জলের ওপর ভাসে যে পোস্ট অফিস

মেসেজিং অ্যাপের এই যুগে চিঠি পাঠানোর চল অনেকটাই কমে এসেছে, তবে কিছু ডাকঘর এখনও নতুন নতুন গল্পের জন্ম দিয়ে চলেছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ডাল লেকের ওপর অবস্থিত এমনই এক ডাকঘর, যা শক্ত মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকার বদলে কাঠের হাউসবোটে সুন্দরভাবে ভেসে বেড়ায়। হিমালয়ের পর্বতমালা ও ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাউস বোট দিয়ে ঘেরা এই ডাকঘরটি বহু বছর ধরে স্থানীয়দের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও এক অনন্য আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। কাশ্মীর ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে এটি একটি আবশ্যক দর্শনীয় স্থান।

শ্রীনগরের ডাল লেকে অবস্থিত ভারতের এই একমাত্র ভাসমান ডাকঘরটি একটি ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাউসবোটে পরিচালিত হয়। পুরোনো একটি ভাসমান ইউনিটকে সরিয়ে ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর নতুন পথচলা শুরু হয়। সাধারণ ডাকসেবা দেওয়ার পাশাপাশি এটি এখন পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয় এক অভিজ্ঞতা।

ইন্ডিয়া পোস্টের অন্যান্য শাখার মতো এটি কাজ করলেও পর্যটকেরা এখানে বিশেষ কয়েকটি কারণে ছুটে আসেন:

  • ডাল লেকের ছবি সংবলিত বিশেষ সিলমোহরযুক্ত চিঠি ও পোস্টকার্ড পাঠানো।
  • স্মারক ডাকটিকিট ও পোস্টাল স্যুভেনির কেনা।
  • কাশ্মীরের ডাকসেবার ইতিহাস সম্পর্কে জানা।
  • ঐতিহ্যবাহী নৌকায় চলমান একটি ডাকঘরের ভেতরের পরিবেশ প্রত্যক্ষ করা।

এর কাঠের ইন্টেরিয়র এবং পুরোনো দিনের পরিবেশ আধুনিক যোগাযোগের যুগের বিপরীতে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা এনে দেয়।

যাত্রাপথের আনন্দ

এখানে যাওয়ার পুরো ভ্রমণটাই বেশ রোমাঞ্চকর। ডাল লেকের ওপর দিয়ে ঐতিহ্যবাহী নৌকা শিকারায় চড়ে এই যাত্রা শুরু হয়। যাওয়ার পথে চোখে পড়বে ভাসমান বাগান, রঙিন হাউসবোট, ছোট বাজার এবং জলের ওপর মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য শ্রীনগরের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

আশেপাশে আর যা দেখবেন

ভাসমান পোস্ট অফিস দেখার পাশাপাশি ডাল লেকের চারপাশের আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘুরে আসা সম্ভব। যেমন:

  • নিশাত বাগ
  • শালিমার বাগ
  • মুঘল গার্ডেন
  • ভাসমান সবজি বাজার
  • স্থানীয় হস্তশিল্পের দোকান

কখন যাবেন ও কীভাবে যাবেন?

শ্রীনগর ভ্রমণের জন্য এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাসকে সবচেয়ে ভালো সময় বলে মনে করা হয়। কারণ এ সময় আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে এবং শিকারায় ঘোরাঘুরির জন্য চমৎকার পরিবেশ তৈরি হয়। ডাল লেকের ঘাট থেকে শিকার ভাড়া করে সহজে এই পোস্ট অফিসে যাওয়া যায়। তবে পরিদর্শনের আগে স্থানীয়ভাবে খবরাখবর নিয়ে এর কাজের সময় জেনে নেওয়া ভালো।

সূত্র: এনডিটিভি