ছোটবেলায় খেলনা ট্রেনে চড়ে পাহাড়, জঙ্গল আর সবুজ উপত্যকার মধ্যে দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখেননি, এমন মানুষ কমই আছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবে পূরণ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন তামিলনাড়ুর উটি থেকে। নীলগিরি পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই শৈলশহর চা-বাগান, কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়, আঁকাবাঁকা রাস্তা এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য পরিচিত। তবে উটির অন্যতম আকর্ষণ হল এখানকার ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন।
এই রেলপথের সরকারি নাম নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে। ২০০৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা পেয়েছে ভারতের মাউন্টেন রেলওয়ের অন্তর্গত এই রেলপথ। ১১৮ বছরের পুরনো এই ট্রেনে সফর করলে শুধু গন্তব্যে পৌঁছনো নয়, গোটা যাত্রাপথই হয়ে ওঠে উপভোগ্য।
মেট্টুপালায়ম থেকে উদগমণ্ডলম বা উটি পর্যন্ত চলে এই ট্রেন। পথে পড়ে ছবির মতো সুন্দর পাহাড়ি শহর কুনুর। বিশেষ করে কুনুর থেকে উটি পর্যন্ত রেলপথের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। সবুজ চা-বাগানের মাঝখান দিয়ে এঁকেবেঁকে এগিয়ে যায় রেললাইন। কখনও ঘন জঙ্গল, কখনও কুয়াশায় ঢাকা উপত্যকা, আবার কখনও পাহাড় কেটে তৈরি সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলে ছোট্ট ট্রেন। পথে রয়েছে অসংখ্য সেতুও। প্রতিটি বাঁকেই যেন নতুন কোনও ছবির দেখা মেলে।
সম্প্রতি এই টয় ট্রেন সফরের একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, মেঘে ঢাকা পাহাড় আর সবুজের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে ঐতিহ্যবাহী ট্রেনটি। ভিডিওতে দেখে অনেকেই এই রেলপথে সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিক থেকেও নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল ১৯০৮ সালে। পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে ট্রেন চালানোর জন্য এর একটি অংশে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ র্যাক অ্যান্ড পিনিয়ন ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তির সাহায্যে দুর্গম পাহাড়ি পথে ট্রেন চলাচল সম্ভব হয়। যাত্রাপথে রয়েছে অসংখ্য সুড়ঙ্গ ও সেতু।
ইতিহাস, প্রযুক্তি এবং প্রকৃতির এমন সংমিশ্রণই নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়েকে বিশেষ করে তুলেছে। তাই উটি বেড়াতে গেলে শুধু গাড়িতে পাহাড় ঘুরে দেখেই ফিরবেন না। সময় হাতে রেখে এক বার টয় ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতাও সেরে নিতে পারেন। কারণ, অনেক সময় বেড়ানোর গন্তব্যের চেয়েও সেখানে পৌঁছনোর পথ বেশি মনে থেকে যায়।