ঋষিকেশকে ‘যোগের রাজধানী’ বললেন দিলজিৎ, উঠলেন মহারাজাদের প্রাসাদে

কনসার্টের ব্যস্ততার ফাঁকে একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে ঋষিকেশে পাড়ি দিলেন গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। বর্তমানে ‘অরা ট্যুর’-এর জন্য ভারতে রয়েছেন তিনি। তারই মধ্যে কয়েক দিনের বিরতি নিয়ে ঘুরে এলেন উত্তরাখণ্ডের এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র থেকে। সমাজমাধ্যমে ভ্রমণের একাধিক ছবি ভাগ করে নিয়েছেন দিলজিৎ। সেখানে দেখা গিয়েছে, কখনও প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কখনও খাবার খাচ্ছেন, আবার কখনও হেলিকপ্টারে বসে রয়েছেন। অনুরাগীদের সঙ্গেও সময় কাটাতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি, একটি সঙ্গীতের আসর এবং শিবমন্দিরের ঝলকও ভাগ করে নিয়েছেন গায়ক।

ছবিগুলির সঙ্গে দিলজিৎ লিখেছেন, ‘ঋষিকেশ—যোগের রাজধানী’। তাঁর এই পোস্ট ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে উত্তরাখণ্ডের এই শহরকে ঘিরে।

ঋষিকেশ (ছবি: সংগৃহীত)

মহারাজাদের প্রাসাদে দিলজিৎ

দিলজিতের ছবিতে যে ঐতিহাসিক প্রাসাদটি দেখা গিয়েছে, সেটি নরেন্দ্রনগর প্যালেস। রাজমহল বা ভাইসরয়াল প্যালেস নামেও পরিচিত এই প্রাসাদটি ঋষিকেশের কাছে নরেন্দ্রনগরে অবস্থিত। একসময় এটি ছিল তেহরি গাড়োয়ালের মহারাজাদের সরকারি বাসভবন। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ ভাইসরয়-সহ বহু বিশিষ্ট অতিথিরও আতিথেয়তা করেছে এই প্রাসাদ।

বর্তমানে প্রাসাদটিতে রয়েছে ‘আনন্দা ইন দ্য হিমালয়াজ’ নামে একটি বিলাসবহুল ওয়েলনেস রিট্রিট। স্পা, যোগাসন, ধ্যান এবং নানা ধরনের সুস্থতা-সংক্রান্ত পরিষেবার জন্য পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে দুন উপত্যকা এবং আশপাশের পাহাড়ের মনোরম দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।

ঋষিকেশ মন্দির (ছবি: সংগৃহীত)

ঋষিকেশে গেলে কী কী দেখবেন?

গঙ্গার তীরে উত্তরাখণ্ডে অবস্থিত ঋষিকেশ মন্দির, যোগচর্চা, নদীর সৌন্দর্য এবং অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের জন্য পরিচিত। শহরে গেলে প্রথমেই ঘুরে দেখতে পারেন ত্রিবেণী ঘাট। সন্ধ্যার গঙ্গা আরতি এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। গঙ্গার উপর বিখ্যাত রামঝুলা সেতু পেরিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন আশপাশের এলাকা। সংগীতপ্রেমীদের জন্য রয়েছে বিটলস আশ্রম। ১৯৬৮ সালে বিখ্যাত ব্রিটিশ ব্যান্ড বিটলসের সদস্যরা এখানে কিছু সময় কাটিয়েছিলেন।

অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ হলে গঙ্গায় রিভার রাফটিং, বাঞ্জি জাম্পিং, ক্যাম্পিং কিংবা ট্রেকিংয়ের সুযোগ রয়েছে। আবার নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে কোনও আশ্রমে যোগাসন বা ধ্যানের ক্লাসে অংশ নিতে পারেন। প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটানোর জন্য নীর গড় জলপ্রপাতেও যেতে পারেন। সেখানে পৌঁছতে ছোট ট্রেক করতে হয়।

গঙ্গা নদী (ছবি: সংগৃহীত)

কখন যাবেন ঋষিকেশ?

ঋষিকেশ ভ্রমণের জন্য অক্টোবর থেকে মার্চ মাসকে সাধারণত উপযুক্ত সময় ধরা হয়। এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে, ফলে ঘোরাঘুরি ও বাইরের নানা কার্যকলাপে সুবিধা হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসও ভ্রমণের জন্য ভাল। গঙ্গায় রিভার রাফটিং করতে চাইলে সেপ্টেম্বর থেকে জুনের মধ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে বর্ষাকালে নিরাপত্তার কারণে সাধারণত রাফটিং বন্ধ থাকে।

কীভাবে পৌঁছবেন?

ঋষিকেশের নিকটতম বিমানবন্দর দেরাদুনের জলি গ্রান্ট বিমানবন্দর। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঋষিকেশ পৌঁছনো যায়। ট্রেনে গেলে ঋষিকেশের নিজস্ব রেলস্টেশন রয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের একাধিক বড় শহর থেকে সড়কপথেও সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে।