স্বল্প খরচে কলাগাছিয়া ভ্রমণের সুবাদে পর্যটকরা উপভোগ করছেন বিশ্বের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের শ্বাসমূলে ভরা গেওয়া, গরান, বাইন, পশুর, গোলপাতা, হোগলাপাতা, বানর, মায়াবী হরিণ, মদনটাক পাখিসহ হাজারও প্রাণীবৈচিত্র্য।
কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে এসে সুন্দরবনের মায়াবী চিত্রল হরিণ দেখা যায় অনায়াসে। এছাড়া বানরেরা থাকে কাছাকাছি। বানরদের খাবার দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না ভ্রমণপ্রেমীরা!
বুড়িগোয়ালিনি স্টেশন থেকে অনুমতি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার কিংবা নৌকায় কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে নামতেই পর্যটকদের স্বাগত জানায় বানর দল। কারও হাতে খাবার দেখলে তারা সুযোগ বুঝে ছিনিয়েও নিয়ে যায়। বানরের বাচ্চাদের খেলা দেখে মুগ্ধ হন পর্যটকরা। কেউবা ছবি কিংবা সেলফি তুলেই হারিয়ে যান প্রকৃতির মাঝে।
ওয়াচ টাওয়ারে উঠে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। হেঁটে হেঁটে ভ্রমণপিপাসুরা প্রকৃতি উপভোগ করেন।
স্থানীয় ভ্রমণপিপাসু রমেন রায়ের মন্তব্য, এই অঞ্চলে মানুষের চিত্তবিনোদনের কোনও সুযোগ নেই। তাই একটু সময় পেলে কলাগাছিয়ায় চলে আসে সবাই। বনবিভাগ আরেকটু নজর দিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করলে পর্যটকদের কাছে কলাগাছিয়া আরও আর্কষণীয় হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবোতোষ মন্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সাতক্ষীরা জেলা দিয়ে সড়কপথে বাস থেকে নেমেই সুন্দরবন দেখা যায়। দেশের যেকোনও এলাকা থেকে বাসে চড়ে শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে এলেই সামনে পড়বে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। একটু ভেতরে লোকালয় থেকে কাছাকাছি কলাগাছিয়ায় খুব অল্প খরচে ট্রলারে যাওয়া যায়।
সুন্দরবনে পর্যটকদের সেবায় বনকর্মীরা সবসময় প্রস্তুত বলে আশ্বাস দেন স্টেশন কর্মকর্তা আক্তার হোসেন। তার কথায়, ‘বনবিভাগের আন্তরিকতা আছে বলেই গত বছরের তুলনায় এবার বেশি পর্যটকের আনাগোনা শুরু হয়েছে কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে।’
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল-আল-মামুন বলেন, ‘সাতক্ষীরা রেঞ্জের কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বনবিভাগের পক্ষ থেকে নানান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের যেন কোনও বিড়ম্বনার মুখে পড়তে না হয় সেজন্য বনকর্মীরা আন্তরিকভাবে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।’