নিজের বানানো কাপকেকের সামনে ১৪ বছরের আইজায়া টাকেটযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো শহরের ডিজনি ওয়ার্ল্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন ভ্রমণপ্রেমী আইজায়া টাকেট। তবে সাত সদস্যের পুরো পরিবার নিয়ে সেখানে বেড়ানোর খরচ মোটেও কম নয়। তাই বাবা-মা চেয়েছিলেন, তাদের কনিষ্ঠ পুত্র বেড়ে ওঠার পর এসব ভাবুক। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে ছেলেটা প্রায়ই ডিজনি ওয়ার্ল্ডের প্রসঙ্গ তুলতো। বিশেষ করে এক সহপাঠী উদ্বুদ্ধ করায় তার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আইজায়া নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগায়। তখন সে ১৪ বছরের কিশোর। ওই বয়সে কাপকেক বানিয়ে বিক্রি করতে থাকে ছেলেটি। তিনি বলেন, ‘বেড়ে ওঠার সঙ্গে রান্নাঘরে সময় কাটাতে বরাবরই ভালো লাগতো আমার। প্রথমে দাদির ৮৫তম জন্মদিনের পার্টির জন্য কাপকেক বানাই। এরপর আমার এক বন্ধুর গ্র্যাজুয়েশন পার্টির জন্য একই জিনিস রান্না করি। সেগুলো খেয়ে মানুষ প্রশংসা করলো। শুরু হলো অর্ডার পাওয়া।’
দুই বছর আগের কথা। আমেরিকার মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের দেড় হাজার জনবসতির শহর ম্যাডিসনের একমাত্র বেকারি বন্ধ হয়ে যায়। তখনই আইজায়ার সুস্বাদু খাবার তাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। একবছর কাপকেক বিক্রির পর পুরো পরিবারসহ অরল্যান্ডোতে গিয়ে ডিজনি ওয়ার্ল্ড ভ্রমণের টাকা জোগাড় করতে পেরেছেন তিনি।
আইজায়ার মা চেরি টাকেট স্মৃতি হাতড়ে বলেন, ‘ছেলেটা একদিন বললো, কাপকেক বিক্রির আয় দিয়ে ফ্লোরিডা বেড়াতে যেতে চায়। আমি ও আমার স্বামী তখন তাকে নিয়ে বসি। আমরা বলেছিলাম— তুমি তো জানোই, কোনোকিছু নিয়ে সত্যিই সিরিয়াস হলে আমরা তোমাকে সহযোগিতা করবো।’
কাপকেক বিক্রির জন্য আইজায়ার উদ্যোগে বিনিয়োগ করেন তার বাবা-মা। ছেলের ব্যবসার জন্য সব উপাদান কিনে দেন তারা। ফলে আয়ের টাকা পুরোটাই থেকে গেছে তার। ভ্রমণের টাকা জমাতে মা-বাবার ভূমিকা তার জন্য সহায়ক হয়েছে।
২০১৮ সালের নভেম্বরে ডিজনি ওয়ার্ল্ডে আইজায়া টাকেটগত বছরের নভেম্বরে মা, বাবা, ভাই বোন, বেয়াইন ও ভাতিজিকে নিয়ে বেড়িয়েছেন আইজায়া। শহরটিতে ছয় রাত ছিলেন তারা। ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড, ডিসকভারি কোভ ও সিওয়ার্ল্ড দেখার পাশাপাশি একদিন মনোরম সৈকতে দারুণ সময় কেটেছে তাদের। সেই ভ্রমণ নিয়ে তার অনুভূতি, ‘দিনগুলো সত্যি উচ্ছ্বাস ও আরামের ছিল।’
ফ্লোরিডায় দারুণ কিছু সময়কে ছাপিয়ে কাপকেকের ব্যবসা আইজায়াকে আরও বড় সুফল এনে দিয়েছে। চেরি বললেন, ‘অনেকভাবেই ব্যাপারটা আইজায়ার জন্য ভালো হয়েছে। সে হয়তো একটু চাপা স্বভাবের বা লাজুক হতে পারতো। কিন্তু বেচাকেনার ফলে তাকে মানুষের সঙ্গে কথোপকথন করতে হয়েছে। তারা ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। ভালো ব্যাপার হলো, সময় ধরে কাজ করাটা শিখেছে সে। শুধু কেক বানানো নয়, জীবনের অনেক শিক্ষা এর মধ্য দিয়ে পেয়েছে আমার ছেলে।’
ডিসকভারি কোভে ডলফিনের সঙ্গে সাঁতরেছেন আইজায়া টাকেটগ্র্যাজুয়েশন পার্টি, জন্মদিন, বেবি শাওয়ার, বিয়ে ও স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য কাপকেক তৈরি করতেন আইজায়া। গত বছর তিনটি গ্র্যাজুয়েশন পার্টিতে ৭৫০টি কাপকেক বিক্রি করেছেন তিনি। এটাই ছিল তার পাওয়া সবচেয়ে বড় অর্ডার। এছাড়া পিনাট বাটার কাপ, আন্দেজ মিন্ট, টোয়াইক্স, হারশি, রোলো, আলমন্ড, স্ট্রবেরি, ক্যারোট কেক, পাম্পকিন, রেড ভেলভেট, ক্যারামেল অ্যাপল বানাতে পারেন তিনি। এগুলোর প্রতিটি একডজন বিক্রি হয় ২০ ডলারে।
অরল্যান্ডোতে ডিজনি ওয়ার্ল্ডে সিন্ডেরেলার দুর্গফ্রেঞ্চ সিল্ক পাই বানাতেও দক্ষ আইজায়া। রান্নায় এখন নিরীক্ষা করেন তিনি। মিটলোফ ও টেটার টট হটডিশ পদ দুটি সেভাবেই এসেছে। ইতোমধ্যে দুই বছরের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে গেছেন তিনি। এবার ফোর্ড ব্র্যান্ডের নীল রঙা পিকআপ কেনার ইচ্ছে তার। তবে মাকে এই ভ্রমণপিপাসু বলে রেখেছেন, ‘আরেকদিন ক্যালিফোর্নিয়ার ডিজনিতে গেলে খুব ভালো লাগতো!’
সূত্র: সিএনএন ট্রাভেল