্যালিয়ার নদী। আবহাওয়া মনোরম থাকায় ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই এলাকায় বেড়াতে যাওয়ার উপযুক্ত সময়। এই সময়ে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে, ফলে ঘোরাঘুরি করতেও সুবিধা হয়।