ভ্রমণে সুভেনির কেন কিনবেন?

কোথাও ঘুরতে গিয়ে আমরা ছবি তুলি, ভিডিও করি, সবচে ভালো ছবিটি বাছাই করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিই। কিন্তু কয়েক বছর পর সেই ছবিগুলো আর দেখা হয় না। আবার ঘুরতে গেলে কাছের বন্ধু স্বজনদের জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসার চল আমাদের মধ্যে আছে। কম বাজেটে কীভাবে সবার জন‍্য গিফট আনবেন সেটা নিয়ে পড়তে হয় ভাবনায়। অথচ একটি ছোট্ট সুভেনির— হতে পারে একটি মগ, ম্যাগনেট, বুকমার্ক, হাতের তৈরি পুতুল বা স্থানীয় কারুশিল্প— দীর্ঘদিন ধরে সেই ভ্রমণের গল্প জীবন্ত করে রাখে। 

‘সুভেনির’ শব্দটি এসেছে ফরাসি ভাষা থেকে, যার অর্থ ‘স্মরণ করা’। অর্থাৎ সুভেনিরের মূল উদ্দেশ্যই হলো কোনও স্থান, মানুষ বা অভিজ্ঞতার স্মৃতি ধরে রাখা। তাই বিশ্বের প্রায় সব জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রেই স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে এমন সুভেনির পাওয়া যায়। 

সুভিনিরের ভেতর থাকে জানা-অজানা গল্প 

একটি ছোট্ট ফ্রিজ ম্যাগনেট, একটি পোস্টকার্ড বা হাতে বোনা কাপড় শুধু একটি পণ্য নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রা। জাপানে গেলে কোকেশি পুতুল, তুরস্কে নজর বোনচুক (নীল চোখের তাবিজ), নেপালে থাংকা চিত্রকর্ম, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে হাতে তৈরি শাল বা কারুশিল্প- এসবই সেই অঞ্চলের পরিচয় বহন করে। 

সুভেনির

বাংলাদেশেও রয়েছে সমৃদ্ধ সুভেনির সংস্কৃতি। কক্সবাজারের ঝিনুকের তৈরি সামগ্রী, সিলেটের চা, রাজশাহীর সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, যশোরের নকশিকাঁথা কিংবা পাহাড়ি অঞ্চলের বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্প শুধু স্মৃতিচিহ্ন নয়, দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেরও প্রতীক। 

শুধু স্মৃতি নয়, স্থানীয় অর্থনীতির নীরব সহায়ক 

একটি সুভেনির কেনা মানে শুধু একটি স্মারক সংগ্রহ করা নয়; এর মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পী, কারিগর ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও সহায়তা করা হয়। পর্যটননির্ভর অনেক অঞ্চলে হাজারো পরিবার এই হস্তশিল্প ও স্মারকপণ্য বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। পর্যটকদের কেনাকাটা তাদের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে হাতে তৈরি পণ্য কিনলে স্থানীয় কারুশিল্প টিকে থাকার সুযোগ পায় এবং নতুন প্রজন্মও এই ঐতিহ্যবাহী পেশার প্রতি আগ্রহী হয়। 

কী ধরনের সুভেনির কিনবেন? 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমন কিছু কেনাই ভালো যা স্থানীয়ভাবে তৈরি, বহন করা সহজ এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করা যায়। প্লাস্টিকের তৈরি সাধারণ স্মারকের বদলে স্থানীয় কারুশিল্প, বই, খাদ্যপণ্য, কাপড় বা পরিবেশবান্ধব পণ্য বেশি অর্থবহ হতে পারে। তবে কেনার আগে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে পণ্যটি বৈধভাবে তৈরি হয়েছে এবং এটি কোনও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী, প্রবাল বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদান দিয়ে তৈরি নয়। 

সুভেনির

মোবাইল ফোনে হাজার হাজার ছবি জমা থাকলেও একটি ছোট্ট সুভেনিরের আবেদন কমে যায়নি। বরং কোনও শেলফে রাখা একটি মূর্তি, দেয়ালে ঝোলানো একটি মুখোশ বা ফ্রিজে লাগানো একটি ম্যাগনেট প্রতিদিনই ভ্রমণের সেই মুহূর্তগুলোকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।