দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে এবার নতুন টয় ট্রেন যাত্রা, জানুন ভাড়া ও সময়

দার্জিলিং মানেই পাহাড়ি রাস্তা, মেঘে ঢাকা চূড়া আর দূরে দেখা কাঞ্চনজঙ্ঘা। কিন্তু পাহাড়কে দেখার এমন এক অভিজ্ঞতা রয়েছে, যেখানে গাড়ির জানলা নয়, বরং ছোট্ট রেলগাড়ির কামরাই হয়ে ওঠে দর্শনের জায়গা। পাহাড়ের ঢালে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা সেই টয় ট্রেন এবার পর্যটকদের নিয়ে যাবে এক নতুন পথে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে নতুন একটি জয়রাইড চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরনো দার্জিলিং-ঘুম-বাতাসিয়া লুপের পরিচিত সফরের পাশাপাশি এবার টয় ট্রেন ছুটবে কার্শিয়ং থেকে মহানদী পর্যন্ত। পথে পড়বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় উঠে আসা পাগলাঝোরা।

নতুন এই সফরের সূচনা হবে ১ অক্টোবর থেকে। উৎসবের মরসুমে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য তাই থাকছে টয় ট্রেনে ভ্রমণের একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা।

একই পথে দু’ধরনের ট্রেন

কার্শিয়ং থেকে মহানদী হয়ে আবার কার্শিয়ং এই পথেই চলবে নতুন জয়রাইড। দিনে দু’বার এই সফরের আয়োজন করা হবে। তবে দু’টি যাত্রার অভিজ্ঞতা এক হবে না। একটি ট্রেন চলবে ডিজেল ইঞ্জিনে, অন্যটি ঐতিহ্যবাহী কয়লার ইঞ্জিনে।

ডিজেল ইঞ্জিনের সফরের নাম রাখা হয়েছে ‘মুক্তধারা’। আর কয়লার ইঞ্জিনে চলা জয়রাইডের নাম ‘রেড পান্ডা’। নাম দু’টির মধ্যেও রয়েছে পাহাড়ের সঙ্গে যোগসূত্র। রবীন্দ্রনাথের ‘মুক্তধারা’ রচনায় কার্শিয়ং অঞ্চলের পাগলাঝোরার উল্লেখ রয়েছে। সেই স্মৃতিকে সামনে রেখেই ডিজেল চালিত জয়রাইডের নামকরণ।

ট্রেনের জানলা দিয়ে দেখা যাবে পাগলাঝোরা

এই নতুন রুটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলির একটি হল পাগলাঝোরা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় যে ঝরনার উল্লেখ রয়েছে, তার পাশ দিয়েই এগিয়ে যাবে টয় ট্রেন। ফলে এই যাত্রা সাহিত্য ও প্রকৃতির সঙ্গে একসঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও তৈরি করবে।

বর্ষার পর পাহাড় যখন সবুজে ভরে ওঠে, তখন ট্রেনের জানলা দিয়ে এই পথের দৃশ্য আরও মনোরম হয়ে উঠতে পারে।

কত খরচ হবে?

নতুন জয়রাইডে ভ্রমণের খরচ ট্রেনের ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করছে। যেমন- মুক্তধারা’ ডিজেল জয়রাইড ১,০৩০ টাকা এবং ‘রেড পান্ডা’ কয়লা ইঞ্জিন জয়রাইড ১,৫৩০ টাকা। অর্থাৎ ঐতিহ্যবাহী কয়লার ইঞ্জিনে পাহাড় ঘোরার অভিজ্ঞতার জন্য তুলনামূলক বেশি খরচ করতে হবে।

পুরনো জয়রাইডও থাকছে

নতুন রুট চালু হলেও দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয় পুরনো জয়রাইড বন্ধ হচ্ছে না। দার্জিলিং স্টেশন থেকে বাতাসিয়া লুপ হয়ে ঘুম ঘুরে আবার দার্জিলিঙে ফেরার পরিচিত সফর আগের মতোই চলবে। ডিজেল ইঞ্জিনের এই জয়রাইডের ভাড়া হবে ৮০০ টাকা।

অর্থাৎ পর্যটকদের সামনে এবার থাকবে দুটি আলাদা অভিজ্ঞতা চেনা দার্জিলিং-ঘুমের পথ অথবা কার্শিয়ং-মহানদীর নতুন রুট।

পাহাড়ের রেলপথের ইতিহাসও কম আকর্ষণীয় নয়

দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেন পাহাড়ের ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৮৮১ সালের ৪ জুলাই শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক রেলপথ চালু হয়েছিল। আজও সেই পাহাড়ি পথে টয় ট্রেনের যাত্রা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

দূরপাল্লার টয় ট্রেন নিউ জলপাইগুড়ি থেকে যাত্রা শুরু করে শিলিগুড়ি জংশন, সুকনা, কার্শিয়ং ও ঘুম হয়ে দার্জিলিং পৌঁছয়। পুরো সফরে সময় লাগে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা। শুধু তাই নয়, টয় ট্রেনে জঙ্গল সাফারির ব্যবস্থাও রয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে তিনধারিয়া পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে আসে সেই ট্রেন। এই রাউন্ড ট্রিপে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা।

পুজোর ছুটিতে নতুন আকর্ষণ

পুজোর মৌসুমে পাহাড়ে বেড়ানোর পরিকল্পনা করা পর্যটকদের জন্য নতুন জয়রাইড নিঃসন্দেহে বাড়তি আকর্ষণ হতে চলেছে। বিশেষ করে যারা দার্জিলিংয়ের চেনা পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে গিয়ে পাহাড়কে একটু অন্যভাবে দেখতে চান, তাদের কাছে কার্শিয়ং-মহানদীর এই রেলযাত্রা হতে পারে নতুন অভিজ্ঞতা।